বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তবে সেই নাটকের বড় চরিত্র বোধহয় নওয়াজই। শেষ বলে যখন ২ রান দরকার তখন মাহমুদউল্লাহর বলে স্টান্স নিয়েও শেষ মুহূর্তে তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন। সেখানেই ঘটনার সমাপ্তি ঘটলে ঠিক ছিল, কিন্তু বিতর্ক তৈরি না হলে নাটক জমবে কীভাবে! নওয়াজ নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সেই বলে ‘বোল্ড’ হলেন। গোটা গ্যালারি নেচে উঠল বাংলাদেশের জয়ের আনন্দে। কিন্তু নওয়াজ যে দুই হাত তুলে জানিয়ে দিলেন, তিনি যে ব্যাটিংই করেননি।

অনেকেই বলছেন, স্টান্সে দাঁড়িয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ‘অসততা’ দেখিয়েছেন নওয়াজ। কিন্তু ক্রিকেটের আইনে যত দূর যা বলা আছে, সেটি যাচ্ছে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের পক্ষেই। কেউ কেউ আবার বলছেন, নওয়াজ নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার বলে বোল্ড হওয়ার পর বাংলাদেশ ইচ্ছা করলেই আম্পায়ারের কাছে ম্যাচ শেষ করার আবেদন করতে পারত। উইকেটকিপার নুরুল হাসান তো উল্লাস শুরুই করে দিয়েছিলেন। তাঁর হাবভাবও ছিল অনেকটা তেমনই।

default-image

কিন্তু মাহমুদউল্লাহ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই মেনে নেন, নতুন করে শেষ বলটি করেন নওয়াজকে। নতুন ডেলিভারির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে নেওয়াজ পাকিস্তানকে এনে দেন শ্বাসরূদ্ধকর এক জয়। এ জায়গায় যে মাহমুদউল্লাহ খেলোয়াড়ি মানসিকতার নজির রেখেছেন, সেটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, পাল্টাপাল্টি বিতর্কও নেই।

মাহমুদউল্লাহ বলটি করেছিলেন ক্রিজের বেশ পেছন থেকে। প্রায় আম্পায়ারের সমান্তরালে দাঁড়িয়ে করা সেই বলটি ‘দেখতে পাননি’ বা ‘পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না’ এ কারণ দেখিয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন নওয়াজ। স্টান্স নিয়ে সবে মাথা উঁচু করেছেন, ঠিক সেই সময়ই মাহমুদউল্লাহ বলটি করেছিলেন। নওয়াজের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা এখানে করতেই হচ্ছে। কারণ, কয়েক মুহূর্ত দেরিতে কাজটা করলে হয়তো আম্পায়ার আর ডেড বল ঘোষণা করার কোনো কারণই খুঁজে পেতেন না। নওয়াজ বোল্ড হয়ে যেতেন আর তিনি দোষী হতেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাজে শট খেলে আউট হওয়ার দোষে।

default-image

ক্রিকেট আইনের ২০.৪.২.৫ ধারাটি নেওয়াজের পক্ষেই যাচ্ছে। সেখানে বলা আছে, ‘যদি বল করার সময় ব্যাটসম্যান প্রস্তুত না থাকেন এবং বল করার পর সেটা খেলার চেষ্টা না করেন, তাহলে সে বল “ডেড বল” হিসেবে গণ্য করা হবে। আম্পায়ার যদি বিশ্বাস করেন, ওভাবে সরে যাওয়ার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে, তাহলে সে বলকে ওভারের অংশ হিসেবে ধরা হবে না।’

কাল নানা পক্ষের কথা শোনা গেছে। কিন্তু যাকে নিয়ে এত ঘটনা, এমন নাটক, নানা বিতর্ক, তিনি কী বলছেন। পাকিস্তানি সাংবাদিক সাজ সাদিক তাঁর টুইটার পেজে নেওয়াজের বক্তব্যটি তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি যা বলছেন, তাতে অবশ্য পরিস্কার কিছুই উঠে আসে না। তাঁর সেই মন্তব্য তিনি নিজের প্রস্তুত না থাকার বিষয়টিও খোলাসা করেননি, ‘আমি পয়েন্টের দিকে তাঁকিয়ে স্টান্স নিচ্ছিলাম। হঠাৎ আমি বোলারকে বল করতে দেখি। বল ছোড়ার পর তা যখন পিচে ড্রপ খেয়ে আমার দিকে আসছিল, ঠিক ওই মুহূর্তে আমি দাঁড়িয়ে গিয়ে তাঁকে থামিয়ে দিই।’

নওয়াজের এ বক্তব্যের পর বিতর্ক কিন্তু চলতেই থাকবে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন