অভিনন্দন জানাতে একে একে সতীর্থরা হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন রঙ্গনা হেরাথের দিকে। ঠিক চার বছর আগে এমন ছবিই দেখা গিয়েছিল কলম্বোর প্রেমাদাসায়। ১৯ মার্চ তাঁর জন্মদিন। শুভ দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে দল জিতেছে, ১২ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচের নায়ক—অভিনন্দন আর শুভেচ্ছাবৃষ্টিতে তো ভেজারই কথা হেরাথের।
মিলটা দেখুন, কালও সেই ১৯ মার্চ! প্রেমাদাসায় হেরাথের কাছে চার বছর আগের দিনটা যদি হয় উৎসবময়, কাল পি সারা ওভালে সেটিই ছিল বিষাদে ভরা। টেস্টে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কাছে হারে নিশ্চয়ই ফিকে হয়েছে জন্মদিনের আনন্দ। তবে সংবাদ সম্মেলনে আবেগকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক, ‘আগেই বলেছিলাম এটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে। দুই দলই সমান শক্তির। গলে পাঁচ শর কাছাকাছি রান (প্রথম ইনিংসে) করায় আমাদের ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখানে সেটির পুনরাবৃত্তি করতে পারিনি। যে দল ভালো খেলেছে তারাই জিতেছে।’
টেস্টে ২০০-এর চেয়ে কম রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে দুবার বেঁধে ফেলার রেকর্ড আছে শ্রীলঙ্কার। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে গলে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৫০ রানে। ২০১৫ সালের আগস্টে একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে জিতেছে ৬৩ রানে। তবে কাল বাংলাদেশকে ১৯১ রানের লক্ষ্য দিয়ে পারেনি শ্রীলঙ্কা। হেরাথ বললেন, দ্বিতীয় সেশনটাই বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট, ‘মনে হয়েছে ওদের আটকাতে পারতাম। তিন স্পিনার নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবারও পারব। দ্রুত ২ উইকেট তুলেও নিয়েছিলাম। তবে লাঞ্চের পর তারা আক্রমণাত্মক খেলেছে, আমাদের কাছ থেকে ম্যাচটা কেড়ে নিয়েছে।’
টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের প্রায় সব লড়াই হয়েছে একতরফা। এবার প্রথমবারের মতো তারা হেরেছে বাংলাদেশের কাছে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম হার হেরাথেরও। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতা হেরাথের কাছে নতুন নয়, ‘খেলায় চড়াই-উতরাই থাকবে। আমি শ্রীলঙ্কার দুটি বিশ্বকাপ দলে ছিলাম। দুবার আমরা ফাইনালে গিয়েও হেরেছি। এটা খেলারই অংশ।’
গত অক্টোবরে দেশের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এবার প্রতিপক্ষের মাঠে জয়—বাংলাদেশের উন্নতিতে মুগ্ধ শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক, ‘তারা অনেক উন্নতি করেছে। আগে তারা জুটি গড়লে চাপটা ভালোভাবে নিতে পারত না। এখন তারা আমাদের পরিকল্পনার পাল্টা জবাব দিতে পারে। বুদ্ধি খাটিয়ে খেলে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন