বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বিশ্লেষণে টেন্ডুলকার প্রথমেই অবশ্য ভাগ্যের দিকটি তুলে এনেছেন। তাঁর চোখে, কালকের দিনটা ভারতের জন্য এমন এক দিন ছিল, যেখানে কোনো কিছুই ভারতের পক্ষে যাচ্ছিল না, ‘আমাদের দলের জন্য কঠিন একটা দিন ছিল, তবে এমন দিন মাঝেমধ্যে আসতেই পারে। এটা এমন এক দিন, যে দিনে আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, কোনো কিছুই আপনার পক্ষে যাবে না। ম্যাচটা নিয়ে আসলে এর বাইরে তেমন কিছু বলার নেই। শুধু আশা করি, আগামী দিনে আমাদের দল এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু দেখাবে।’

নিউজিল্যান্ড শুরু থেকেই ভারতকে চেপে ধরেছিল বলে মনে হয়েছে টেন্ডুলকারের কাছে। কীভাবে? সে ব্যাখ্যাই দিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী ভারতীয় কিংবদন্তি, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ভারত শুরু থেকেই পিছিয়ে পড়েছে। নিউজিল্যান্ড যেভাবে দাপট দেখিয়েছে, আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। কারণ, ব্যাটসম্যানরা সহজ সিঙ্গেলও বের করতে পারছিল না, যেটা ওদের বড় শট খেলতে বাধ্য করেছে। আমাদের বোলিংয়েও ব্যাটসম্যানদের ব্যাটকে ফাঁকি দেওয়ার মতো কিছু ছিল না।’

default-image

ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন রণ পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা ঝরেছে টেন্ডুলকারের কণ্ঠে, ‘প্রথম বল থেকেই ওর ফিল্ডিং সাজানো, বোলিংয়ে বদল আনা দুর্দান্ত ছিল। ম্যাচটা নিয়ে দারুণ পরিকল্পনা সাজিয়েছিল সে। প্রথম ছয় ওভারে আমরা ২ উইকেটে ৩৫ রান করলাম। এর মধ্যে ২০ রান এসেছে পাঁচ ওভারে, বাকি ১৫ এসেছে অ্যাডাম মিলনের একটা ওভারে।’

তবে নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ের সময়, অর্থাৎ ভারতের ইনিংসে ৬ ওভারের পর থেকে ১০ ওভার পর্যন্ত সময়টাতেই ভারত বেশি পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে হয়েছে টেন্ডুলকারের, ‘আমার চোখে, ম্যাচের সবচেয়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়া সময় ছিল ৭ থেকে ১০ ওভার। সে সময়ে ২৪ বলে আমরা ১৩ রান করেছি, উইকেট হারিয়েছি ১টি। আমার চোখে ওটাই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল, যেখানে আমরা ভালো কিছু করতে ব্যর্থ হয়েছি। কারণ, দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে ব্যাটসম্যানরা জুটি গড়ার কথা চিন্তা করে। কিন্তু সহজ সিঙ্গেল নিতে না পারায় আমাদের ব্যাটসম্যানরা বড় শট খেলতে চেয়েছে। রোহিত সেটা করতে গিয়ে আউট হয়েছে, বিরাটও।’

default-image

পন্তের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ের পরিকল্পনার দিকেও মনোযোগ ফিরিয়েছেন টেন্ডুলকার। তাঁর চোখে সেটি ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনার মতোই ছিল, ‘পন্ত ব্যাটিংয়ে এল, সঙ্গে সঙ্গেই ফাস্ট বোলাররা এল। আর যখন স্পিন বোলিংয়ের সময় এল, (পন্ত স্ট্রাইকে যেতেই) বোলিংয়ের প্রান্ত বদলে গেল। আরেকবার দারুণ একটা চাল দিয়েছে ওরা। মনে আছে, ২০১৯ বিশ্বকাপে যখন মিচেল স্যান্টনার পন্তকে বল করতে এল, সে মাঠের বড় দিকের প্রান্ত থেকে বল করছিল, যাতে পন্ত মিড উইকেটের দিকে মারে, যেটা কিনা ছিল মাঠের সবচেয়ে বড় বাউন্ডারির দিক। একই ব্যাপার গতকালের ম্যাচেও হয়েছে।’

নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিনাররা নিজেদের বোলিংয়ে বারবার বদল এনে; গুগলি, টপ স্পিন, ফ্লিপার আর সাধারণ লেগ স্পিনে বৈচিত্র্য এনে ভারতের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন বলেও বিশ্লেষণ টেন্ডুলকারের, ‘স্পিনারদের কথা যদি বলি, ইশ সোধি গতকাল দারুণ কার্যকর বোলিং করেছে। ওর পাশাপাশি মিচেল স্যান্টনারও বেশ ভালো বোলিং করেছে। দুজন মিলে ৮ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়েছে, যেটা ম্যাচে অনেক বড় প্রভাব গড়ে দিয়েছে। আমাদের এই দিকগুলোতে উন্নতি আনতে হবে।’

তুলনায় ভারতের বোলিং নিয়ে তাঁর হতাশা, ভারত শুরুতে উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং করতে পারেনি, ‘যখন ভারত বোলিং শুরু করেছে, এত ছোট লক্ষ্যে আপনার শুরুতেই ৩ উইকেট নিতে হবে ম্যাচে থাকার জন্য। আমরা (পাওয়ারপ্লেতে) খুব বেশি রান দিইনি, কিন্তু উইকেট নিতে পেরেছি মাত্র ১টি। এটা প্রভাব রাখার মতো বোলিং নয়।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন