default-image

হাবিবুল বাশার নিজেও একটা ইতিহাসের সাক্ষী। শততম ওয়ানডেতে জয়ের ইতিহাস। ২০০৪-এর ২৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে ১৫ রানে হারানো ম্যাচে হাবিবুল ছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।
কাল যখন বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও একটি ইতিহাসে ঢুকে পড়ল, হাবিবুল তখনো ক্রিকেটের সঙ্গেই। তবে অধিনায়ক নন, এখন তাঁর ভূমিকা নির্বাচকের। ঐতিহাসিক জয়টি দেখলেন ঢাকায় নিজের বাসায় বসে।
কলম্বোর উৎসবের রেণু তবু ছুঁয়ে গেল হাবিবুলকেও। মর্যাদার দিক দিয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট জয়কে এগিয়ে রাখছেন তাঁর নেতৃত্বে জেতা শততম ওয়ানডে থেকেও, ‘টেস্ট জয় সব সময়ই বিশেষ কিছু। এর সঙ্গে অন্য কিছুরই তুলনা হয় না। টেস্টে দেশের বাইরে আমাদের ভালো কিছু করার দরকার ছিল। সে জন্যই জয়টা বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।’
শততমের উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখাটা যেহেতু তাঁর হাতেই শুরু, হাবিবুল ক্ষণিকের জন্য ফিরে গেলেন ২০০৪-এর জয়োৎসবে। ‘জয়ের পরের দিনই ছিল সিরিজের শেষ ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচ জিতে আমরা এত আনন্দ করছিলাম যে, সেটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। সৌরভ গাঙ্গুলী এসে বলল, “তোমাদের কিন্তু কালও ম্যাচ আছে”।’
স্মৃতির সাগরে বেশিক্ষণ ডুবে না থেকে হাবিবুল দ্রুত ফিরে আসেন বর্তমানে। মনে যে বাজছে শততম টেস্ট জয়ের আনন্দসংগীত! একসময় শ্রীলঙ্কা সফর মানেই ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। কখনো মুত্তিয়া মুরালিধরন, কখনো কুমার সাঙ্গাকারা কখনো বা মাহেলা জয়াবর্ধনের আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়েছে বাংলাদেশ। হাবিবুল নিজেও সে সময়ের একজন ‘ভুক্তভোগী’ বলেই হয়তো আনন্দটা বেশি, ‘শ্রীলঙ্কায় আমাদের অনেক কঠিন সময় গেছে। সে দিক থেকেই এই জয় বেশি তৃপ্তির।’
কলম্বো টেস্টের প্রথম দিন শেষেই আশার দোলায় দুলছিল হাবিবুলের মন, ‘প্রথম দিনে ওরা (শ্রীলঙ্কা) যখন বেশি রান করতে পারল না, তখনই মনে হচ্ছিল এই টেস্টে ভালো কিছু হতে পারে। কারণ পি সারা ওভালের উইকেট দ্বিতীয়, তৃতীয় দিনেও ভালো থাকে।’ দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ১৯১ রান নির্ধারিত হওয়ার পর বিশ্বাস আরও জোরালো হয়, ‘দুই শর নিচে টার্গেট হওয়ার পর মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম যে, জিতছি। আমাদের মিরাজ পর্যন্ত সবাই ভালো ব্যাটিং করে। সবাই খুব ভালো ফর্মেও আছে।’
প্রথম দিন নতুন বলে মোস্তাফিজুর রহমান আর শুভাশিস রায়ের বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। টেস্টে নতুন বলে এত ভালো বোলিং নাকি কমই দেখেছেন তিনি। নির্বাচক হাবিবুলের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন অভিষেক টেস্ট খেলা মোসাদ্দেক হোসেনও। তাঁর প্রসঙ্গ উঠতেই ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের একটি ঘটনার কথা বললেন সাবেক অধিনায়ক। ম্যাচের আগের দিন সবার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলছিলেন। মোসাদ্দেকের পর্ব এলে তাঁর রেকর্ড হাতে নিয়ে নাকি হাবিবুল বলেছিলেন, “তোমাকে আলাদা করে বলার কিছু নেই।” তাঁর দৃষ্টিতে মোসাদ্দেকের সবচেয়ে বড় গুণ বড় ইনিংস খেলতে পারা। ভবিষ্যতে ব্যাটিং অর্ডারের আরও ওপরের দিকেও মোসাদ্দেককে দেখতে পাচ্ছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন