তাঁদের জন্য এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তার পরও শ্রীলঙ্কা দলের কথা উঠলে সবার আগে ভেসে ওঠে ওই দুটি মুখই—কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। মেলবোর্ন ক্রিকেট মাঠে (এমসিজি) আগামীকাল বর্তমান রানার্সআপদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের আঁকা ছকের অনেকটা জুড়েও আছেন এই দুই ব্যাটসম্যান।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক তো গতকাল সাংবাদিকদের বলেই দিলেন, ‘তাদের শুরুতেই ফেরানোর চেষ্টা করব। ওদের দলে এই দুজন হলো সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাটসম্যান। তাদের থিতু হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’ শ্রীলঙ্কাকে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই দলের একটা মনে করেন স্ট্রিক। তাদের বিপক্ষে শুরুতেই উইকেট নেওয়াটাই তাঁর দৃষ্টিতে সাফল্যের চাবিকাঠি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশাল জয় দিয়ে শুরু। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও বৃষ্টির সৌজন্যে ১ পয়েন্ট পেয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের সামনে এখন শেষ আটে যাওয়ার হাতছানি। এই স্বপ্ন পূরণের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি হতে পারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা। ‘এই ম্যাচ থেকে আমাদের পাওয়ার অনেক কিছু আছে। শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ছেলেরা খুবই রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের শুভকামনা তাদের সঙ্গে আছে’—বলেছেন বাংলাদেশ দলের জিম্বাবুইয়ান পেস বোলিং কোচ।
এমসিজিতে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দেখে স্ট্রিকের মনে হয়েছে, এই উইকেটে ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে বল জোরে ছোটে। অস্ট্রেলিয়ার অন্য মাঠগুলোর চেয়ে এখানকার কন্ডিশন অন্য কারণেও একটু ভিন্ন। বড় মাঠ, বড় বাউন্ডারি। ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তিনি জরুরি মনে করছেন এসবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাকেও, ‘এখানে বাউন্ডারি পাওয়া কঠিন। কাজেই দু-তিন রানের দিকে জোর দিতে হবে। আর ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে দেখেছি, শেষের দিকে উইকেট হাতে রাখাটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।’ এমসিজির উইকেট নিয়ে শেষ কথাটাও বলে দিয়েছেন স্ট্রিকই—সবার জন্যই এখানে কিছু না কিছু আছে। ব্যাটসম্যানদের জন্য যেমন রান আছে, বোলাররাও চাইলে তুলে নিতে পারেন বাড়তি গতি।
কন্ডিশনের সঙ্গে অনভ্যস্ততা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এ পর্যন্ত নেতিবাচক কিছু পাননি স্ট্রিক। তাঁর অবশ্য এটাও মনে হচ্ছে যে, বিশ্বকাপের দুই সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প করায় অনভ্যস্ততা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে বললেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৪৫ কিমি গতিতে বল করেছে তাসকিন। বাংলাদেশের বোলারদের এ রকম বল করতে দেখে অভ্যস্ত নয় মানুষ। এ ছাড়া উইকেটে স্পিনারদের জন্যও কিছু আছে।’ বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচে বলে টার্ন করতে দেখে দলের স্পিনারদের খুশির কথাটাও জানালেন কোচ। আর বিগ ব্যাশে খেলা সাকিবের কথা তো বলেছেন আলাদা করেই, ‘সাকিবের বিগ ব্যাশে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগবে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার তো আছেই, সে তার জ্ঞানটাও ভাগ করতে পারছে দলের সঙ্গে। একজন সিনিয়র খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এ রকম সাহায্য পাওয়া বিরাট ব্যাপার।’
পেস বোলিং কোচ কথা বলছেন আর পেসার আল আমিনের দেশে ফিরে যাওয়া নিয়ে কথা হবে না, তা তো হয় না! হিথ স্ট্রিক স্বীকার করলেন, আল আমিনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায় নিয়ে দেশে ফিরে যেতে হওয়ায় দলের সবারই মন খারাপ। তিনি নিজেও তাঁর অভাব বোধ করবেন, ‘বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে হোসেনের (আল আমিন) রেকর্ড ভালো। আমরা সেটা মিস করব...।’ তবে স্ট্রিক আস্থা রাখছেন আল আমিনের জায়গায় মেলবোর্নে উড়ে যাওয়া আরেক পেসার শফিউল ইসলামের ওপরও, ‘শফিউল অনেক অভিজ্ঞ বোলার এবং অনেক দিন ধরেই সে ড্রেসিংরুমের অংশ। আমাদের দৃষ্টি এখন সামনের ম্যাচগুলোর দিকে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন