বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আইপিএলে এ মৌসুমে তারকা হয়ে উঠেছেন অনেক তরুণ খেলোয়াড়ই। উমরান মালিক তাঁদের মধ্যেও ব্যতিক্রম। মাত্র দুই ম্যাচ খেলার পরই অনেকে তাঁকে ভারত জাতীয় দলে দেখার দাবি তুলেছেন। না, একজন ভারতীয়কে ঘণ্টায় দেড় শ কিলোমিটার গতিতে বল করতে দেখে উত্তেজিত হয়ে টুইটারে সমর্থকদের এমন আহ্বান নয়। হরভজন সিং, ইরফান পাঠান, মাইকেল ভন, কেভিন পিটারসেন—বাদ যাননি কেউ। উমরানের কোচের ভূমিকায় আছেন ডেল স্টেইন। দিন দিন ছাত্রের উন্নতিতে মুগ্ধ সাবেক ফাস্ট বোলার।

উমরান যখন আইপিএলে ঝড় তুলছেন পুনে ও মুম্বাইয়ের স্টেডিয়ামে, তাঁর বাবা আবদুল রশিদ জম্মু কাশ্মীরের গুজরনগরে দোকানে ব্যস্ত। দোকানদারির চিরায়ত সমস্যা ইদানীং অবশ্য তাঁকে পোহাতে হয় না। কেউ দর-কষাকষি করলেও কেনাকাটা শেষে ফাউ কিছু দাবি করেন না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে আবদুল রশিদ বলছিলেন, ‘এখন আর বাড়তি মরিচ বা ধনেপাতা চায় না ওরা। দাম নিয়ে দরাদরি করে না।’ আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির পেসার এখন উমরান। তাঁর বাবার এটুকু সুবিধা তো প্রাপ্য।

আবদুল রশিদের তাই গর্ব হয়। পুত্রগর্বে গর্বিত পিতা নিজেকে নিয়েও গর্ব করেন। সে কারণেই ছেলে চার কোটি রুপির আইপিএলের চুক্তি পাওয়ার পরও এখনো নিজের পেশা ধরে রেখেছেন, ‘এই দোকান দিয়ে আমার পরিবারের মানুষদের পাতে খাবার তুলে দিয়েছি। হ্যাঁ, আমার ছেলেকে এখন দেশের প্রতিটি প্রান্ত চেনে। এর মানে এই না যে আমি কাজ করা ছেড়ে দেব।’ ছেলে যেন ভালো করেন, সেটা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রার্থনা করেন। এই রমজানে তাই দিনে ১০ বার (ছেলের জন্য পাঁচবার) নামাজও পড়ছেন।

আইপিএলে ৬ ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট পেয়েছেন উমরান। কালই প্রথম ম্যাচসেরা হয়েছেন, তবে ম্যাচ শেষে কোনো পুরস্কার বুঝে নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন এর মধ্যেই।

default-image

টানা ৬ ম্যাচেই যে ম্যাচের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলারের এক লাখ রুপির পুরস্কার বুঝে নিয়েছেন। প্রায় প্রতি ম্যাচেই দেড় শ কিলোমিটারের বেশ গতিতে বল ছিল তাঁর। অধিকাংশ ম্যাচেই প্রতিপক্ষ কোনো পেসার গতিতে তাঁর ধারেকাছে যেতে পারেননি।

শুধু এক ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। গুজরাট টাইটানসের হয়ে যেদিন লকি ফার্গুসন নেমেছিলেন মাঠে। কিন্তু গতির লড়াইয়ে কিউই ফাস্ট বোলারও হার মেনেছিলেন। দিনের সবচেয়ে দ্রুততম পাঁচটি বলই ছিল মালিকের, যার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততমটি ১৫৩.৩ কিলোমিটার গতির। টানা দেড় শ কিলোমিটার গতিতে তাঁর এমন বল করতে পারার ক্ষমতা সমর্থক-বিশ্লেষকদের একাকার করে দিচ্ছে। পাঁচ বছর আগেও ক্রিকেট বলে না খেলা এক পেসারকে ভারত দলে ডেকে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

default-image

মালিকের প্রথম কোচ রানধির সিং মানহাসের ধারণা, ভবিষ্যতে আরও জোরে বল করবেন মালিক, ‘মাত্র পাঁচ বছর আগে চামড়ার বলে বোলিং শুরু করেছে এমন কারও ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা বড় অর্জন। ভবিষ্যতে এর চেয়েও দ্রুত গতিতে বল করবে সে।’

মানহাসের কাছে প্রাথমিক পাঠ নিয়ে এখন ডেল স্টেইনের সঙ্গে কাজ করছেন উমরান। গত এক দশকের সেরা ফাস্ট বোলারের অধীনে শিষ্যের উন্নতি, এতে কোনো সন্দেহ নেই মাওলানা আজাদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের এই কোচের, ‘সে এখন সানরাইজার্স হায়দরাবাদে ডেইল স্টেইনের সঙ্গে কাজ করছে। গ্রেট স্টেইনের চেয়ে আর ভালো কেউ আছে তাকে শেখানোর জন্য?’

আবদুল রশিদ অত ভাবেন না। তাঁর এখন একটাই আশা, ছেলে ভারতের হয়ে খেলুক, ‘সে এখন ভারতের ছেলে। আল্লাহ চাইলে, ভবিষ্যতে সে ভারতের নাম উজ্জ্বল করবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন