জাতীয় লিগে খেলা ক্রিকেটারদের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে
জাতীয় লিগে খেলা ক্রিকেটারদের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসেবিসিবি

জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগের ট্রেনার মুনির দলের সঙ্গে যখন যোগ দেন, তখনই ছিলেন অসুস্থ। কিন্তু করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পাওয়ায় তিনি দলের সঙ্গে মিশেছেন। ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করেছেন। সব সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। খুলনা বিভাগের বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচের তিন দিন পর অসুস্থ হন সিলেট দলের পেসার ইবাদত হোসেন। পরে জানা যায় করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ এই টেস্ট পেসার।

default-image


এরপর একে একে করোনা পজিটিভ হন সিলেট বিভাগের ক্রিকেটার খালেদ আহমেদ, অলক কপালি, রেজাউর রহমান, ইমতিয়াজ হোসেন, তৌফিক খান। এদের প্রত্যেকেই খেলেছেন খুলনার বিপক্ষে, প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে। গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন। করোনা ধরা পড়ায় প্রত্যেকেই এখন আছেন আইসোলেশনে। যাদের করোনা নেগেটিভ এসেছে তারাই আজ কক্সবাজারের মাঠে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে খেলেছেন।

বিজ্ঞাপন


শুধু সিলেট নয়, রংপুর বিভাগ আজ খুলনার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে নেমেছে অধিনায়ক আকবর আলীকে ছাড়া। করোনা ধরা পড়ায় তিনি এখন আইসোলেশনে আছেন। দলের আরও দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম ও আলাউদ্দিন বাবুও করোনা পজিটিভ। প্রথম রাউন্ডে খেললেও এখন এই তিনজন আছেন আইসোলেশনে। একই কারণে গত জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন খুলনা পাচ্ছে না ইমরানুজ্জামানকে। ঢাকা মহানগরের কোচ ওয়াহিদুল গনিও করোনা পজিটিভ।
গতকাল করোনা ধরা পড়ে বরিশাল বিভাগের হয়ে খেলা মোহাম্মদ আশরাফুলের। পরে দ্বিতীয় পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ হন তিনি। অবশ্য ফল দেরিতে পাওয়ায় আজ রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে বিকেএসপির মাঠে খেলতে পারেননি আশরাফুল। এ ছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগে করোনা পজিটিভ হন টেস্ট ওপেনার সাদমান হোসেন। মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলামেরও করোনা পজিটিভ এসেছিল। কিন্তু পরে আবার নেগেটিভ আসায় প্রথম রাউন্ডে খেলেন দুজন।


আট দলের জাতীয় লিগ জৈব সুরক্ষা বলয়ে হলেও সেখানে এভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রশ্নবিদ্ধ পুরো প্রক্রিয়া। বিশেষ করে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে সফর করার সময় যথেষ্ট সতর্কতা মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না। এক অভিজ্ঞ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘দল আসা যাওয়ার সময় তো বলয় থাকছে না। এ ছাড়া বাকি সময়টা সবাই নিয়ম মানছে। ক্রিকেটাররা এতদিন বসে ছিল। এখন খেলতে পারছে। ওরা যে কোনো মূল্যে খেলতে চায়। টুর্নামেন্টটা চালু রাখতে চায়। তাই সবাই সতর্ক।’

default-image


বিসিবি এর আগে তিন দল ও পাঁচ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে জৈব সুরক্ষা বলয়ে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও আয়ারল্যান্ড উলভস সিরিজ আয়োজন করেছে। কিন্তু জাতীয় লিগের চ্যালেঞ্জটা বেশি। আট দলের করোনা ব্যবস্থাপনা সহজ না। তবে বিসিবি চিকিৎসক মনজুর হোসাইন চৌধুরী দাবি করেছেন, ‘আমরা যেভাবে আগে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি, এখানেও সেভাবেই করছি।’ তাঁর কথা,  ‘দুই-একটি ঘটনা তো থাকবেই। আমাদের এভাবেই মানিয়ে নিতে হবে।’
দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনের খেলা শেষ হলো আজ। এর মধ্যেই করোনা পজিটিভের সংখ্যা ১০ ছাড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনে সংখ্যাটা কথায় গিয়ে ঠেকে সেটাই দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন