কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে কীর্তি গড়ার পর সিরাজ।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে কীর্তি গড়ার পর সিরাজ। ছবি : আইপিএল

একটা অজানা শঙ্কা নিয়ে গত বুধবার আইপিএলে খেলতে নেমেছিলেন মোহাম্মদ সিরাজ। ম্যাচ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা করছিলেন না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পেসার। মনের মধ্যে শঙ্কাটা চেপে বসেছিল বাবা মোহাম্মদ গাউসকে নিয়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের একদিন আগে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় সিরাজের অটোরিকশা চালক বাবার।

দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে বাবাকে রাখলেও ভয়টা কিছুতেই কাটছিল না সিরাজের। কিন্তু সিরাজের অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সে যেন অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেলেন বাবা। খেলা শেষ হওয়ার জানা গেল হাসপাতাল থেকে ফিরে বাড়িতে ফিরে গেছেন সিরাজের বাবা।

বিজ্ঞাপন

সেদিন স্বপ্নের মতো বোলিং করেছেন সিরাজ। প্রথম স্পেলে ২ ওভারে ২ মেডেন দিয়ে তুলে নেন বেঙ্গালুরুর গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। কলকাতার দুজন ডান হাতি ওপেনার দেখে সেদিন দ্বিতীয় ওভারে স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরকে বোলিংয়ে আনেননি বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। নতুন বলে সিরাজের ওপর আস্থা রেখেছেন। প্রতিদান দিতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি এই পেসার। দ্রুতই কলকাতার ওপেনার রাহুল ত্রিপাঠি, নিতীশ রানা ও টম বেন্টনকে আউট করেন। এই ম্যাচে একটা কীর্তিও গড়েন সিরাজ। আইপিএলের ১৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো পেসার টানা দুই ওভারে মেডেন নিয়েছেন। ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৮ রান।। তাঁর কারণেই ২০ ওভারে মাত্র ৮৪ রান করেছে কলকাতা। শেষ পর্যন্ত কলকাতাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দেয় বেঙ্গালুরু।

ম্যাচের পরও খুশির খবর অপেক্ষা করছিল সিরাজের জন্য। দ্রুতই বাবার শরীরের অবস্থা জানার জন্য দুবাই থেকে বাড়িতে ফোন দেন সিরাজ। এরপর পেয়ে যান আনন্দের খবর, ‘ম্যাচের একদিন আগে বাবা হাসপাতালে ভর্তি হন। এ জন্য আমি খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম। যাই হোক, এরপর যখন ম্যাচ শেষে আমি বাড়িতে ফোন দিই, তখন শুনতে পাই বাবা বাড়ি চলে এসেছেন। কথাটা শুনে সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। কলকাতাকে হারানোর পর আরেকটা আনন্দের খবর শুনে আমি আরও বেশি খুশি হয়েছিলাম।’

default-image

সিরাজের কীর্তির খবর ছবিসহ সেদিন ছাপা হয় হায়দরাবাদের সব পত্রিকায়। বাবার কাছে এই খুশির খবরও পান সিরাজ, ‘বাবা ফোনে আনন্দের সঙ্গে আমাকে বলছিলেন, আজ সারা দিন প্রচুর মানুষ তাকে ফোন করেছে। শুভেচ্ছা জানিয়েছে। বলেছে, তোমার ছেলে তো আইপিএলে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। হায়দরাবাদের সব পত্রিকায় তোমার ছবিও এসেছে।’

২০১৭ সালের নিলামে স্থানীয় পেসার সিরাজকে ২ কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় রুপিতে কিনে নেয় সানরাইজ হায়দরাবাদ। ওই সময় পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল, ‘গরিব অটোরিকশা চালকের পরিবার থেকে উঠে আসা এক পেসারের গল্প।’ এতটা তারকা খ্যাতি পেয়েও পুরোনো কষ্টের দিনগুলো ভুলতে পারেননি সিরাজ। বাবার কাছ থেকে দৈনিক মাত্র ৭০ রুপি হাতখরচ নিতেন অনুশীলনে যাওয়ার সময়, ‘বাবা আমাকে প্রতিদিন ৭০ রুপি দিতেন হাত খরচার জন্য। যাতে এটা দিয়ে আমি অনুশীলন ও ম্যাচ খেলতে পারি। তিনি যা উপার্জন করতেন সেটা থেকে এই অর্থ আমার জন্য ছিল অনেক। ওই ৬০-৭০ রুপি আমি স্কুটির পেট্রল কেনার জন্য খরচ করে ফেলতাম। কারণ ওটাই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। জানতাম কোন জায়গা থেকে আমি উঠে এসেছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0