default-image

পেশাদারির আবরণে মোড়া আধুনিক ক্রীড়ার ভুবনে আয়োজন করে দুঃখ অনুভবের ঘোষণা আর কে দেন! 
এবি ডি ভিলিয়ার্স ওই আবরণটা খুব ছিঁড়তে পারেন। নিজেদের সঙ্গে সেঁটে থাকা সবচেয়ে বিব্রতকর তকমাকে আপন করে নেন। অনায়াসেই বলে দেন, ‘হ্যাঁ অতীতে আমরা চোক করেছি।’ দল বাজেভাবে হারার পর মুখস্থ বুলি না আওড়ে বলতে পারেন, ‘পরের ম্যাচের ভাবনা পরে, আপাতত রুমে ফিরে এক কোনায় বসে দুঃখ অনুভব করতে চাই।’ পাঁচ দিন আগের কথা সেটি, ভারতের কাছে ১৩০ রানে হারার পর।
পৃথিবীতে এক দল মানুষ আছেন, হতাশা-দুঃখ-কষ্টে নুয়ে পড়েন। আরেক দল ঘুরে দাঁড়ায় প্রবল দাপটে। ডি ভিলিয়ার্সের ‘দুঃখ অনুভব’ আসলে ছিল মনে জমা গুমোট মেঘ। ঝড়ের পূর্বাভাস। কাল সেই ঝড় বয়ে গেল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। তাতে লন্ডভন্ড ক্যারিবীয়রা। ওলট-পালট রেকর্ড বই। দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর এখনো তরতাজা। দেড় মাসও হয়নি, ওয়ান্ডারার্সে খেলেছিলেন ৪৪ বলে ১৪৯ রানের বিস্ময়কর ইনিংস। কাল গড়লেন দ্রুততম দেড় শ রানের ইনিংস। ৩০তম ওভারে উইকেটে গিয়েও নামের পাশে অপরাজিত ১৬২। বল লেগেছে যে মাত্র ৬৬! তাতে ১৭ চার, ৮ ছয়। যথারীতি দারুণ সব ক্রিকেট শটের পাশাপাশি ছিল চোখধাঁধানো সব অপ্রথাগত ও উদ্ভাবনী শট। অফ স্টাম্পের দেড় হাত বাইরের বল যেমন ফাইন লেগ দিয়ে পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে, এক বল পরই লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে চার থার্ডম্যান দিয়ে! ‘বিধ্বংসী বা তাণ্ডব’, তাঁর ব্যাটিংয়ের বর্ণনায় এসব লেখা হলো কতবার! ‘রোবট’, ‘অতিমানব’ কম বলা হয়নি। এসবও এখন আর যথেষ্ট নয়। বিশেষণ বলুন বা তুলনা, ডি ভিলিয়ার্সের উপযুক্ত মানদণ্ড এখন শুধুই তিনি!
৫২ বলে সেঞ্চুরি করেছেন, মাত্র দুই বলের জন্য ছুঁতে পারেননি কেভিন ও’ব্রায়েনের গড়া বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ৩১ বলে যিনি সেঞ্চুরি করতে পারেন, ৫২ বলের সেঞ্চুরি তাঁর জন্য শম্বুকগতি। সেটা বুঝেই কিনা, পরের পঞ্চাশ ছুঁলেন মাত্র ১২ বলে। দ্রুততম দেড় শ রানের আগের রেকর্ডকে অতীত ১৯ বল কম খেলে। ৬৪ বলে ১৫০! শেন ওয়াটসনের গড়া আগের রেকর্ড ছিল ৮৩ বলে। ওয়াটসনের রেকর্ডের সঙ্গে আপাতত অতীত বাংলাদেশের বিব্রতকর অভিজ্ঞতাও। ওয়াটসন ওই ঝড় তুলেছিলেন মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষেই!
ডি ভিলিয়ার্সের মন খারাপের কথা তো শুনলেন শুরুতেই। মন তরতাজা হয়ে না উঠতেই শরীর খারাপ। ম্যাচের আগের রাতে ঘুমাতেই পারেননি পেটের পীড়ায়। সারা রাত বিছানায় ছটফট করে সকালে ইনজেকশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। জেসন হোল্ডার চাইলে এখন সেই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতেই পারেন! ক্যারিবীয় অধিনায়কের ২১ বলে ৭৬ নিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। শেষ ২ ওভারে ৬৪ রানসহ ১০ ওভারে গুনেছেন ১০৪ রান। বিনিদ্র ডি ভিলিয়ার্স শেষ পর্যন্ত মাঠে নামলেন বলেই তো গত রাতটা নির্ঘুম কাটার কথা হোল্ডারের! ক্ষণিকের জন্য তন্দ্রামতো এলেও দুঃস্বপ্নে হানা দেওয়ার কথা ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং। শুধু হোল্ডারই বা কেন, গোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কাছেই কালকের জখমটা বয়ে বেড়াবে অনেক দিন। ডি ভিলিয়ার্সের হাত ধরে এসেছে একগুচ্ছ রেকর্ডও। বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার দলীয় চার শ, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বোচ্চ ইনিংস, শেষ ২০ ওভারে ২৬১ রান, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়...তালিকা চলতেই থাকবে।
ইনিংস শেষে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, মাইক্রোফোন হাতে এগিয়ে গেলেন মার্ক নিকোলাস, ‘তোমার প্রিয় খাবার কী, বলো তো!’ ডি ভিলিয়ার্সের ক্লান্ত-শ্রান্ত, ঘর্মাক্ত মুখে ফুটল একটু হাসি, ‘সি ফুড, পাস্তা, পিৎজা।’
দুনিয়াজুড়ে ব্যাটসম্যানরা এখন না দলবেঁধে এসব খাওয়া শুরু করেন! সূত্র: ক্রিকইনফো, স্টার স্পোর্টস, এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন