বোনারকে তুলে নেওয়ার আনন্দ সতীর্থদের সঙ্গে ভাগাভাগি করলেন তাইজুল
বোনারকে তুলে নেওয়ার আনন্দ সতীর্থদের সঙ্গে ভাগাভাগি করলেন তাইজুলছবি: শামসুল হক

মধ্যাহৃভোজন যদি বিস্বাদ লাগে তাহলে চা-বিরতির জলখাবার তেতো লাগবে বাংলাদেশ দলের। কাল জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠ ছাড়া মুমিনুল হকের দলকে চোখ রাঙাচ্ছিল হার! বাংলাদেশ যে আজ চা বিরতির আগ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট-ই ফেলতে পারেনি!

চা-বিরতির আগের ওভারে তবু একটা ‘হাফ-চান্স’ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের করার বলে এনক্রুমা বোনারকে স্টাম্পিংয়ের সুযোগটা নিতে পারেননি উইকেটরক্ষক লিটন দাস। এতে হারের শঙ্কা আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশ দলের।

জয়ের জন্য ৩৯৫ রানের লক্ষ্যে কাল ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিল। আজ পঞ্চম দিনে চা বিরতির আগ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে সফরকারী দলের উইকেটসংখ্যার কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা।

৩ উইকেটে ২৬৬ রান তুলে চা-বিরতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে উপভোগ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শেষ সেশনের শুরুতে দুটি উইকেট নিয়ে আবারও লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

চা বিরতির পর প্রথম ওভারেই বোনারকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ২৪৫ বলে ৮৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন অভিষিক্ত বোনার। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় মেয়ার্স–বোনারের ৪৪২ বলে ২১৬ রানের অবিশ্বাস্য জুটি। পাঁচ ওভার পর জার্মেইন ব্লাকউডকে বোল্ড আউট করেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২৯৩ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য আরও ১০২ রান দরকার সফরকারী দলের।

পঞ্চম ও শেষ দিনে চা বিরতির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা ও বৈচিত্রহীন আক্রমণ দেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। এক পেসার ও (সাকিব মাঠের বাইরে থাকায়) তিন স্পিনার মিলে টানা দুই সেশন কোনো উইকেট ফেলতে পারেনি।

default-image

প্রথম সেশনে ৮৭ রান তুলেছেন কাইল মেয়ার্স-বোনার জুটি। দ্বিতীয় সেশনে তারা আরেকটু সাবধানি ব্যাট করে তুলেছেন ৬৯। বোঝাই যাচ্ছিল, হাতে উইকেট থাকায় শেষ সেশনে জয় ছাড়া অন্য কোনো ভাবনা নিয়ে মাঠে নামবে না ক্রেগ ব্রাফেটের দল। কিন্তু শেষ সেশনে দ্রুত দুটি উইকেট হারিয়ে এখন বিপদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২৩৬ বলে ১২৮ রানে অপরাজিত থাকা কাইল মেয়ার্স বাংলাদেশের জয়ের পথে কাঁটা হয়ে আছেন।

অথচ, কাল চতুর্থ দিনের খেলা শেষেও জয়ের সম্ভাবনার নিক্তিতে প্রমাণ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আজ দিন গড়ানোর সঙ্গে সেই নিক্তি সমান হয়ে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ঝুঁকেছে। এটাই বুঝি টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য!

তবে এই সৌন্দর্যে বাংলাদেশের সমর্থকেরা প্রথম দুই সেশনে হতাশ হওয়ার উপলক্ষ্যই খুঁজে পাবেন বেশি। সকালের সেশনে দুটি ‘জীবন’ পাওয়া মায়ার্স তুলে নিয়েছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। পাল্টা লড়াই কাকে বলে তা দারুণ জুটিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন মেয়ার্স–বোনার।

টেস্ট ক্রিকেটে দুই অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানের জুটির হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তুলেছেন মেয়ার্স-বোনার।

১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করাচিতে প্রথম উইকেট জুটিতে ২৪৯ রান তুলেছিলেন পাকিস্তানের খালিদ আব্দুল্লাহ ও আব্দুল কাদির। চতুর্থ উইকেটে জমে যাওয়া মেয়ার্স-বোনার আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারলে এ রেকর্ডটিও টুপ করে খসে পড়ত।

default-image

দলে থাকলেও চোটের কারণে সাকিব আল হাসান রয়েছেন মাঠের বাইরে। চা-বিরতি শেষে বাংলাদেশ দল মাঠে নামার সময় মুমিনুলদের একত্রিত করে মন্ত্রণা দিয়েছেন সাকিব। তাঁর পরামর্শেই কি জ্বলে উঠল বাংলাদেশ দল? দুই সেশনের প্রায় বেশির ভাগ সময় তিন স্পিনারকে দিয়ে বল করিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন