ছক্কা মেরে নিজের গাড়ির কাচ ভাঙলেন ব্যাটসম্যান

ছক্কা মেরেও হতাশ ব্যাটসম্যান।
ছবি: টুইটার

শুরুতে ক্যাপশন লেখা না থাকলে ভিডিওটা দেখে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে বাধ্য। শর্ট লেংথে বল করেছেন বোলার। লেগ স্টাম্পের বাইরের সে বলে আয়েশ করে উড়িয়ে মারলেন ব্যাটসম্যান। বল উড়ে যাওয়ার পর বোলার বা ফিল্ডারের মধ্যে কোনো আনন্দ দেখা যায়নি, কিন্তু তবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন ব্যাটসম্যান।

বিভ্রান্তি আরেকটু বাড়িয়ে দিলেন আম্পায়ার। ওদিকে ব্যাটসম্যান মাথায় হাত দিয়ে উইকেটে বসে আছেন, ওদিকে আম্পায়ার ছক্কার ইঙ্গিত করছেন। ছক্কা দেখেও হাসছেন উইকেটকিপার। বোলারকে দেখে মনে হলো না, ছক্কা খেয়েও খুব একটা চিন্তিত। পুরো মাঠেই হাসির রোল পড়ে গেল, এমনকি আম্পায়ারের মুখেও হাসি!

অবশ্য না হেসেও উপায় নেই। অনেকটা কাউকে রাস্তায় কলার ছোকলায় হোঁচট খেতে দেখলে চাইলেও হাসি আটকাতে না পারার মতো ঘটনাই ঘটেছে। ছক্কা মেরে যে নিজের গাড়ির গ্লাস ভেঙে ফেলেছেন ব্যাটসম্যান।

এমনই এক মজার ঘটনা ঘটেছে হ্যালিফ্যাক্স ক্রিকেট লিগে। যুক্তরাজ্যের এই ক্রিকেট লিগের ইলিংয়োর্থ সেন্ট ম্যারির দ্বিতীয় একাদশ ক্লসলি শিল্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে সোয়ারবাই সেন্ট পিটারসের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচে ৩৬.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৭ রান করেছিল ইলিংয়োর্থ। স্ট্রাইকে ছিলেন ১৯ রানে ব্যাট করা আসিফ আলী। এ অবস্থায় লেগ স্টাম্পের বাইরে বল পেয়ে বিশাল এক ছক্কা মেরেছিলেন। কিন্তু সে ছক্কায় প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেরই বেশি ক্ষতি হয়েছে আলীর।

ছক্কা মারার আনন্দ বলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সে কারণে নিজের সর্বনাশ একদম ঘটা করেই দেখতে পেরেছেন। বিশাল সে ছক্কা পাশের পার্কিং লটে থাকা তাঁর ভক্সহল জাফিরা গাড়ির পেছনে গিয়ে আঘাত হানে। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে কাচ। দর্শক ও বাকি খেলোয়াড়দের তামাশার মধ্যেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন আলী।

হতাশা লুকাতে পারেননি আলী।
ছবি: টুইটার

ইলিংয়োর্থ ক্লাব সঙ্গে সঙ্গে সে ভিডিও টুইটারে ছেড়ে দিয়েছিল কাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে মজার মজার সব প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কেউ বলেছেন, তাঁকে বাড়তি ৫ রান দেওয়া উচিত। কেউবা এ ঘটনায় আম্পায়ারের প্রতিক্রিয়াতেই বেশি মজা পেয়েছেন! তবে সবচেয়ে মজার মন্তব্য পাওয়া গেছে ঘটনা চাক্ষুষ দেখা এক দর্শকের কাছ থেকে, ‘আসিফ, তোমার গাড়ির চাবি কি পেতে পারি যেন বলটা ফেরত আনা যায়?’

আসিফ আলী এই ঘটনায় প্রচণ্ড দুঃখ পেলেও ঘটনার হাস্যকর দিকটাও দেখতে পেয়েছেন। আর স্থানীয় গাড়ি মেরামত প্রতিষ্ঠান ক্লাবের স্পনসর হওয়াটা তাঁর কাজে লাগতেও পারে।

ম্যাচ থেকে আলী শুধু এতটুকুই হতাশা পেয়েছেন, এমন নয়। এক প্রান্তে ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন আলী। অন্য প্রান্তে টপাটপ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানে অলআউট হয়েছে ইলিংয়োর্থ। প্রতিপক্ষ মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে সে রান পেরিয়ে গেছে।