default-image

কিছুদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। লেজেন্ড ক্রিকেটে ক্রিকেটপ্রেমীদের নস্টালজিয়ায় ফেলার কিছুদিন পরই তাঁকে করোনার আক্রমণ। অনেকেই বলছেন, ভারতের রায়পুরে আয়োজিত ওই লেজেন্ড ক্রিকেটই নাকি করোনার মূল উৎস ছিল। কেবল টেন্ডুলকারই নন, লেজেন্ড ক্রিকেট খেলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ইরফান পাঠান, ইউসুফ পাঠান—দুই ভাইই। করোনায় ধরেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার এস বদ্রিনাথকেও।

করোনায় আক্রান্ত টেন্ডুলকার উপসর্গহীন ছিলেন। কিন্তু তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। লিটল মাস্টারের করোনায় আক্রান্ত হওয়াটাই ছিল বড় খবর, তার ওপর হাসপাতালে ভর্তি হওয়াটা ছড়িয়েছিল উৎকণ্ঠা। সতর্কতা হিসেবেই টেন্ডুলকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু সেটি খুব ভালো চোখে দেখছেন না মহারাষ্ট্রের এক মন্ত্রী। আসলাম শেখ নামের সেই মন্ত্রী মনে করেন উপসর্গহীন অবস্থাতে টেন্ডুলকারের উচিত হয়নি হাসপাতালের একটি শয্যা দখল করা।

বিজ্ঞাপন

এ মুহূর্তে মহারাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বেশি করোনা উপদ্রুত রাজ্য। গত মঙ্গলবারও মহারাষ্ট্রে মোট ৬০ হাজারের বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। মুম্বাই শহরের হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে করোনা রোগীতে। হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রগুলোতেও (আইসিইউ) এ মুহূর্তে প্রচুর রোগী। মন্ত্রী আসলাম শেখ এসব বিবেচনা করেই উপসর্গহীন টেন্ডুলকারের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এ মুহূর্তে হাসপাতালগুলোতে যেহেতু সংকট, তাই কেবল গুরুতর রোগী ও গুরুতর হয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে, এমন রোগীদের হাসপাতালে আসা উচিত। আর শচীন টেন্ডুলকার কিংবা অক্ষয় কুমারদের মতো বিখ্যাতদের এ ব্যাপারটি বেশি করে মেনে চলা উচিত, ‘খ্যাতনামা করোনা রোগীদের মধ্যে যারা উপসর্গহীন, তাদের বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। এ মুহূর্তে সংকটকালীন অবস্থায় হাসপাতালের সুবিধাটা যাদের বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্যই রেখে দেওয়া উচিত।’

তবে আসলামের এই মন্তব্যে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টেন্ডুলকার যদি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেনই, সেটি নিয়ে আসলামের কথা বলা উচিত নয় বলেই মনে করেন অনেকে। তাঁদের মতে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের মুখে এমন কথা মানায় না। টেন্ডুলকার ইচ্ছা করেই হাসপাতালে ভর্তি হননি, করোনায় আক্রান্তের শুরুতে তিনি বাড়িতে সঙ্গনিরোধ অবস্থাতেই ছিলেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সুস্থ হওয়ার পর বাড়ি ফিরে গেছেন। মহারাষ্ট্র সরকার ও তাদের মন্ত্রীরা এই সংকটকালীন অবস্থায় বরং সংকট নিয়েই বেশি করে ভাবুন।

মন্তব্য করুন