টেস্ট ক্রিকেট বাঁচানোর উপায় জানেন টেন্ডুলকার

টেন্ডুলকারের মতে, লারা-ম্যাকগ্রার মতো দ্বৈরথই ফেরাতে পারে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা। ছবি: ফাইল ছবি
টেন্ডুলকারের মতে, লারা-ম্যাকগ্রার মতো দ্বৈরথই ফেরাতে পারে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা। ছবি: ফাইল ছবি

টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে ভাবনার অন্ত নেই আইসিসির। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণ দিনে দিনে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে বলেই আইসিসির এই দুশ্চিন্তা। তিন ঘণ্টার টি-টোয়েন্টি বিনোদন কিংবা একদিনের ক্রিকেট থাকতে কার এক দায় পড়েছে পাঁচ দিনের খেলা দেখার! সে কারণে টেস্টের দর্শক-সংখ্যা ক্রমশই কমছে।

দর্শক টানতে আইসিসির আশ্রয় দিন-রাতের টেস্ট। কিন্তু তাতেও কি অবস্থার খুব একটা উন্নতি ঘটেছে! টেস্ট ক্রিকেটে দর্শক ফিরিয়ে আনতে শচীন টেন্ডুলকারের পরামর্শটা কিন্তু অন্যরকমই। তাঁর মতে, ‘যদি ইমরান-গাভাস্কার, অ্যামব্রোস-স্টিভ ওয়াহ, লারা-ম্যাকগ্রাদের মতো “দ্বৈরথ” আবার তৈরি করা যায়, তাহলে টেস্টের প্রতি দর্শকদের মনোযোগ ফিরতে বাধ্য।’

লিটল মাস্টারের মতে, হালের টেস্ট ক্রিকেটে এ ধরনের কোনো দ্বৈরথ নেই বলেই তা মানুষকে আকর্ষণ করতে পারছে না। মানুষ এ ধরনের শিহরণ জাগানো দ্বৈরথগুলো এখন সেভাবে খুঁজে পায় না বলেই পাচ্ছে না আগ্রহও।

এনডিটিভিকে টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘আমরা বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে দেখেছি ইমরান খান বল করছেন সুনীল গাভাস্কারকে। দেখেছি ভালো বলকে কীভাবে ব্যাকফুটে সম্মান করতে হয়। পরে লারা-ম্যাকগ্রা, অ্যামব্রোস-স্টিভ ওয়াহদের দ্বৈরথ সারা দিন মাঠে বসে দেখত দর্শক। এখন তো এমন কিছু নেই।’

টেস্টের দশগুলোকেও একটা বড় কারণ বলে মনে করেন টেন্ডুলকার। তাঁর মতে, টেস্টের কোনো দলই এখন ধারাবাহিক নয়, ‘আশির দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুর্দান্ত দল ছিল। নব্বইয়ের দশকেও ভালো দল ছিল তারা। সে সময় তারা ছিল ধারাবাহিক। এতটাই ধারাবাহিক ছিল, সবাই তাদের হারাতে চাইত। অস্ট্রেলিয়া দলে ছিল বিশ্বমানের নয়-দশজন ক্রিকেটার। দলের ৩-৪ জন ভালো খেললেই ম্যাচ বেরিয়ে যেত। এখন সে লড়াইগুলো আর নেই।’

হালের কিশোরেরা টি-টোয়েন্টি দেখে বড় হয় বলেই দর্শকদের চরিত্রগত পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন টেন্ডুলকার, ‘কিশোরেরা এখন আর টেস্ট দেখে না। তারা দেখে টি-টোয়েন্টি। তাই তারা টি-টোয়েন্টি ঘরানার শট খেলা শেখে। এ কারণেই দ্রুত বদলে যাচ্ছে আধুনিক ক্রিকেটের চরিত্র।’