default-image
>গুঞ্জন উঠেছে ইংল্যান্ডে খেলতে আসার বাধ্যবাধকতা দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ডকে (ডব্লুসিআই) টাকা ধার দিয়েছে ইসিবি। যা অস্বীকার করেছে ডব্লুসিআই

করোনার ভয়কে দূরে ঠেলে ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ডে চলে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের সাহস প্রশংসিত হচ্ছে চারদিকে। তবে সমালোচকেরাও বসে নেই। অনেকেই বলছেন আর্থিকভাবে দুরবস্থায় থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ড টাকা–পয়সার লোভে পড়েই রাজি হয়েছে ইংল্যান্ড সফরে। আরেক পক্ষ বলছে এভাবে ক্রিকেটারদের ঝুঁকির মুখে ফেলা উচিৎ হয়নি। এই দলে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার অ্যান্ডি রবার্টস। ক্যারিবীয় বিখ্যাত 'পেস চতুষ্টয়ের' অন্যতম রবার্টস মনে করেন টাকার জন্যই 'গিনিপিগ' বানানো হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের।

প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রাণ হারানোর পর যুক্তরাজ্যে করোনার প্রভাব কমছে এখন। তবু দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা এখনো হাজারের ওপরে। এমন পরিস্থিতিকেই ইংল্যান্ডে চলে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আছে জৈব–সুরক্ষিত পরিবেশে। বিশেষ ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক নজরদারী ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ম্যানচেস্টারে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
এমন দমবন্ধ পরিবেশে কীভাবে ইংল্যান্ডে আসতে রাজি হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই টাকা–পয়সার ব্যাপারটা সামনে এসেছে। মে মাসে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (সিডব্লুআই) ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২৫ কোটি টাকা) ধার দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আর্থিক দুরবস্থায় থাকা সিডব্লুআই এই টাকা দিয়ে খেলোয়াড়দের বেতন–ভাতা ও ম্যাচ ফি পরিশোধ করেছে। আইসিসির কাছে থাকা পাওনা টাকা পেতে দেরি হওয়াতে এক রকম বাধ্য হয়েই ইসিবির কাছে থেকে এই টাকা নিয়েছে সিডব্লুআই। সমালোচকেরা বলছেন 'ইংল্যান্ডে খেলতে যেতে হবে', এই শর্তেই টাকাটা দিয়েছে ইসিবি।
তবে পরশু এই শর্তের কথা অস্বীকার করেছেন সিডব্লুআইয়ের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ। বার্বাডোজ নেশননিউজকে গ্রেভ বলেছেন কোনোরকম বাধ্যবাধকতা ছিল না ধার নেওয়ায়, 'আইসিসির কাছে থাকা আমাদের হিস্যার ৩০ লাখ ডলার অগ্রিম চেয়েছিলাম। যেটি আইসিসির পক্ষ থেকে ইসিবি আমাদের দিয়েছে। এটা স্বল্পমেয়াদী সুদবিহীন ঋণ। জুলাই মাসেই আইসিসি টাকাটা ইসিবিকে পরিশোধ করবে। মে মাসের শুরুতে আমরা টাকাটা নিয়েছি। সে সময়ে যুক্তরাজ্যের যে বাজে পরিস্থিতি ছিল তাতে সিরিজ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমি আপনাদের নিশ্চিয়তা দিতে পারি সফরে যাওয়া, না যাওয়ার সঙ্গে ওই টাকার কোনোই সম্পর্ক নেই।'
অ্যান্ডি রবার্টসও টাকা–পয়সার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী ফাস্ট বোলার মনে করছেন তাঁর মনে হয় না আর্থিক কোনো লাভের সম্ভাবনা না থাকলে দলকে 'গিনিপিগ' বানিয়ে ইংল্যান্ডে পাঠাত ডব্লুসিআই, 'ইংল্যান্ডে যাওয়ার ব্যাপারে কী আলোচনা হয়েছে না হয়েছে তা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার আপত্তি হলো এই যে বলা হচ্ছে সফর থেকে আর্থিকভাবে কোনো লাভ হবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজের তা নিয়ে। আমি মনে করি এটি ভুল। কারণ আমরা যে সুযোগ নিয়েছি তা অন্য কোনো দল তা করত বলে মনে হয় না। আমরা কি এমনিতেই ইংল্যান্ডকে ৩.৮ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৪০০ কোটি টাকা) ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছি'।
টাকা–পয়সার কোনো ব্যাপার যদি না থাকে তবে কেন ইংল্যান্ড গেছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন রবার্টস, 'তাঁরা যদি আমাদের কিছুই না দেয় কেন আমরা গিনিপিগের মতো নিজেদের সেখানে উৎসর্গ করতে গেলাম।'

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন