বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩৯৫ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে অনুমিতভাবেই ফলো-অন করিয়েছিলেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। সাদমান ইসলাম শুরুটা করেন ইতিবাচক, তবে ৪৮ বলে ২১ রান করে কাইল জেমিসনের লেগসাইডের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়া টম ব্লান্ডেলের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ইতিবাচক শুরু করা নাজমুল হোসেন ৪ রানে জীবন পান, এরপর নিল ওয়াগনারের সঙ্গে জমে ওঠে তাঁর দ্বৈরথ। হুক-পুলে দুই চার ও একটি ছয় মারার পর শর্ট বলে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি ২৯ রান করে।

দ্বিতীয় সেশনে এসে ফেরেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাঈম। প্রথম ইনিংসে শূন্যতে ফেরা নাঈম বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্যের পরিচয় দিলেও মুখোমুখি হওয়া ৯৮তম বলে এসে টিম সাউদির ফুললেংথের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন, দ্বিতীয় স্লিপে নিজের বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে সেটি নেন ল্যাথাম। মুমিনুল রান-আউটের হাত থেকে, ক্যাচ তুলে বেঁচে গেলেও বেশিদূর যেতে পারেননি। ওয়াগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুললেংথের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন তিনি, প্রথম স্লিপে টেলরের হাতে ধরা পড়ার আগে আগে করেন ৬৩ বলে ৩৭ রান।

default-image

মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলে দুইবার বেঁচে যাওয়া ইয়াসিরও শিকার ওয়াগনারের—এবার শর্ট বলে ক্যাচ তোলেন তিনি। অবশ্য দ্বিতীয় সেশনের শেষেই ওয়াগনারকে দারুণ দুটি পুল শটে চার মেরে লিটন যেন আভাসটা দিয়ে রেখেছিলেন—এরপর কী হতে চলেছে।

দেশের বাইরে নিজের প্রথম শতকের পথে বাংলাদেশের পাল্টা আক্রণের নেতৃত্ব দেন লিটন, সঙ্গী হিসেবে পান নুরুলকে। চা-বিরতির আগে-পরে এ দুজনের জুটিতে ১২ ওভারের মধ্যে আসে ১৮টি বাউন্ডারি। দুজনের জুটি শতরান ছুঁয়ে ফেলে মাত্র ৯৮ বলে, ১০৫ বলে ওঠে ১০১ রান।

এর মাঝে জেমিসনের এক ওভারে ১৭ রানের পর বোল্টের ওভারে ওঠে ১৬ রান। জেমিসনকে চার-ছয়ের পর বোল্টকে মারা চারটি চারের পথে ৬৯ বলে অর্ধশতক ছুঁয়ে ফেলেন লিটন। এর মধ্যে প্রথমটি ব্যাটের কানায় লেগেই গিয়েছিল, তবে পরের তিনটি ছিল দুর্দান্ত টাইমিংয়ে মারা। লিটনের পুরো ইনিংসই তো ছিল এমন।

default-image

ড্যারিল মিচেলের বলে নুরুল ৩৬ রান করে মিড-অফে ওয়াগনারের দারুণ ক্যাচে পরিণত হলে একটু ছেদ পড়ে লিটনের গতিতে। তবে ওয়াগনারকে দুই চার মেরে পৌঁছান নব্বইয়ে। জেমিসনকে একটা চার মেরে ৯৮ রানে যাওয়ার পর ডাবলসে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক। ১১৪ বলে ১০২ রানের ইনিংসে মারেন ১৪টি চার ও ১টি ছয়।

সেই জেমিসনের বলেই এলবিডব্লু হন তিনি, রিভিউ নিলেও উইকেটে ছিল আম্পায়ারস কল। লিটনের আগে-পরে মিরাজ ও শরীফুল ইসলামকে ফেরান জেমিসন। এরপর ওয়াগনারের এক ওভার পেরিয়ে বলটা যায় টেলরের হাতে, যার হাতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের বড় ব্যবধানে হার। সেটিতে একটু ম্লান হতে পারে, তবে হ্যাগলি ওভালে লিটনের এ ইনিংসটা তো মনে থাকবে অনেকদিন। ক্রাইস্টচার্চে এই হারের পরও মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের জন্য যেমন এ সফরটা মনে রাখবে বাংলাদেশ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন