কটরেলকে আরেকটা ছক্কা মারছেন তেওয়াতিয়া।
কটরেলকে আরেকটা ছক্কা মারছেন তেওয়াতিয়া। ছবি: আইপিএল

গতকাল পর্যন্ত রাহুল তেওয়াতিয়ার নাম কজন জানত? স্টিভ স্মিথ আউট হওয়ার পর রবিন উথাপ্পাকে না নামিয়ে তাঁকে নামানোয় তো চোখ কপালে ওঠার দশা সবার। ২২৪ রানের লক্ষ্যে নামা এক দলের হয়ে প্রথম ১৩ বলে ৫ রান তুলে তো রীতিমতো খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন তেওয়াতিয়া। সেই তেওয়াতিয়াই ম্যাচের নায়ক বনে গেলেন দুই ওভারে।

এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। না, তেওয়াতিয়ার ক্ষেত্রে এটা বলার উপায় নেই। বরং বলা ভালো—এলেন, ‘ভুগলেন’ আর জয় করলেন। প্রথম ২৩ বলে এমন এক ইনিংস খেললেন যা দেখে রাজস্থান রয়্যালসের টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছিল। সেই তেওয়াতিয়া এক ওভারে পাঁচ ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করে দিলেন এক লহমায়। যা দেখে যুবরাজ সিং উল্টো স্বস্তি জানালেন, যাক একটা ছক্কা তো কম মেরেছে তেওয়াতিয়া!

কাল ক্রিকেটের চরম নাটকীয়তাই দেখল শারজা। ছোট মাঠ বলে বল ছুটলেই সীমানা পার হচ্ছিল। তবু একপর্যায়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের জয়টাই সম্ভাব্য ফল বলে মনে হচ্ছিল। রাজস্থানকে ম্যাচে রাখা সঞ্জু স্যামসন ফিরেছেন ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই। ৪২ বলে ৮৫ রান করে স্যামসন যখন ফিরছেন, ২৩ বলে ৬৩ রান দরকার ছিল রাজস্থান রয়্যালসের। তেওয়াতিয়া তখন ২১ বলে ১৪ রান ধুঁকছেন। নেমেই দুটি চার মেরে উথাপ্পা যেন একটু আগে ওঠা প্রশ্নটার সুর আরও জোরালো করলেন, তেওয়াতিয়া কেন আগে নামলেন?

default-image
বিজ্ঞাপন

গল্পের সুর বদলেছে ১৮তম ওভারে। ১৮ বলে দরকার ৫১ রান। আগের দুই ম্যাচে দারুণ বল করা শেলডন কটরেল গতকালও ছিলেন ছন্দে। এই মাঠেও প্রথম স্পেলে দুই ওভার বল করে মাত্র ১২ রান দিয়েছেন, পেয়েছেন এক উইকেট। কিন্তু ১৮তম ওভারে কটরেলের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। প্রথম বলটা বাউন্সার ছিল, সেটা আছড়ে পড়ল লং লেগে। দ্বিতীয় বলটা গেল স্কয়ার লেগ দিয়ে। তৃতীয় বলটা উড়ল লং অফ দিয়ে। এবার নড়েচড়ে বসল পাঞ্জাব, ছোটখাটো একটা মিটিংও হলো মাঠে।

কিন্তু লাভ হলো না কোনো। চতুর্থ বলে জায়গা করে নিয়ে তেওয়াতিয়া বল পাঠালেন মিড উইকেট দিয়ে। ষষ্ঠ বলটাও গেল ওইদিকে। এর মাঝে পঞ্চম বলটা কীভাবে যেন হাত ফসকে গেল তেওয়াতিয়ার। অফ সাইডে বেশ বাইরের বলটা লাইন গিয়ে খেলতে পারেননি। আর এতেই ছয় বলেই ছক্কা মারার কীর্তিটা হলো না ২৭ বছর বয়সীর। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম এ কীর্তি গড়া যুবরাজ সিং তাই মজা করেছেন টুইটে, ‘একটা বল মিস করায় ধন্যবাদ, রাহুল তেওয়াতিয়া ভাই। কী অসাধারণ একটা খেলা হলো।দুর্দান্ত এক জয়ে রাজস্থানকে অভিনন্দন। মায়াঙ্ক অসাধারণ ইনিংস খেলেছ, স্যামসন দুর্দান্ত!’

পরের ওভারে আরেক ছক্কায় মাত্র ৩০ বলে ৫০ পেয়ে গেছেন তেওয়াতিয়া। একটু আগেই যার রান ছিল ১৯ বলে ৮! শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে না পারলেও দলের অনায়াস জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে ততক্ষণে। ২২৩ রান রাজস্থান টপকে গেছে ৩ বল হাতে রেখেই। নিজের ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে বাজে ২০ বল’ খেলেও আত্মবিশ্বাস হারাননি তেওয়াতিয়া, ‘ডাগ আউট জানত আমি জোরে মারতে পারি। আমি জানতাম নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। শুধু একটা ছক্কার অপেক্ষা ছিল। পাঁচটা(ছক্কা) এক ওভারে, এটা অসাধারণ। আমি ওদের লেগ স্পিনারকে মারতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। তাই অন্য বোলারদের মারতে হয়েছে।’

মন্তব্য পড়ুন 0