default-image

পেটের পীড়ায় ছটফট করেছেন সারা রাত। স্লো ওভার রেটের কারণে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া ঝুলছে। তবু ম্যাচটি খেলতে ছিলেন মরিয়া। ভারতের কাছে মেলবোর্ন-ধাক্কাটা যে কাটিয়ে উঠতেই হতো! ইনজেকশন নিয়েও তাই নেমে পড়েছিলেন। তারপর যা হলো, আগেও বহুবার দেখিয়েছেন তিনি। তার পরও বিস্মিত হতে হলো আরেকবার। একেকটি শট সিরিঞ্জের সুচের মতোই বিঁধল ক্যারিবিয়ান বোলারদের। একেকটি বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে এবি ডি ভিলিয়ার্স যেন একটু একটু করে দূরে পাঠাচ্ছিলেন ভারত-দুঃস্বপ্নকে!
হতাশায় মুষড়ে পড়েছিলেন ১৩০ রানে হারের পর। সেটা পরে রূপ নিয়েছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞায়। খুব তেতে ছিলেন। ব্যাট হাতে তিনি অতিমানব হয়ে ওঠেন প্রায়ই, কিন্তু এমনিতে মাটির মানুষ। সেই তিনিও কাল একপর্যায়ে চটে গেলেন আন্দ্রে রাসেলের ওপর। ডি ভিলিয়ার্স কাল আসলে ছিলেন দলকে কক্ষপথে ফেরানোর মিশনে। ক্যারিবিয়ানরা নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। রোলারের চাপে পিষ্ট হতে হয়েছে তাঁদের!
গত মাসে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই একই ইনিংসে দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। দয়ামায়া দেখালেন না কালও! কিছু কিছু ম্যাচের বাস্তবতা বোঝাতে কিছু সংখ্যা আর তথ্যই যথেষ্ট। দ্রুততম দেড় শর রেকর্ড গড়ে ডি ভিলিয়ার্স ৬৬ বলে অপরাজিত ১৬২, ফারহান বেহারডিনের সঙ্গে ৩.২ ওভারে ৮০ রানের জুটি, শেষ ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬১, শেষ ১০ ওভারে ১৫০, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪০৮/৫ আর বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। সব মিলিয়ে বিব্রতকর একটি দিন একসময়ের প্রবল প্রতাপশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
ডি ভিলিয়ার্স সাইক্লোনে লন্ডভন্ড হওয়ার আগে এসসিজিতে ছিল শুধুই মৃদু হাওয়া। শুরুতে কুইন্টন ডি কককে হারানোর পর হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসি ছিলেন বেশ সাবধানী। এক শ ছুঁতেই লেগে যায় ২৪ ওভার! ১২৭ রানের জুটি গড়া দুজনকে এক ওভারেই ফিরিয়েছেন ক্রিস গেইল। পরে নিশ্চয়ই এ জন্য অনুতাপে পুড়েছেন, কী দরকার ছিল ডি ভিলিয়ার্সকে ডেকে আনার! ৩০ ওভারে রান যখন ১৪৭, ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন ২৭০-২৮০ হবে ভালো স্কোর। কিন্তু স্বাভাবিক হিসাবকে অস্বাভাবিক করে ফেলতে যে জুড়ি নেই ডি ভিলিয়ার্সের! বলতে হবে রাইলি রুশোর কথাও, ইনিংসের গতি বদলের শুরু তাঁর হাতেই (৩৯ বলে ৬১)। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের ওপরই কোপ পড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রথম ৫ ওভারে ৯ রান দিয়েছিলেন হোল্ডার, পরের ৩ ওভারের ৩১, শেষ দুই ওভারে ৩৪ ও ৩০!
ব্যাট হাতে পরে ফিফটি করে এক শর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে দলকে দেড় শ পার করিয়েছেন হোল্ডার। এই জখমটা সহজে সারার নয়!
ডি ভিলিয়ার্সে তছনছ রেকর্ড বই
ওয়ানডেতে দ্রুততম ফিফটি, সেঞ্চুরি ও দেড় শ—সবই এখন ডি ভিলিয়ার্সের
ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম দেড় শ ডি ভিলিয়ার্সের। ৬৪ বলে দেড় শ ছুঁয়ে ছাড়িয়েছেন শেন ওয়াটসনের ৮৩ বলের রেকর্ড
৫২ বলে ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম। ৫০ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড কেভিন ও’ব্রায়েনের।
অধিনায়ক হিসেবে নবম সেঞ্চুরিতে ডি ভিলিয়ার্স ছাড়িয়েছেন গ্রায়েম স্মিথের (৯) দক্ষিণ আফ্রিকান রেকর্ড।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে একটিও ডট বল খেলেনি দক্ষিণ আফ্রিকা, রান তুলেছে ৭২।
১০ ওভারে ১০৪ রান জেসন হোল্ডারের। ওয়ানডেতে অধিনায়কের রান দেওয়ার সেঞ্চুরি এই প্রথম।
হোল্ডারের ২১ বলে ৭৬ রান নিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। ২০০১ সালের পর ব্যাটসম্যান-বোলারের মুখোমুখি লড়াইয়ে সর্বোচ্চ। ২০০৫ সালে উপুল চন্দনার ৩৮ বলে ৬১ নিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
শেষ ২০ ওভারে ২৬১ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, শেষ ১৫ ওভারে ২২২, শেষ ১০ ওভারে ১৫০!
এই নিয়ে তিনবার ৪০০ হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের দলীয় চার শ এই নিয়ে দ্বিতীয়বার, ২০০৭ বিশ্বকাপে বারমুডার বিপক্ষে ভারত করেছিল ৪১৩/৩। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি প্রথম চার শ।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন