বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২ উইকেটে ১৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ আজ প্রথমে তাকিয়ে ছিল মাহমুদুল হাসানের ব্যাটের দিকে। প্রস্তুতি ম্যাচে অর্ধশতক পাওয়া উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই তুলে নিয়েছিলেন ২ ম্যাচে গড়ানো আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। সেটিকে শতকে রূপ দিতে পারবেন কি না, দেখার ছিল সেটি। কিন্তু ৭০ রান নিয়ে দিন শুরু করা মাহমুদুল দিনের তৃতীয় ওভারের শেষ বলেই প্যাভিলিয়নে।

দিনের শুরু থেকে নড়বড়ে মাহমুদুল ইনিংসে নিল ওয়াগনারের তৃতীয় শিকার হলেন হেনরি নিকোলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে। প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই কখনো পরাস্ত হয়েছেন, কখনো বল থেকে শরীরকে দূরে রেখে ব্যাট চালিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত গা থেকে দূরের বল খেলতে গিয়েই ক্যাচ দিলেন!

দলকে দুই শ রান পার করিয়ে দিতেই মুশফিকুর রহিমও ফিরে গেলেন। ট্রেন্ট বোল্টের বলে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন, বল তাঁর ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্পে। ইনিংসে ওয়াগনারের বাইরে প্রথম নিউজিল্যান্ডের অন্য কোনো বোলার উইকেট পেলেন! দিন শেষে বাংলাদেশের ৬ উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন ওয়াগনার আর বোল্টই, বোল্টের নামের পাশেও ওয়াগনারের সমান ৩ উইকেট। মুশফিকের পর বোল্টের দ্বিতীয় আর তৃতীয় শিকারই বাংলাদেশের যা একটু অতৃপ্তির কারণ।

default-image

২০৩ রানে মুশফিক ফেরার পর লিটন আর মুমিনুলের জুটি যে আরও বেশি কিছুর, আরও দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছিল! লিটন শুরু থেকেই রাজসিক ঢংয়ে ব্যাট করেছেন, শুরুর দিকে ভুগলেও মুমিনুল আস্তে আস্তে গুছিয়ে নিয়েছেন। ৪ উইকেটে ২২০ রান নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি মুমিনুল-লিটনের সৌজন্যেই। চা বিরতির আগেই দুজনের অর্ধশতক হয়ে গেল! মধ্যাহ্নভোজ থেকে চা – দুই বিরতির মাঝে দ্বিতীয় সেশনে ২৬ ওভারে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ৮৭ রানের।

নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২১ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় সেশন শুরু করা বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ছুঁয়ে ফেলে শেষ সেশনের পঞ্চম ওভারেই। তখন স্বপ্ন ছিল, লিডটা অনেকদূর এগিয়ে নেবেন মুশফিক-লিটন। স্বপ্ন ছিল, দুজনই পাবেন শতকের দেখা।

রানরেটে চোখ রাখলেও দুজনের আরও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকা দরকার ছিল। এখন পর্যন্ত আড়াইয়ের আশপাশে রানরেট রেখে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের রান পেরিয়ে যাওয়ার পর তাই ভাবা হচ্ছিল, এই টেস্টে জয়ের আশা দেখতে হলে রানের গতি বাড়াতে হবে, আর সে কাজটি শুরু করতে হবে লিটন-মুমিনুলকেই। সেটি শুধু তাঁরা সেট ব্যাটসম্যান বলেই নন, কাগজে-কলমের হিসেবে তাঁদের পর সেভাবে জুটি গড়ার মতো সুযোগ বাংলাদেশের আর থাকে না। তাঁদের পরই যে লোয়ার-মিডল অর্ডার আর লোয়ার অর্ডারের খেলা শুরু হয়ে যাবে।

default-image

কিন্তু কোনো স্বপ্নই সেভাবে পূরণ হলো না। দলকে ৩৬১ রানে রেখে মুমিনুল ফিরলেন ব্যক্তিগত ৮৮ রানে। ব্যক্তিগত ৯ রানে ওয়াগনারের বলে মুমিনুলকে এলবিডব্লু দিয়েছিলেন মাঠের আম্পায়ার, তখন তৃতীয় আম্পায়ারের রিভিউতে ওয়াগনারের নো বল ধরা পড়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত এলবিডব্লু হয়েই ফিরলেন মুমিনুল, তবে বোলারের নাম এবার ট্রেন্ট বোল্ট। বাংলাদেশের লিড তখন মাত্র ৩৩ রান।

তখনো লিটন ছিলেন বলে তবু স্বপ্ন একেবারে ভেঙে যায়নি, কিন্তু ২৯ বল পর তা-ও শেষ। ইনিংসজুড়ে চোখধাঁধানো শট, প্রয়োজনে আগ্রাসন আর দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখানো লিটন ফিরলেন সম্ভবত ইনিংসের প্রথম বাজে শটেই। বোল্টের বলে গায়ের অনেক দূরে রেখেই অলস শট খেলেছেন, ব্যাটের কানায় লেগে বল উইকেটকিপারের হাতে। লিটনও শতকের সম্ভাবনা জাগিয়ে আউট আশির ঘরে, ৮৬ রানে। বাংলাদেশের লিড তখন মাত্র ৪২ রান!

দিন শেষে যে আর উইকেট পড়েনি, সপ্তম উইকেটে ৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে ৪০০ পার করিয়ে দিয়ে এসেছেন মিরাজ ও ইয়াসির, এ-ও কম নয়। কিন্তু এঁদের একজন আউট হলেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের লেজ বের হয়ে যাবে। প্রাসঙ্গিক তথ্য, আর ৪ ওভার পরই তৃতীয় নতুন বল পাবে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বড় লিড নেওয়ার আশার পথে সেটিও চোখ রাঙিয়ে তাকায়।

সে চোখ রাঙানির কারণেই নজর বারবার ফেরে ওই ২৯ বলের ব্যবধানে যাওয়া দুই উইকেটে। তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে দেয় না!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন