default-image

বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম দুটো ম্যাচে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিস গেইল। এতটাই নিষ্প্রভ যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি কবে অবসর নেবেন, এ নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর আলোচনা। গেইলকে কটাক্ষ করেই অবসর-আলোচনায় বাতাস দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। আজ ক্যানবেরায় জিম্বাবুয়েকে পেয়ে যাবতীয় সমালোচনা ও কটাক্ষের যন্ত্রণাই যেন মেটালেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। ২১৫ রানের দানবীয় ইনিংসটি খেলতে গিয়ে মারলেন ১৬টি সুবিশাল ছক্কা। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডটিও করে নিলেন নিজের। মারলন স্যামুয়েলসকে সঙ্গে নিয়ে ৩৭২ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে শামিল হলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ যুগলবন্দীতে। একই সঙ্গে তাঁর এই ইনিংস জিম্বাবুয়েকে চাপা দিয়েছে ৩৭২ রানের পাহাড়ে। কিছু দিন আগে ব্রিসবেন উপকূলের ওপর আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় মার্সিয়া আর লামের মতোই আজ ক্যানবেরা যেন দেখল আরেক ঝড়ের প্রলয়। আবহাওয়াবিদেরা পরবর্তী সময়ে যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্দ্বিধায় রেখে দিতে পারেন ক্রিস গেইলের নামে। ঝড়ের নাম হিসেবে ক্রিস গেইলই বোধ হয় সবচেয়ে যথাযথ নাম।
ক্রিস গেইলের ইনিংসটি এসেছে মাত্র ১৪৭ বলে। ১০৫ বলে শতক পূর্ণ করা গেইল ২১৫ রানে পৌঁছে যেতে বল খেলেন আর মাত্র ৪২টি। চারের থেকে যে ইনিংসে ছয়ের মার বেশি, সে ইনিংসটি যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটা আজ খুব ভালোই বুঝতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। টেলিভিশনের সামনে বসা দর্শকদেরও এই ইনিংসটি দেখতে দেখতে এক ধরনের মিশ্র অনুভূতি কাজ করেছে। বোলারদের প্রতি এতটা নির্দয় হওয়া যায় নাকি।
পুরো ইনিংসটিই ছিল গেইলের নানা ধরনের কীর্তিগাথায় ভরপুর। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর, ছয় মারার সংখ্যা, জুটি ইত্যাদির রেকর্ড ছোঁয়ার আগেই গেইল আজ প্রবেশ করেছেন নয় হাজার রানের ঘরে। কেবল দ্বিতীয় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে এই মাইলফলক ছোঁয়া গেইল আজ প্রমাণ করে দিয়েছেন, যে যা-ই বলুক ক্যারিবীয় ক্রিকেট ইতিহাসের ভয়ংকরতম ব্যাটসম্যানের অভিধা দিতে হবে তাঁকেই।
ক্রিস গেইলের প্রলয়ে চাপা পড়ে গেছে মারলন স্যামুয়েলসের দারুণ শতরানটি। ১৩৩ রানে শেষ অবধি অপরাজিত থাকা স্যামুয়েলস গেইলের সঙ্গে ইতিহাসে অমর করে রেখেছেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ জুটিতে নিজের নাম লিখে। গেইল-স্যামুয়েলস ৩৭২ রানের জুটি পেছনে ফেলেছে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে টন্টনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সৌরভ গাঙ্গুলি ও রাহুল দ্রাবিড়ের ৩১৮ রানের অনন্য জুটিটিকে।
স্যামুয়েলসের ১৩৩ রানের ইনিংসটিতে ছিল ১১ চার ও তিনটি ছয়ের মার। ১৫৬ বলে, ২০৯ মিনিট ধরে খেলা স্যামুয়েলসের ইনিংসটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এই কারণেই যে তাঁর এই ইনিংসটির কারণেই শেষ অবধি হাত খুলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন গেইল, ঝড় তুলে তোলপাড় ফেলেছিলেন ক্যানবেরার মানুকা ওভালে। সূত্র: এএফপি

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন