বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হিসাব না মেলাতে পারার ব্যর্থতাতেই এ হার। লিটন দাস ৪৩ বলে ৪৪ রানে করে ফর্মে ফিরেছিলেন। মাহমুদউল্লাহ করলেন ২৪ বলে ৩১। ম্যাচের পেন্ডুলাম হেলেছে দুই দলের দিকেই। একবার মনে হয়েছে বাংলাদেশ জিতবে, পরক্ষণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। লিটন আর মাহমুদউল্লাহ যখন ব্যাটিং করছিলেন তখন মনে হয়েছে এ দুজন শেষ পর্যন্ত টিকে গেলেই বাংলাদেশ ম্যাচটা বের করে নেবে। কিন্তু লিটন এমন একটা সময় আউট হলেন, যখন তাঁকেই বড় বেশি প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। ১৯তম ওভারে শেষ বলে লিটন যখন ফেরেন, তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ১৩ রান। লিটন ডোয়াইন ব্রাভোর বলে উড়িয়েই মারলেন। কিন্তু দীর্ঘদেহী জেসন হোল্ডার অনায়াসেই নিয়ে নিলেন ক্যাচটা। হোল্ডারের জায়গায় অন্য যেকোনো ফিল্ডার থাকলেই লিটনের শটটা ছক্কা হয়ে যায়। আর সেটি হয়ে গেলেই তো ম্যাচ বাংলাদেশের।

লিটনের ফেরায় যে ছন্দপতন, সেটি আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর স্কিল হিটিং আর ওই মুহূর্তে কাজে লাগেনি। শেষ ওভারে আন্দ্রে রাসেল তাঁর টি-টোয়েন্টির যাবতীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাহমুদউল্লাহ আর আফিফ হোসেনকে লক্ষ্যমাত্রা থেকে দূরেই রাখলেন।

default-image

আপাতদৃষ্টিতে ম্যাচের চিত্র এটি। মনে হতে পারে কেবল লিটনের ফেরাটাই বোধ হয় বাংলাদেশকে হারিয়েছে। কিন্তু এর পেছনেও গল্প আছে। লিটন যদি আরও একটু হাত চালিয়ে খেলতেন, ১৪ থেকে ১৭তম ওভারে রান এসেছে ২৭। এই সময়টায় লিটনের সঙ্গে খেলছিলেন মুশফিকুর রহিম। ৭ বলে ৮ করে ফেলেছিলেন মুশফিক। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই খেলছিলেন। কিন্তু রবি রামপলের একটা বলে ‘স্কুপ’ খেলতে গিয়েই বিপত্তি ডাকলেন তিনি। স্কুপটার খুব প্রয়োজন ছিল কিনা, সেটি নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে। রামপল এমন কোনো বোলিং করছিলেন না, যে রান তুলতে হাঁসফাঁস করছিলেন মুশফিক। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছ থেকে ওই সময় অমন একটা ধাক্কা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যদি ম্যাচ শেষে আজ আয়নায় চোখ রেখে নিজেদের বিশ্লেষণ করে, তাহলে অহেতুক স্কুপ শটের জন্য মুশফিককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই হবে।

default-image

একটু অন্য চিন্তাতেই ব্যাটিং অর্ডারটা সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গী করা হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। ওপেনিংটা খারাপ হয়নি। নাঈম-সাকিব মিলে ৪.৩ ওভারে ২১ রান তুলেছিলেন। সাকিব ১২ বলে ৯ রান করে ফিরেছেন। নাঈমও ফিরেছেন স্কোরবোর্ডে আর ৮ রান যোগ করেই। ফেরার আগে তাঁর নামের পাশে ছিল ১৯ বলে ১৭। লিটন দাসককে তিন নম্বরে পাঠিয়ে ফল পেয়েছে বাংলাদেশ। তিনি তাঁর নামের প্রতি কিছুটা সুবিচার করেছেন তিনি। তবে আগের লিটনকে এ ম্যাচেও পাওয়া যায়নি। তবে সেটি অনুমিতই ছিল। এমনিতেই আত্মবিশ্বাসের তলানিতে ছিলেন। আজ হয়তো বাদই পড়ে যেতেন। কিন্তু উইকেটকিপার নুরুল হাসানের চোট তাঁকে ‘লাইফ লাইন’ দিয়েছিল। তিন নম্বরে নেমে লিটন ধরে ধরে খেলাতেই মন দিয়েছিলেন। কোনো বড় শটের দিকে যাননি। বলের মেধা বিবেচনা করেই খেলেছেন তিনি। এক সময় সৌম্য সরকারকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন। ৩০ বলে ৩১ রানের জুটি ছিল সেটি। সৌম্য খুব খারাপ খেলছিলেন না। ১৩ বলে ১৭ রান করে ফেলেছিলেন। দুটি দৃষ্টি নন্দন বাউন্ডারিও ছিল তাঁর ইনিংসে। কিন্তু আকিল হোসের নিরীহ স্পিন বোলিংয়ে ফ্লিক করতে গিয়ে অদ্ভুত এক আউট হলেন। শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ তুলে দিলেন ক্রিস গেইলকে।

default-image

সৌম্য ফেরার পরেও ম্যাচে ভালোভাবেই ছিল বাংলাদেশ। দলের রান তখন ১০.৪ ওভারে ৬০। ৫৬ বলে ৮২ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই উইকেটের চারদিকে খেলে রান তুলছিলেন লিটন দাস। মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১৭ বলে ৩০ রানের জুটি। এ জুটি ম্যাচের লাগাম অনেকটাই নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু অমন পরিস্থিতিতে মুশফিকের সেই ‘স্কুপ’!

১৩.৩ বলে বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৪ উইকেটে ৯০। ৩৯ বলে জিততে প্রয়োজন ৫২। টি–টোয়েন্টিতে এ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলাটা কোনো ব্যাপারই নয়। বাংলাদেশের জন্যও খুব কঠিন হবে, মনে করেনি কেউই। উইকেটে যেখানে আছেন লিটন। হাল ধরেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ডাগআউটে অপেক্ষায় আফিফের মতো ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে রান তুলতে পারেন মেহেদী হাসানও। এ ম্যাচ বাংলাদেশ হারবে?

জয়ের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ২ বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় দলকে জয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলেন। লিটনও সেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররাও এমন কোনো আহামরি বোলিং করছিলেন না, যে ভয়ের কোনো কারণ থাকতে পারে। কিন্তু এই জায়গায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ল দুই ব্যাটসম্যানের রান তোলার গতির কারণেই। তুলে মাোর ক্ষেত্রে টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের যে দুর্বলতা। পাওয়ার হিটিংয়ে কুঁকড়ে থাকা—এ ব্যাপারগুলোই বিপক্ষে গেল বাংলাদেশের। লিটন উইকেটে সেট হয়েও বিপুল বিক্রমে বলগুলো আঁছড়ে ফেলতে পারলেন না সীমানার বাইরে, একই ব্যাপার মাহমুদউল্লাহর ক্ষেত্রেও। ব্রাভোর বলে লং অনে লিটন ‘লম্বা’ হোল্ডারের ক্যাচে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন খেলাটা চলে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। শেষ ওভারে ১০ রান দরকার ছিল। ওই সময় একটি ছক্কাই যথেষ্ট হতো বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ আর আফিফ দুজনের কেউই একটা ছক্কা মারতে পারলেন না।

জয়টা দেখা দিয়েও হারিয়ে গেল বাংলাদেশের দৃষ্টিসীমা থেকে। শারজার মাঠভর্তি বাংলাদেশি দর্শকদের চোখেমুখে তখন আক্ষেপের যন্ত্রণা। জয় এত কাছে, তবুও এত দূরে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন