ওয়ানডে ম্যাচগুলো যেহেতু বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ নয়, সে কারণে আমরা আর আপত্তি জানাইনি
পিসিবি মিডিয়া ডিরেক্টর সামি-উল-হাসান বার্নি

আগের সূচি অনুযায়ী আগামী জুলাই-আগস্টে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডের সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু এখন এসএলসির অনুরোধ পিসিবি মেনে নেওয়ায় ওয়ানডে সিরিজটি বাতিল হচ্ছে। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা সফরে শুধু দুই টেস্টের সিরিজই খেলবে পাকিস্তান।

তবে ওয়ানডে সিরিজ বাতিল হওয়ায় দুই দেশের বোর্ডের আয় কমার বাইরে তেমন কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হচ্ছে না। ওয়ানডে সিরিজটি যে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবে আয়োজিত সুপার লিগের অংশ ছিল না।

এ মুহূর্তে অবশ্য সুপার লিগে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান দুই দলের কারও অবস্থাই একেবারে উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো নয়। শ্রীলঙ্কা সম্ভাব্য ২৪ ম্যাচের মধ্যে ১৮টি খেলে ফেলেছে, ৬২ পয়েন্ট নিয়ে আছে পয়েন্ট তালিকার সাত নম্বরে। পাকিস্তান ১২ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে নবম। ১৮ ম্যাচে ১২০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ।

সুপার লিগে এ সিরিজ কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই সিরিজটা বাতিলের অনুরোধে সায় দিতে খুব একটা বাধেনি পাকিস্তানের—এমনটাই জানাচ্ছেন পিসিবি মিডিয়া ডিরেক্টর সামি-উল-হাসান বার্নি।

‘শ্রীলঙ্কার বোর্ড আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা কাটাতে তাদের লিগটা (এলপিএল) এক সপ্তাহ এগিয়ে আনতে চায়। সে কারণে তারা আমাদের অনুরোধ করেছে ওয়ানডে সিরিজটা বাদ দিতে, অনুরোধটা আমরা মেনে নিয়েছি। ওয়ানডে ম্যাচগুলো যেহেতু বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ নয়, সে কারণে আমরা আর আপত্তি জানাইনি। সিরিজের চূড়ান্ত সূচি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে, শিগগিরই সেটা প্রকাশ করা হবে,’ বলেছেন বার্নি।

তবে পাকিস্তানের সফরের দৈর্ঘ্য কমে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার সফর নিয়ে সম্ভবত শ্রীলঙ্কা বেশ তটস্থই থাকবে। পাকিস্তানের ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট পাকিস্তান ক্রিকেট লিখেছে, শ্রীলঙ্কায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আয়োজনের সম্ভাবনাও অস্ট্রেলিয়ার শ্রীলঙ্কা সফরের ওপর নির্ভর করছে।

default-image

অস্ট্রেলিয়া যদি দ্বীপদেশটিতে যাওয়ার প্রশ্নে ‘না’ করে দেয়, সে ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কায় এ বছরের আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে অনেকটা। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এ মুহূর্তে সবদিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে, শিগগিরই নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।

শ্রীলঙ্কায় এ মুহূর্তে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্দশা এমনই যে ক্রিকেটে দিবারাত্রির ম্যাচ আয়োজনই সেখানে প্রায় অসম্ভব। আপাতত দিনে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন লঙ্কান মানুষ। শ্রীলঙ্কার বোর্ডের নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু সেটি চালাতে গেলে তো তেলের দরকার! তেল পাওয়া নিয়ে শ্রীলঙ্কায় তো কত কিছুই হয়ে গেল!

এত কিছুর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় এ বছরের এশিয়া কাপ আয়োজন তো শঙ্কায় পড়ারই কথা! এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। এশিয়া কাপ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন সম্ভব না হলে সে ক্ষেত্রে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নামও এরই মধ্যে ঠিক করে রাখা হয়েছে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন