পাল্লেকেলে টেস্টে আজ তৃতীয় দিনে লাঞ্চের আগে দারুণ ব্যাট করেন তামিম ইকবাল।
পাল্লেকেলে টেস্টে আজ তৃতীয় দিনে লাঞ্চের আগে দারুণ ব্যাট করেন তামিম ইকবাল।ছবি: টুইটার

তামিম ইকবালের রান বের করার পথ বন্ধ করে তাঁকে আউট করতে চেয়েছিলেন দিমুথ করুণারত্নে। রানের পথ বন্ধ করতে পারলে তামিমের ভুলের সম্ভাবনা বাড়বে—এই ছিল শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের কৌশল।

পাল্লেকেলে টেস্টে আজ তৃতীয় দিন সকালের সেশন শেষে তামিমকে আউট করতে করুণারত্নে নিশ্চয়ই অন্য পথ খুঁজছেন। তবে তামিমকে আউট করতে না পারলেও ঠিকই অন্য প্রান্ত থেকে উইকেট তুলে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক।

তামিমের রান বের করা পথ বন্ধ করতে পারেননি করুণারত্নে। উল্টো দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে দ্রুত রান বের করার ধারাটা বজায় রেখেছেন বাংলাদেশ ওপেনার। আজ সকালে ৩.৩ ওভার ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা।

এরপর ২৭ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটে ৯৯ রান তুলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। এর মধ্যে তামিমের একার অবদানই ৯৬ বলে ৭০।

বিজ্ঞাপন

সাইফ ৬২ বলে ২৫ রান করে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির একটু আগে ক্যাচ দেন স্লিপে। তিনে নামা নাজমুল (০) হোসেন স্লিপেই ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগের বলে। অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিসের বাঁক সামলাতে না পেরে ক্যাচ দেন তিনি। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থেকে এখনো ৩৯৪ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

এই সিরিজে আগের টেস্টে দুই ইনিংসে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি জমেনি। দ্রুতই ফিরে গেছেন তরুণ ওপেনার সাইফ। আজ তামিমকে আউট হওয়ার পর্যন্ত ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। আউট হওয়ার আগে তামিমের সঙ্গে ৯৮ রানের জুটি গড়েন সাইফ। তবে চোখজুড়ানো ব্যাট করেছেন তামিম। ৫৭ বলে যখন ফিফটি তুলে নেন বাংলাদেশের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৬১।

দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে করুণারত্নে বলেছিলেন, শুরুতে পেসার, এরপর স্পিনারদের এনে তামিমের রানের চাকা আটকে তাঁকে চাপে ফেলে আউট করতে চান। লঙ্কান দলপতি আজ সে পথে হাঁটলেও কাজ হয়নি। ভালো বল দেখে খেলার পাশাপাশি স্পিনারদের বিপক্ষে দারুণ পায়ের কাজ দেখিয়েছেন তামিম। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বেশ কয়েকবার তুলে মারতেও দ্বিধা করেননি।

করুণারত্নের আন্দাজমতোই আজ উইকেটে বাঁক পাচ্ছেন স্পিনাররা। বাঁহাতি স্পিনার প্রবীণ জয়াবিক্রমার তেমন এক বাঁকই সামলাতে না পেরে স্লিপে ক্যাচ দেন সাইফ। অন্য প্রান্তে খেলছেন তাঁর মতো করে।

পেসার সুরঙ্গা লাকমলকে অফসাইডে দর্শনীয় কিছু ড্রাইভ খেলেছেন। দুই স্পিনার রমেশ মেন্ডিস ও জয়াবিক্রমের বিপক্ষে একটু বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। সুইপ, ডাউন দ্য উইকেট, ইনসাইড আউট, কাট ও ড্রাইভ খেলেছেন নির্দ্বিধায়। এ নিয়ে টেস্টে টানা চার ইনিংসে ফিফটির দেখা পেলেন তামিম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের শেষ ইনিংসে ৪৬ বলে ৫০ রান করেন তিনি। সেই ছন্দ ধরে রেখেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজেও। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা পাঁচ ইনিংসে তামিমের স্কোর ছিল—৮৫, ৫২, ৫৫, ১০৩ ও ১০৮।

তামিমের কাছ থেকে আজ বড় ইনিংস দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। উইকেটের আচরণ যদিও স্পিনারদের পক্ষে। সাইফ ও নাজমুল তারই শিকার—বলের বাঁক ব্যাটে খেলতে পারেননি। কিন্তু তামিমকে এখনো নড়বড়ে দেখা যায়নি। এই টেস্টে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করতে তামিমের উইকেটে থাকার বিকল্প নেই। মধ্যাহ্নভোজ বিরতির আগে ১১টি চার মারেন তামিম।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন