বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তাড়া করার পথে সবচেয়ে বেশি রানের ইনিংস অবশ্য ২৬৮ রানের, সেটিও ইংল্যান্ডের। তবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সে টেস্টে ইংল্যান্ড জেতেনি, তাদের লক্ষ্য ছিল ৩৭৬ রানের।

এ তো গেল সেঞ্চুরিয়নের হিসাব। ভারতের বিপক্ষেই ২৫০-এর বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড টেস্ট ইতিহাসে আছে দুটি। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে পার্থে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ৩৪২ রান করে জিতেছিল, তার দশ বছর পরের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিল্লিতে জিতেছিল ৫ উইকেটে ২৭৬ রান করে।

আর দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকে হিসাব করলে? সেখানেই যা একটু প্রেরণা খুঁজে নিতে পারেন এলগাররা। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪ উইকেটে ৪১৪ রান করে জিতেছিল স্মিথ-ডুমিনিদের দল, তার ছয় বছর আগে ডারবানে সেই অস্ট্রেলিয়াকেই হারিয়েছিল চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩৪০ রান করে। এবার ৩০৫ তাড়া করে নতুন গল্প লিখবেন এলগাররা?

default-image

সম্ভাবনা কমই মনে হতে পারে। প্রথম ইনিংসে ভারত ৩২৭ রান করার পর থেকে যে টেস্টে কোন দল প্রতিপক্ষকে কত কম রানে অলআউট করতে পারে—সেই প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে কাল আর কত দূর যেতে পারবে, সংশয় থাকছেই! তারওপর দক্ষিণ আফ্রিকা এরই মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে ফেলায় সংশয়টা আরও বেড়েছে। এখনো যে ২১১ রান দরকার প্রোটিয়াদের। এলগারের সঙ্গে কাল যা করার বাকি দুই ব্যাটসম্যান টেম্বা বাভুমা ও কুইন্টন ডি কক আর অলরাউন্ডার উইয়ান মুল্ডারকেই করতে হবে।

৩০৫ রানের লক্ষ্যে শুরুটাই বাজে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ শামির বল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে ফেললেন এইডেন মার্করাম, বলের লাইন থেকে ব্যাটটা সরাতে পারেননি। বল তাঁর ব্যাটের নিচের অংশে লেগে আঘাত হানল স্টাম্পে। দলের রান তখন ১। সর্বশেষ তিন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটি ভাঙল ০, ১, ৪, ২ ও ১ রানে।

তিন নম্বরে নামা কিগান পিটারসেনের জন্য এ আর নতুন কী! তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও যে এই তিন টেস্টেরই! এর মধ্যে ছয় ইনিংসের পাঁচটিতেই নামতে হয়েছে নতুন বলের সামনে। আজ নেমেছেন ৯ বল পুরোনো বলের সামনে। এখন পর্যন্ত টেস্টে ২০-এর পেরোনো ইনিংস খেলতে না পারা পিটারসেন আজও ধারাটা ভাঙতে পারেননি। মোহাম্মদ সিরাজের বলে আউট হয়ে গেছেন ৩৬ বলে ১৭ রান করে।

default-image

তৃতীয় উইকেটে এলগারের সঙ্গে ৪০ রানের জুটিতে কিছুটা পাল্টা লড়াইয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন রেসি ফন ডার ডুসেন, কিন্তু তাঁকে প্রতিপক্ষের মাটিতে ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্ট উইকেট বানিয়ে ফেরালেন যশপ্রীত বুমরা। ফন ডার ডুসেনের মতো পরে মহারাজকেও বোল্ড করেন বুমরা।

এর আগে ভারতের ব্যাটসম্যানরা তো যেন প্রথম সেশনে ধীরস্থির, আর পরের সেশনে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য যেকোনো কিছু বিসর্জনের পণ নিয়েই নেমেছিলেন। ১ উইকেটে ১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারত প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে নিয়েছে ৬৩ রান। কিন্তু ততক্ষণেই ২০৯ রানের লিড পেয়ে যাওয়া ভারত দ্বিতীয় সেশনে নেমেছেই মেরে খেলার প্রস্তুতি নিয়ে!

মধ্যাহ্নবিরতির পর প্রথম বলেই বিরাট কোহলি আউট হলেন। ভারতের রান তখন ৪ উইকেটে ৭৯। এরপর ভারতের সবচেয়ে বড় দুটি জুটি হয়েছে পঞ্চম উইকেটে ৩০ আর সপ্তম উইকেটে ৩৫ রানের! ১৮.৩ ওভারে ৯৫ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে ভারত।

তাতেও সম্ভবত দিন শেষে তেমন আফসোস নেই কোহলিদের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন