শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। ছবি: এএফপি

বেতন-ভাতা নিয়ে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সঙ্গে বড় ধরনের সমস্যা চলছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের। নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বেতন কমায় সই করতে রাজি হননি ক্রিকেটাররা। কিন্তু এই সমস্যা আজ দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে কিছুই টের পেতে দেননি শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন চুক্তিতে বেতন-ভাতা নিয়ে যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে, ম্যাচে তার প্রভাব পড়বে কি না—এ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় করুনারত্নেকে। লঙ্কান দলপতির উত্তরে বোঝা গেল, তিনি সংবাদ সম্মেলনে শুধু দ্বিতীয় টেস্ট নিয়েই কথা বলতে চান। চাইলে আরেকটু আন্দাজ করে নেওয়া যায়। বেতন-ভাতায় যত টান-ই পড়ুক না কেন, শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল মাঠে জয়ের জন্যই খেলবে, এমন সুরও বেরিয়ে এল করুনারত্নের কণ্ঠে, ‘আমরা সব সময় জেতার জন্য খেলি। তাই আমরা ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের জন্যই খেলব...।’ জয়ের ব্যগ্র বাসনা জানানোর পর করুনারত্নে কথা বলেন পিচ নিয়ে (প্রথম টেস্টের), যেখানে পেসাররা তো বটেই, স্পিনাররাও সাহায্য পাননি, তাই প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়া যায়নি, ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন
default-image

পাল্লেকেলেতে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির সুবাস পেয়েছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে ৯০ রানে আউট হন, দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ৭৪ রানে। দ্বিতীয় টেস্টে তাই স্বাভাবিকভাবেই তামিমকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকবে শ্রীলঙ্কার। করুনারত্নে সে কথাই জানালেন, ‘আমাদের ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও রমেশ মেন্ডিস আছে, দুজনই অফ স্পিনার। গত কয়েক সিরিজে তামিম অফ স্পিনারদের ভালো খেলেনি। প্রথম পাঁচ-দশ ওভারে সুরঙ্গা লাকমলেরও সুযোগ আছে তাকে আউট করার। তামিম যেভাবে খেলে, তাতে এলবিডব্লুর ভালো সুযোগ থাকে। তাই পরিকল্পনা তো আছেই। তাতে কাজ না হলে আমরা তাকে রক্ষণাত্মকভাবে খেলতে বাধ্য করার চেষ্টা করব।’

শ্রীলঙ্কায় তামিমের ব্যাট বরাবরই চওড়া। এ পর্যন্ত ৪ টেস্টে তাঁর গড় ৬২.৮৫। যদিও করুনারত্নে তাঁকে আউট করার পথ বের করে ফেলেছেন। নিজের পরিকল্পনার কিছু অংশ তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘তামিম দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করে এবং বোলারদের চেপে ধরতে দেয় না। উল্টো চাপে ফেলে বোলারদের। অর্থাৎ আমরা রান করার পথ বন্ধ করতে পারলে তার ভুলের সম্ভাবনা বাড়বে। প্রথম টেস্টে আমরা তাকে আউট করতে গিয়ে প্রচুর রান দিয়েছি। এ ম্যাচে তার রানের জায়গাগুলো বন্ধ করে রক্ষণাত্মকভাবে খেলতে বাধ্য করতে চাই।’

সেই পাল্লেকেলেতেই কাল থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম টেস্টে পাঁচ দিন খেলে ড্র করেছে দুই দল। মোট ৪০ উইকেটের মধ্যে দুই দলের বোলাররা মিলে নিতে পেরেছেন ১৭ উইকেট। ডাবল সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি ও ফিফটির কমতি রাখেননি দুই দলের ব্যাটসম্যানরা। নিষ্প্রাণ উইকেটে রান উঠেছে প্রচুর, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার লেশমাত্র ছিল না! স্বাগতিক দল হওয়ার সুবিধা নিয়েও কিন্তু করুনারত্নে জানালেন, দ্বিতীয় টেস্টে তিনি এমন উইকেট দেখতে চান না।

‘প্রথম টেস্টে আমরা ব্যাটিংবান্ধব উইকেট পেয়েছি। যদিও আমরা অন্য কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে উইকেটের আচরণ প্রত্যাশামতো হয়নি। কিন্তু এই ম্যাচে (দ্বিতীয় টেস্ট) আমরা ৫০-৫০ উইকেট দেখার আশা করছি, যেখানে ব্যাটসম্যানরা শুরুতে (দুই দিন) সাহায্য পাবেন, এরপর স্পিনাররা দাপট ছড়াবেন বাকি তিন দিনের বেশির ভাগ সময়। এটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে’—সংবাদ সম্মেলনে বলেন করুনারত্নে।

বিজ্ঞাপন
default-image

দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট মাথায় রেখে দলে ভারসাম্য রাখতে চাচ্ছেন করুনারত্নে। প্রথম টেস্টে তিন পেসার ও দুজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় টেস্টে হিসাবটা উল্টে ফেলতে চান করুনারত্নে—তিন স্পিনার ও দুই পেসার। এ নিয়ে লঙ্কান দলপতি বললেন, ‘(প্রথম টেস্টে) উইকেট ধীরে ধীরে খুব মন্থর হয়ে এসেছে। তাই আমার মনে হয় না এমন উইকেটে স্পিনারদের মতো ভূমিকা রাখতে পারবে ফাস্ট বোলাররা। তাই আমরা তিন স্পিনার, দুজন পেসার নিয়ে নামার কথা ভাবছি। এর পাশাপাশি দলে ভারসাম্যও দরকার। তিন পেসার নিলে বাকি দুই স্পিনার শেষ টেস্টের মতো খেলতে পারবেন না। তাই দলে ভারসাম্য এনে এ ম্যাচে মাঠে নামতে হবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন