বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা দুটি অ্যাশেজ হার, এরপরও ইংল্যান্ড অধিনায়কের পদে বহাল থাকার ব্যাপারটি ঠিক ‘স্বাভাবিক’ নয়। গত ১০০ বছরের বেশি সময়ে কোনো ইংল্যান্ড অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পরপর দুটি অ্যাশেজ হারেননি। অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে ‘ব্যর্থ’ হলেও গত বছরটা রুটের গেছে স্বপ্নের মতো। ২০২১ সালে রুট একাই করেছেন ১৭০৮ রান, গত বছর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩০ রান করেছিলেন ররি বার্নস। অবশ্য ৪-০ ব্যবধানে হারা অ্যাশেজে ঠিক জ্বলে উঠতে পারেননি রুট, ৩টি অর্ধশতক পেলেও পাননি কোনো শতক। তবু দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান ঠিকই করেছিলেন (৩৪৪)।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতা ভুলে আপাতত ‘নতুন’ করে শুরু করার আশা তাঁর, ‘অবশ্যই সফরটা হতাশার ছিল, আমরা পারফর্ম করতেই পারিনি বলতে গেলে। তবে এর পাশাপাশি আমরা এটিকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ হিসেবে দেখতে চাই। স্ট্রাউসি যেমনটি বলেছে, এটা নতুন করে শুরু করার মতো। সামনে এগিয়ে যেতে সত্যিকারের এক সুযোগ। আমি কৃতজ্ঞ যে অধিনায়ক হিসেবে এ সুযোগটা পেয়েছি।’

default-image

দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটিতে রোমাঞ্চিত রুট, ‘সুযোগটা পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ, সত্যিই। যে দল ঘোষণা হয়েছে সফরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, সেখানে গিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা বাস্তবায়ন করার ব্যাপারগুলো বেশ রোমাঞ্চকর। ভালো লাগছে, চাকাটা সচল করার চিন্তা করে, উপভোগও করছি। সুযোগটা সত্যিই রোমাঞ্চকর।’

নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে এখনো সেভাবে ভাবেননি বলেও জানিয়েছেন ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে (৬১) নেতৃত্ব দেওয়া রুট, ‘আমি এ ব্যাপারে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করিনি। এ দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমার নিবেদন অনেক। সামনে যা আছে, সেটি নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত আমি।’

রুট কথা বলেছেন অ্যান্ডারসন-ব্রডের বাদ পড়া নিয়েও। নিজের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এর আগেই পত্রিকায় লেখা এক কলামে জানিয়েছিলেন ব্রড। সম্প্রতি মুখ খুলেছেন অ্যান্ডারসনও। তাঁর প্রতিক্রিয়াও ব্রডের মতোই। তবে রুটও বলছেন, ইংল্যান্ড ইতিহাসের সফলতম দুই পেসারের ক্যারিয়ারের এটিই শেষ নয়।

default-image

এ দুজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন রুট, ‘অবশ্যই তারা হতাশ, ক্ষুব্ধ, বিশেষ করে স্টুয়ার্ট তো তাঁর কথা প্রকাশ্যেই বলেছে। এগুলো অপ্রত্যাশিত নয়। দুজনকেই আমি অনেক সম্মান করি। তবে এটা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়েছে, কেউই তাদের জন্য এটিকে শেষ বলছে না। সামনের গ্রীষ্মে দলের সঙ্গে স্টুয়ার্ট ও জিমিকে দেখতে পারলে দারুণ লাগবে।’

আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটি ক্রিস ওকস, মার্ক উডের মতো বোলারদের বিদেশের মাটিতে নিজেদের সামর্থ্য বাজিয়ে দেখার সুযোগ বলেও মনে করেন রুট। খুব আগবাড়িয়ে ভাবতেও চান না এ মুহূর্তে, ‘কেউই বলেনি তাদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। পরের মৌসুমে তাদের পেলে ভালো লাগবে। এ সফর আমাদের কাছে সবকিছু ঠিকঠাক করার ব্যাপার, যতটা পারি। আমরা যদি এমন অবস্থায় যাই যে তারা ফিরে আসতে পারছে, তাহলে আমাদের শক্তিই বাড়বে। তবে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু কাউকেই শেষ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।’

আগামী ৮ মার্চ শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের তিন টেস্টের সিরিজ। ১৯৬৮ সালের পর ক্যারিবিয়ানদের মাটিতে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার সিরিজ জিতেছে ইংল্যান্ড।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন