কেউ বলবেন, বিশ্বকাপের আগে ‘এ কী কথা শুনি তব’ মাশরাফির মুখে! কারও-বা মনে হতে পারে, বাংলাদেশ অধিনায়কের আরও সাহসী হওয়া উচিত। হতাশায় ভেঙে না পড়ে বুক বাঁধা উচিত আশায়। তা একের পর এক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যাওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার চেয়ে এসব কাজ বাংলাদেশ দলের আর কেউ ভালো পারে বলে মনে হয় না। তার পরও ভেতরের হতাশাটা আর কত লুকিয়ে রাখবেন অধিনায়ক! শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের কাছেও হারের পর তাই বলে দিলেন, ‘ফলাফলের দিকে তাকালে জিরো...।’
সিডনির ব্ল্যাকটাউন অলিম্পিক পার্কে কাল ম্যাচ শেষে প্রশ্নটা করেছিলেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিক। অনানুষ্ঠানিক দুটি ম্যাচের পর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতেও হেরেছে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের আগে তাহলে প্রস্তুতিটা কেমন হলো? মাশরাফি ওই কথা এরই উত্তরে, ‘ফলাফলের দিকে তাকালে জিরো। অনুশীলনের উদ্দেশ্য ছিল যে যতটুকু পারে নিজেকে প্রস্তুত করবে। সেদিক দিয়ে আমরা নিজেদের কীভাবে তৈরি করতে পেরেছি, তার ফলাফল এখনো কিছুই দেখাতে পারিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব ভালো খেলেও জিততে পারিনি। আর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেললাম একেবারেই বাজে।’ অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে কীভাবে বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং করতে হবে তা এই কদিনের অনুশীলনে সবাই বুঝে গেছে বলে বিশ্বাস মাশরাফির। কিন্তু সেটিকে কেন কেউ কাজে লাগাতে পারছে না, হতাশাটা তা নিয়েই।
প্রস্তুতি ম্যাচে মূল লক্ষ্য ছিল সবাইকে দেখা। প্রতিকূল কন্ডিশনের সঙ্গে কে কেমন মানিয়ে নিতে পারে, সেটা যাচাই করা। কোচের খাতায়, কম্পিউটার বিশ্লেষকের ল্যাপটপে নিশ্চয়ই সেসব টোকা হয়ে গেছে। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের পর্ব থেকে শূন্য হাতে বিশ্বকাপে যাওয়াটা দলের জন্য অশুভ লক্ষণই মনে হচ্ছে অধিনায়কের। তার পরও তিনি আছেন ভুল থেকে শেখার আশায়, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে জিতলে বেশি ভালো হতো। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও অন্তত একটা জয় নিয়ে যেতে পারতাম। আমি জানি এটা দলের জন্য ভালো লক্ষণ না। তবে এই হারে সবাই নিশ্চয়ই মর্মাহত। এটা হলে ভালো ফলাফল আসাটা সময়ের ব্যাপার।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪৭ রান মাশরাফিকে দারুণ আশাবাদী করে তুলেছিল। পাকিস্তানের বোলিংয়ের সামনে যেখানে অন্য অনেক দেশের ব্যাটসম্যানেরই সংগ্রাম করতে হয়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের আড়াই শর কাছাকাছি রান ভালো কিছু তো অবশ্যই! কিন্তু ঘোর কাটতে সময় লাগল না। পরের ম্যাচেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই শর নিচে অলআউট হয়ে ৪ উইকেটে হারের পর সেই মাশরাফিই বলেছেন, ‘আমরা মানসিকভাবে তৈরি হতে পারছি না। আমার মনে হয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া। সেটা করতে না পারলে অনেক ভুগব।’
পরিস্থিতি এমন যে, প্রস্তুতি ম্যাচের হার দলের মনোবল কমাবে না, এমন প্রতিশ্রুতি মাশরাফিও দিতে পারছেন না। এমনকি শেষ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচকে দলের সবাই কতটা ‘সিরিয়াসলি’ নিয়েছে, সেটা নিয়েও নাকি চিন্তিত তিনি! অধিনায়ককে তার পরও আশাবাদী হতে হয়। মাশরাফিও শোনালেন, ‘আমরা যে উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি, সেটা ঠিক থাকলে আমার বিশ্বাস ভালো কিছু করতে পারব। এ রকম পারফর্ম করলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোয় সেটার প্রভাব পড়বে। তবে হাতে আরও চার-পাঁচ দিন সময় আছে। আমার বিশ্বাস, মূল ম্যাচে মানসিক ও শারীরিকভাবে সবাই আরও বেশি প্রস্তুত থাকবে।’
কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিশ্বকাপের দুই সপ্তাহ আগেই অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার পরও কিনা বিশ্বকাপটা শুরু করতে হচ্ছে শূন্য থেকে! এখন একটাই আশা, মাশরাফির বিশ্বাসটা সত্যি হোক। নয়তো...।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন