তামিমদের আক্রমণাত্মক হওয়ার পরামর্শ  দিয়েছেন ব্যাটিং জন লুইস।
তামিমদের আক্রমণাত্মক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যাটিং জন লুইস।ছবি: এএফফি

ক্রাইস্টচার্চের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৭১ রানের সংগ্রহটা খুব মন্দ ছিল না। কিন্তু স্কোরবোর্ডে রান উঠতে পারত আরও। সংগ্রহটা তিন শর কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত। কিন্তু সেটি হয়নি। হলে গল্পটা অন্যরকম হলেও হতে পারত।

কেন বাংলাদেশের সংগ্রহটা তিন শর কাছাকাছি গেল না, সেই আলোচনায় ঘুরে-ফিরে আসছে দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের নাম—তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিম। ইনিংসের মাঝপথে তাঁরা যেন নিজেদের খোলসে আবদ্ধ করে ফেললেন। এ ম্যাচে পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। মুশফিক-তামিমরা যেখানে সেট হয়েও নিজেদের গুছিয়ে নিতে বেশি সময় নিয়েছেন, তখন চাপের মুখেও ল্যাথামের ১০৮ বলে খেলা ১১০ রানের ইনিংসেই ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা। বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ দিকে মোহাম্মদ মিঠুন যেভাবে খেলেছিলেন, সেটি দেখে আক্ষেপ হওয়াটাই স্বাভাবিক—মুশফিক, তামিম যদি একটু হাত খুলতেন!

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ জন লুইস আজ সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন তাঁর কথায়। তিনি মনে করেন, প্রথম ১০ ওভারে স্কোরবোর্ডে কম রান উঠলেও বাংলাদেশ দল বড় সংগ্রহে সক্ষম, যদি অভিজ্ঞরা মাঝের ওভারগুলোতে একটু দ্রুত রান করেন, ‘আমি মনে করি প্রথম ১০ ওভারে খুব বেশি রান স্কোরবোর্ডে না উঠলেও সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, যদি আমাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানরা ইনিংস মেরামতে খুব বেশি মনোযোগী না হয়ে ওঠে।’

ডানেডিনের প্রথম ম্যাচে ভরাডুবির মূল কারণ ছিল প্রথম ১০ ওভারে একটু বেশিই উইকেট হারিয়ে ফেলা। ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তেমন কিছু ঘটেনি তামিম আর সৌম্যর জুটিতে। তবে প্রথম পাওয়ার প্লেতে মাত্র ২৬ রান ওঠাটাও ছিল অনেকের চোখে বেশ দৃষ্টিকটু। তবে ব্যাটিং কোচ লুইস সেটিকে খুব বড় ব্যাপার মনে করেন না। তাঁর মতে, শেষ দিকে মিঠুন দারুণ স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পেরেছে, ওই জুটির কারণেই, ‘যদি প্রথম ১০ ওভারে উইকেট না পড়ে, এমনকি একটি উইকেটও যদি পড়ে, তাতেও স্কোরবোর্ডে ৩০-৪০ রান উঠলে ঠিক আছে। ডানেডিনে প্রথম ১০ ওভারে দু-তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়ার কারণেই নিয়ন্ত্রণটা পুরোপুরি নিউজিল্যান্ডের কাছে চলে যায়। তবে সৌম্য-তামিমের জুটিটা মিঠুনকে স্বাধীনতা দিয়েছে। সে হাতখুলে খেলতে পেরেছে বলেই বাংলাদেশ লড়াই করার মতো স্কোর পেয়েছিল।’

তামিম অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞ। সে তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ক্রাইস্টচার্চে ইনিংসের ভিত গড়েছে। সেটি ইনিংসের দ্বিতীয় অংশে আমাদের সহায়ক হয়েছে।
জন লুইস

লুইস বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতার জায়গা নিয়েও বলেছেন, প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ক্রাইস্টচার্চে দারুণ ব্যাটিং করা মিঠুনকেও, ‘বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কিছু ব্যাপার নিয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হয়, সেগুলোর মধ্যে আছে নতুন বলে উঁচু মানের পেস বোলিং সামলানো আর উইকেটের বাড়তি বাউন্স। তামিম অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞ। সে তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ক্রাইস্টচার্চে ইনিংসের ভিত গড়েছে। সেটি ইনিংসের দ্বিতীয় অংশে আমাদের সহায়ক হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চ মিঠুন দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। সে চেষ্টা করেছে বলের লাইনে গিয়ে ব্যাটিং করতে।

অফসাইডের দিকে খুব বেশি মন না দিয়ে লেগসাইডকে সে রান করার পথ বানিয়েছে। বল যখন ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি বাউন্স করবে, তখন এভাবে খেলাটাই উত্তম। মিঠুন সে খেলাটাই খেলেছে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন