টি-টোয়েন্টি খেলার ইচ্ছাটা তামিমের দিক থেকেই আসতে হবে

প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে তামিম ইকবালপ্রথম আলো ফাইল ছবি

জিম্বাবুয়ে সফর থেকে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে এসেছে বাংলাদেশ দল। সামনেই আবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। গতকাল কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় এই দুই সিরিজের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তামিম ইকবালের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ ও মাহমুদউল্লাহর আচমকা টেস্ট অবসরের বিষয়ও উঠে এসেছে ডমিঙ্গোর কথায়।

প্রশ্ন: জিম্বাবুয়ে সিরিজে বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার ভালো খেলেছে। কোচ হিসেবে নিশ্চয়ই এটা তৃপ্তির?

রাসেল ডমিঙ্গো: শুধু জিম্বাবুয়ে থেকে নয়, আগে থেকেই ভালো খেলছে। শরীফুল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো বোলিং করেছে। শান্ত সেঞ্চুরি করেছিল শ্রীলঙ্কায়। তবে জিম্বাবুয়েতে অন্যদেরও এগিয়ে আসতে দেখে ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: আবু জায়েদকে ধরা হয় টেস্ট দলের সেরা পেসার। কিন্তু তাঁকে খেলানো হচ্ছে না কেন?

ডমিঙ্গো: আমরা যেসব উইকেটে খেলেছি সবই ছিল ফ্ল্যাট উইকেট। যা তার ধাচের বোলিংয়ের সঙ্গে যায় না। আরেকটু ঘাসের উইকেটে বা যেখানে তাঁর জন্য সাহায্য বেশি থাকেবে, জায়েদকে সেখানে খেলাতে চাই।

লিটন দাসকে একটা সময় বিশ্বের সেরা দশে দেখেন ডমিঙ্গো
ফাইল ছবি: এএফপি

প্রশ্ন: লিটন দাসকে জিম্বাবুয়ে সিরিজে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে দেখা গেছে…

ডমিঙ্গো: লিটন একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার হবে, এই বিশ্বাসটা সব সময় ছিল। এখন পর্যন্ত তার কোনো টেস্ট সেঞ্চুরি নেই, এটার জন্য সে নিজেও অনেক হতাশ। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে গত এক-দেড় বছরে তার গড় ৫০–এর বেশি। আমার মনে হয় সে তিন সংস্করণেই বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নেবে। 

প্রশ্ন: মুশফিকের না থাকার সুযোগটা নিতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন ও মোসাদ্দেক হোসেন। তাঁদের কি আরও সুযোগ দেওয়া হবে?

ডমিঙ্গো: এটা ঠিক যে ওরা সুযোগটা কাজে লাগায়নি। কিন্তু কোনো ব্যাটিং লাইনআপেই সব ব্যাটসম্যান সব সময় রানে থাকে না। এটা অসম্ভব। খারাপ ও ভালো ফর্মের আসা-যাওয়া চলতে থাকবে। তবে তাদের কাজ করতে হবেই। সুযোগের ব্যবহারও করতে হবে। আমি ভবিষ্যতে দুজনকে দলে দেখতে চাইব।

প্রশ্ন: নুরুল হাসান অনেক দিন পর দলে ফিরে ভালো খেলেছেন। তাঁকে কেমন দেখলেন?

ডমিঙ্গো: জিম্বাবুয়েতে অনুশীলনে সবচেয়ে বেশি বল খেলেছে সে। এরপর মাঠে ভালো করতে দেখে ভালো লাগছে। এই মুহূর্তে দলে জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা আছে। তারও কিছু উন্নতির জায়গা আছে। তবে সব মিলিয়ে সে দারুণ ক্রিকেটার। আমি এমন একজনকেই একাদশে দেখতে চাইব।

পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে ভাড়া করা বিমানে ঢাকা এসেছে অস্ট্রেলিয়া
ছবি: বিসিবি

প্রশ্ন: শামীম হোসেন ভালো খেলেছেন। খুব দ্রুত হয়ে যায়, তবু বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির দলে তাঁকে দেখা যেতে পারে?

ডমিঙ্গো: শামীমের মধ্যে ভালো করার চেষ্টা স্পষ্ট। সে যেভাবে অনুশীলন করে সেটা চোখে পড়ার মতো। দারুণ একজন ফিল্ডারও। সে অদ্ভুত অদ্ভুত জায়গায় রান বের করে। দেখেও অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। যে সামর্থ্য ও সতেজতা ওর মধ্যে দেখি সেটা প্রশংসা করার মতো। কিন্তু এখনো ক্যারিয়ারের একদম শুরুতে আছে। তাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিতে চাই না। আর চাপও দিতে চাই না।

প্রশ্ন: সামনেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। সেরা দল নিয়ে না এলেও এই অস্ট্রেলিয়া দলটাকে কীভাবে দেখছেন?

ডমিঙ্গো: অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশে পাচ্ছি, এটা দারুণ খবর। মূল ক্রিকেটাররা না থাকলেও ওরা কঠিন দল। ওরাও আমাদের কন্ডিশনে ভালো করতে চাইবে, কারণ সামনেই বিশ্বকাপ। আমরা সিরিজ নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত। নিজেদের মাঠে যে কাউকে হারাতে পারি। ওদের হারাতে পারলে বিশ্বকাপের আগে আমাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

প্রশ্ন: অথচ এই সিরিজেই তামিম, মুশফিক ও লিটনকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ…

ডমিঙ্গো: এটা বাকিদের জন্য খুবই ভালো সুযোগ। বাকি যারা আছে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি কি না, সেটা জানার একটাই উপায়, তাদের খেলানো। অভিজ্ঞরা সবাই খেললে নতুনদের জায়গা দেওয়া কঠিন। এটা অনেকের জন্য নিজেদের প্রমাণের জন্য আদর্শ সুযোগ, কারণ দলটা অস্ট্রেলিয়া।

মাহমুদউল্লাহ ও তামিম ইকবাল
প্রথম আলো ফাইল ছবি

প্রশ্ন: তামিমের কথাই যেহেতু এল, টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে নিয়মিত পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তাঁর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ভবিষ্যতকে কীভাবে দেখছেন?

ডমিঙ্গো: তামিম সাদা বলের দুর্দান্ত একজন ক্রিকেটার। বোকা না হলে তার মতো ক্রিকেটারকে সবাই-ই দলে পেতে চাইবে। কিন্তু একই সঙ্গে তামিমকেও টি-টোয়েন্টি দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। তাকে ঠিক করতে হবে সে খেলবে কি খেলবে না। নিজেকে ফিট রাখতে হবে।

সে যদি ফিট হয় এবং খেলার জন্য প্রস্তুত থাকে, তাহলে তাকে একাদশে চাইবই। কিন্তু টি-টোয়েন্টি খেলার ইচ্ছাটা তামিমের দিক থেকেই আসতে হবে। আমরা এ নিয়ে আগেও আলোচনা করেছি। এখন পুনর্বাসনের মধ্যে আছে, কিছু সময় পাচ্ছে চিন্তা করার। আমি নিশ্চিত সে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরবে।

প্রশ্ন: আরেক অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহর টেস্ট অবসরকে কীভাবে দেখছেন?

ডমিঙ্গো: প্রত্যেক ক্রিকেটারই জানে কখন তার অবসর নেওয়া উচিত। এটা খুবই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমাদের মাহমুদউল্লাহর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে হবে। সে একজন দারুণ ক্রিকেটার, বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাকে টেস্ট ক্রিকেটে না পাওয়া হতাশাজনক।

তবে সাদা বলের ক্রিকেটে তার বিরাট দায়িত্ব আছে, সে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক। আমি নিশ্চিত টেস্ট ছাড়াটা তাকে সাদা বলের ক্রিকেটে আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।