‘ডুডুলা’র চাপও নিচ্ছে না বাংলাদেশ

ডারবানে আপাতত নির্ভার সময়ই কাটছে বাংলাদেশ দলের। আগের রাতের বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় কাল অনুশীলনও করেননি ক্রিকেটাররা।

বৃষ্টিতে মাঠে অনুশীলন হয়নি, তাই জিম করেই দিন কাটিয়েছে দলছবি: প্রথম আলো

সকালেও ঝিরঝির বৃষ্টি ছিল। কিন্তু দুপুর না গড়াতেই ডারবানে ঝকঝকে রোদ। সমুদ্রপারের শহরের এই এক অদ্ভুত ব্যাপার। আবহাওয়ার মতিগতি বুঝতে পারাই মুশকিল। আগের রাতে ঝমঝমিয়ে নামা বৃষ্টিটার কাল দুপুরে নামগন্ধ পর্যন্ত নেই।

তবে সমস্যা যা হওয়ার, হয়ে গেছে রাতের বৃষ্টিতেই। চ্যাটসওয়ার্থ ক্রিকেট ওভালের সুন্দর মাঠও তাতে হয়ে পড়েছে ক্রিকেটের অনুপযুক্ত। বাংলাদেশ দলকে তাই কালকের অনুশীলনটা বাতিলই করে দিতে হয়েছে। সূচিতে আজ বিরতি থাকলেও এখন সেটিও বাতিলের খাতায়। প্রথম টেস্টের ভেন্যু কিংসমিডে আজ দুপুরে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল।

অনুশীলনের বিঘ্ন ঘটা নিয়ে অবশ্য খুব একটা চিন্তা নেই বাংলাদেশ শিবিরে। ওয়ানডে সিরিজে থাকা ক্রিকেটাররা তো খেলার মধ্যেই ছিলেন। যাঁরা শুধু টেস্ট খেলবেন, তাঁরাও কেপটাউন থেকে প্রায় দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প করে ডারবানে এসেছেন। এখন বরং উল্টো চিন্তা, অতিরিক্ত অনুশীলনে না সবাই আবার ক্লান্ত হয়ে পড়েন! কাজেই বিশ্রামটাকেও এখন টেস্টের প্রস্তুতিরই অংশ ধরা হচ্ছে এখানে।

ডারবানে বাংলাদেশ দল আছে উমলাঙ্গা এলাকায়। মূল শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে বলেই হয়তো হোটেলের আশপাশের পরিবেশটা মন কাড়ে। শপিং মল, ভালো ভালো রেস্টুরেন্ট, জিমনেসিয়াম—সবই হাঁটা দূরত্বে। হোটেলের জিমনেসিয়ামের পরিসর খুব বড় নয় বলে উল্টো দিকের শপিং মলের জিমনেসিয়ামও ব্যবহার করছেন ক্রিকেটাররা। জিমনেসিয়াম কর্তৃপক্ষকে বেশ উদারই মনে হলো। বাংলাদেশ দলকে জিমনেসিয়াম ব্যবহার করতে দেওয়ার বিনিময়ে টেস্টের কিছু টিকিট ‘উপহার’ পেয়েই খুশি তারা। কাল দুপুরে তামিম ইকবাল, তাইজুল ইসলাম, নুরুল হাসানরা বেরিয়ে আসছিলেন সেখান থেকেই। পেসার ইবাদত হোসেনকে দেখা গেল হন্তদন্ত হয়ে জিমের দিকে যেতে।

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মূল খেলোয়াড়দের আইপিএল গমন। নতুন যাঁরা দলে এসেছেন, তাঁদের অনেকের ব্যাপারে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ধারণা না থাকলেও প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আর পেস বোলিং কোচ বলতে গেলে সবাইকেই চেনেন। দলের কম্পিউটার বিশ্লেষক নাসির আহমেদও তাঁদের আগের খেলার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাচ্ছেন দলকে।

কাজেই অন্তত টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে খুব একটা চাপে নেই বাংলাদেশ দল। ডারবানের উইকেটের সবুজ রংও কারও মনে ভয় ধরাতে পারছে না। অবশ্য মাঠে নামার পর কী হবে, সেটি তো আগে থেকে বলার উপায় নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকায় আপাতত বাংলাদেশের যদি চিন্তার সামান্য কিছুও থাকে, সেটি ‘অপারেশন ডুডুলা’ নামের একটি সংগঠনের তৎপরতা। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বিদেশিদের প্রতি যথেষ্টই রাগ তাদের। সংগঠনটি মনে করে, এ দেশে অবৈধভাবে আসা মানুষ স্থানীয়দের কাজের সুযোগ–সুবিধা কমিয়ে দিচ্ছে এবং এ সমস্যার সমাধান সরকার করছে না। অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে তাই তারা নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। দোকানে, অফিসে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক নন, এমন মানুষদের কাগজপত্র পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখছে। এসবের নামে সুযোগসন্ধানীরা কোথাও কোথাও মারধর আর দখলদারিত্বের ঘটনাও নাকি ঘটিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংস্কারবাদী সংগঠনটির মূল নেতা এনলানলা ‘লাক্স’ দামিনির একটা গ্রহণযোগ্যতাও অবশ্য তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অন্য এক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এখন জেলে থাকলেও তাঁর সংগঠনের তৎপরতা টুকটাক চলছেই। অন্য দেশের মতো এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও তাই কিছুটা সাবধান থাকতে হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দলের ‘অপারেশন ডুডুলা’ নিয়ে ভয়ের কারণ নেই। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ তো কাল এ সংগঠনের কাজকারবারের কথা শুনে আকাশ থেকেই পড়লেন, ‘তাই নাকি! আমাদের তো আসলে এগুলো জানারও কথা নয়। এসব নিয়ে ভেবে আমরা কিছু করতেও পারব না।’

ডারবানে ‘চাপ’ শব্দটা যেন কোনোভাবেই ঠাঁই পাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের অভিধানে।