default-image

এক ওয়ানডের অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপ দলে। ঠিক হলো? প্রশ্ন অনেক। আমি বলি, খেলার সুযোগই পেয়েছে একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছে, নিয়েছে ৪ উইকেট। তো আর কী করতে পারত তাইজুল!
বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় থাকলে আরও আগে থেকে হয়তো ওকে খেলানো যেত। তবে সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। ওর হাতেও সেটা নেই। যেটা হাতে ছিল, তাতে ও এক শতে এক শ। এক ম্যাচ খেলেই এমন করেছে যে বিশ্বকাপ দলে রাখতে হয়েছে। ওয়ানডে অভিষেকে অমন কিছু করে তাইজুল অবশ্য আমাকেও একটু চমকে দিয়েছে। আমি বলব, আরও অনেককেই চমকে দিয়েছে। তাইজুলকে সবাই বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচের বোলার ধরে নিয়েছিল। তার মানে এই নয় যে ওয়ানডে খেলতেই পারত না। তবে অভিষেকেই এত কিছু তাইজুল নিজেও নিশ্চয়ই ভাবতে পারেনি!
তাইজুল আমার নজর কেড়েছিল প্রথম বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচেই। চিনতাম কয়েক মৌসুম ধরেই। তবে গত বিসিএলে যখন ৭-৮টা করে উইকেট নিচ্ছিল, ভালো করে খেয়াল করতেই হলো ওর বোলিং। দেখলাম ক্লাসিক্যাল একজন বাঁহাতি স্পিনার পেতে যাচ্ছি আমরা। জটিলতাহীন সুন্দর বোলিং অ্যাকশন, ফ্লাইট-লুপ দেয় দারুণ, ফ্লাইটের কারণে বাড়তি বাউন্স পায়। তখনই বুঝেছি এই ছেলে অনেক দূর যাবে। ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিকে চমকে গেলেও তাই টেস্ট ক্রিকেটে ওর সাফল্যে চমকাইনি। এভাবে অভিষেকে ৫ উইকেট বা পরেই ৮ উইকেট পেয়ে দলকে জেতাবে, এতটা ভাবা যায় না আগেই। তবে জানতাম, ওর বোলিংয়ের যে ধরন, টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পাবেই।

ওয়ানডের শুরুটা ভালো করলেও সত্যি বলতে, টানা সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হবে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের উইকেটে এবং চারজন ফিল্ডার যখন বাইরে। তাইজুল মার খেলেও ফ্লাইট দিয়ে যায়, এটা দারুণ গুণ। কিন্তু নিয়মের এত বাধ্যবাধকতা ও ভারী ব্যাটের যুগে কঠিন সময়ও আসবে অনেক। সেটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে তাইজুলকে। বিশ্বকাপে যদি একাদশে সুযোগ পায়, তাইজুলকেও আমার পরামর্শ থাকবে সানির মতো। সানিকে হয়তো অনেক সময় শুরুর দিকেও বোলিংয়ে আসতে হতে পারে। তবে তাইজুলের জন্য শুরুতে বা শেষে আসা কঠিন হবে। ওকে মাঝের ওভারেই বোলিং করতে হবে এবং রান আটকাতে হবে। ওভারপ্রতি ৪ রান করেও দিয়েও যদি শেষ করতে পারে, আমি বলব খুব ভালো সেটি।
তাইজুলের প্রসঙ্গে লিখনও (জুবায়ের হোসেন) এসে যায়। বিশেষজ্ঞ থেকে আমজনতা, অনেকেই বলছেন লিখনকে নিলে ভালো হতো। একজন লেগ স্পিনার বৈচিত্র্য বাড়াত, সন্দেহ নেই। কিন্তু লিখনের জন্য সেটি খুব ঝুঁকির হতো। অনেক সম্ভাবনাময় বোলার, পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে সামনে। শুরুতেই বিশ্বকাপের মতো আসরে চাপের সঙ্গে যদি মানিয়ে নিতে না পারত, যদি খুব খারাপ কিছু করত, তাহলে ওর আত্মবিশ্বাসে বড় চোট লাগত। ভালোও করতে পারত। কিন্তু ঝুঁকি নেওয়া হতো। তার চেয়ে আস্তে আস্তে গড়ে তুলুক নিজেকে।
তাইজুলকেও এই কথা বলব। খারাপ করলেও যেন ভেঙে না পড়ে। ব্রিসবেনে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করতে পারেনি। কিন্তু আশা করি, শিখেছে অনেক। বিশ্বকাপেও অনেক অনেক কিছু শিখুক। ক্যারিয়ারের মাত্রই শুরু। অনেক সাহসী হয়ে ফিরুক, অনেক শিখে আসুক।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন