চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিল্ডিংয়ের সময় এ চোট পান বাংলাদেশ অলরাউন্ডার।

ইবাদত হোসেনের বলে কাট করেছিলেন সারেল এরউয়ি, যেটিতে ক্যাচ উঠেছিল। তবে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা মিরাজ সেটি খেয়ালই করেননি কোনো এক কারণে। বল গিয়ে সরাসরি লাগে তাঁর বুকের কাছে, সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে যান মিরাজ। ফিজিওর পর আসে মেডিকেল টিমও। মিরাজকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় স্ট্রেচারে করে।

পরে টেলিভিশনে দেখা গেছে, বুকের কাছে কালো হয়ে গেছে মিরাজের। পরে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ড্রেসিংরুমেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে মিরাজকে। আপাতত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।

ব্যথায় কাতরাচ্ছেন মিরাজ
ছবি: এএফপি

এর আগে মধ্যাহ্নবিরতির পর শেষ ৩ উইকেট হারাতে ৪.২ ওভার লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে তাঁরা গুটিয়ে গেছে ২১৭ রানেই। প্রথম ইনিংসে ফলো-অনে পড়েছে বাংলাদেশ, যদিও আবার ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে এখনো বাকি ৭ সেশনেরও বেশি।

দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ২ ওভার উইকেটশূন্য কাটানোর পর ১৪ বলের ব্যবধানে শেষ ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন ক্যাচ তুলেছেন সাইমন হারমারের বলে, মেহেদী হাসান মিরাজ শিকার কেশব মহারাজের। হারমার শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেট নিলেন ৩৯ রানে।

আপাতত ড্রেসিং রুমেই চিকিৎসা দেওয়া হবে মিরাজকে
ছবি: এএফপি

এর আগে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সকালের শুরুটা দারুণ ছিল তাঁদের, মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলীর সৌজন্যে প্রথম ঘণ্টা ছিল উইকেটশূন্য। তাঁদের জুটি ভাঙে মহারাজকে ইয়াসির ফিরতি ক্যাচ দিলে। ১ বল আগে তাঁর বিপক্ষে রিভিউ নিয়ে সেটি হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ইয়াসির থামেন অর্ধশতকের আগেই, মুশফিকের সঙ্গে তাঁর জুটিতে ওঠে ৭০ রান।

মুশফিক অবশ্য ‘আত্মহত্যা’ই করেন। বেশ ছন্দে ছিলেন, পেয়ে যান অর্ধশতকও। তবে মহারাজের ফুল লেংথের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বলের নাগাল পাননি মুশফিক। মধ্যাহ্ন বিরতির মিনিট পাঁচেক আগে ফিরেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবধান কমাতে বাংলাদেশের শেষ ভরসা ছিলেন মুশফিক, তাঁর অমন অবিবেচক শটের পর বাংলাদেশও টেকেনি বেশিক্ষণ।

মুশফিক অবশ্য আউট হতে পারতেন আগের বলেই। এলবিডব্লুর আবেদন নাকচ করেছিলেন আম্পায়ার, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা তাঁদের তিনটি রিভিউ-ই হারিয়ে ফেলেছিল আগেই। তবে বল ট্র্যাকিং দেখিয়েছে, মুশফিক আউটই হতেন।