বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের বাকি গল্পটা কিন্তু আগের দুই ম্যাচের মতো ছিল না। দুই অলরাউন্ডার রায়ান বার্ল ও সিকান্দার রাজা ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মাত্র ৮০ বলে ১১২ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ে ইনিংসে যোগ করেন দখিনা হাওয়া।

বাংলাদেশ দলের জন্য তা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। দুজনের জোড়া ফিফটিতে জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৯.৩ ওভারে ২৯৮ রান করে আউট হয়। জিম্বাবুয়েকে সিরিজে ধবল ধোলাই করতে বাংলাদেশকে গড়তে হবে হারারেতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে হারারেতে ৩২৮ ও ৩০৪ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে।

default-image

ইনিংস শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ডে বড় রান দেখে সকালে অধিনায়ক তামিম ইকবালের টসে জিতে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। টসের সময় তামিম বলেছিলেন, ‘উইকেট ভালো কিন্তু সকালের এক ঘণ্টার সুবিধাটা নিতে চাই।’ সুবিধা নিতে দরকার ছিল বোলারের। আঙুলে চোটের কারণে মেহেদী হাসান মিরাজকে আজ খেলাতে পারেনি বাংলাদেশ।

তাঁর জায়গায় একজন বোলার দলে নেওয়ার সুযোগ ছিল। তা না করে বাংলাদেশ সুযোগ দেয় নুরুল হাসানকে, যিনি সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০১৬ সালে। চোট থেকে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান খেলেছেন গত ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়া শরীফুল ইসলামের জায়গায়। সঙ্গে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

পেসারদের কাছে ভালো শুরুর আশা ছিল তামিমের, সেটা তাঁরা দিতে পারেননি। জিম্বাবুয়ে চাকাভার ব্যাটে উল্টো পেয়ে যায় দারুণ সূচনা। জুটি ভাঙতে তামিমকে আনতে হয় আক্রমণে সবচেয়ে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানকে।

চাকাভার সঙ্গী তাদিওয়ানশে মারুমানি ৮ রানে বিদায় করে জিম্বাবুয়ের এগিয়ে যাওয়ায় লাগাম টানেন সাকিব। সেটাও বেশিক্ষণের জন্য নয়। চাকাভা ও অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর মিলে মাঝের ওভারে রানের গতি বাড়ানোর সময় মিরাজের মতো একজন মূল বোলারের অভাব বোধ করেছে বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহ অবশ্য পরে সে অভাবটা পুষিয়েছেন টেলর ও ডিওন মায়ার্সের উইকেট নিয়ে। শেষ পর্যন্ত এতই ভালো বোলিং করেন যে অধিনায়ক নির্দ্বিধায় ১০ ওভার বল করান মাহমুদউল্লাহকে দিয়ে! হতাশও করেননি, ৪৫ রানে নিয়েছে ২টি উইকেট।

মাহমুদউল্লাহ ম্যাজিকের পর আড়মোড়া ভাঙেন মোস্তাফিজ। ওয়েসলি মাধেভারেকে চেনা কাটারে আউট করে দাপুটে স্পেলের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনি। আরেক প্রান্ত থেকে তাসকিনও মাঝের ওভারে তেতে উঠছিলেন আগুনে বোলিংয়ে। উপহারও পেয়েছেন।

default-image

চাকাভা ব্যক্তিগত ৮৪ রানের সময় সোজা ব্যাটের বল আড়াআড়িভাবে খেলে হন বোল্ড। এরপর যখন বাংলাদেশের দাপট দেখানোর কথা, তখন পাল্টা দাপট দেখায় জিম্বাবুয়ে। দুই অলরাউন্ডার বার্ল ও রাজার চার-ছক্কায় ম্যাচের চেহারা যায় পাল্টে। দুজনের ফিফটি ও ১১২ রানের জুটিকে সাহায্য করেছে বাংলাদেশের ছন্নছাড়া ‘ডেথ বোলিং’। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি বোলাররা অতিরিক্ত রানই যে দিয়েছে ২০ রান! এর কল্যাণে তিন শ ছুঁইছুঁই স্কোর পেয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দিনটা ভুলে যেতে চাইবেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৮ ওভারে তিনি রান দিয়েছেন ৮৮, যে ৩টি উইকেট নিয়েছেন সব কটি এসেছে তাঁর স্পেলের শেষ ওভারে। ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজও। তবে ৯.৩ বল করে ৫৭ রান গুনতে হয়েছে তাঁকেও।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন