default-image

রঙ্গানা হেরাথ আজ পা দিলেন ৩৯-এ। কাল তামিম ইকবাল পা দেবেন ২৮-এ। পি সারা ওভালে আজ বাংলাদেশের কাছে ৪ উইকেটে হেরে শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের জন্মদিনের আনন্দটা বোধ হয় ফিকেই হয়ে গেল! আর তামিমের? আজ ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার পরই নিশ্চিত কলম্বোর তাজ সমুদ্র হোটেলে উৎসবের ঢেউ উঠবে!

একটু ভুল হলো। উৎসব তো শুরু হয়ে গেছে বিকেলেই। আর সেটির পটভূমি রচনা করেছে তামিমের ওই ইনিংস। গত বছর দুর্দান্ত কাটানো তামিম ২০১৭ শুরু করেছিলেন ফিফটি দিয়ে (ওয়েলিংটনে)। বাঁহাতি ওপেনার ফিফটি পেয়েছেন গল টেস্টেও। কিন্তু আজ যেভাবে এগোচ্ছিলেন, তামিমের তিন অঙ্ক স্পর্শ করাটা অনিবার্য মনে হচ্ছিল।
শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৯১ রান তাড়া করতে নামে ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। বিষম চাপেই ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা হয়ে লড়াই চালিয়েছেন তামিম। প্রথম বাউন্ডারিটা পেতে খেলেছেন ৩৭ বল। পেয়েছেন ২২তম টেস্ট ফিফটি। তামিম-সাব্বির রহমানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করা ১০৯ রান বাংলাদেশকে দিয়েছে ঐতিহাসিক জয়ের ভিত। আনন্দক্ষণে আফসোস এতটুকুই, দিলরুয়ান পেরেরাকে তুলে মারতে গিয়ে লং-অনে দিনেশ চান্ডিমালের অসাধারণ ক্যাচ না হলে ম্যাচের নায়ক হয়েই ফিরতে পারতেন তামিম। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে ‘রাগিয়ে’ ফেরার আগে করেছেন ৮২ রান। চতুর্থ ইনিংসে যেটি তাঁর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবুও তামিম যা করেছেন, তাতেই হেরাথদের মুখে নিকষ আঁধার ভর করার কথা।
জন্মদিনের কথা হচ্ছিল। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, টেস্ট ও ওয়ানডেতে জন্মদিন কিংবা এর আশপাশের সময়গুলোয় দারুণ ঝলকে ওঠে তামিমের ব্যাট। তার মানে ২০ মার্চ কিংবা এর আগের-পরের দিনগুলো বাঁহাতি ওপেনারের জন্য যথেষ্ট পয়া! টেস্টটাই আগে বলি, ২০১০ সালের ১৩ মার্চ, ইংল্যান্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ৮৬। ওই বছরের ২০ মার্চ অর্থাৎ জন্মদিনে ইংলিশদের সঙ্গে প্রথম ইনিংসে লাঞ্চের আগেই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি। ফেরেন ৮৫ রানে (৭১ বলে)। দ্বিতীয় ইনিংসেও এল ফিফটি। ১৮ মার্চ ২০১৩, কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে করলেন ৫৯। এই মার্চেও চেনা রূপে তামিম—৪ ইনিংসে ৫১.৭৫ গড়ে রান ২০৭।
ওয়ানডের খেরোখাতাও বলছে দারুণ ইনিংস খেলে তামিম জন্মদিন উদ্‌যাপনে বেশ পারদর্শী! ১৭ মার্চ ২০০৭, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে পোর্ট অব স্পেনে ভারতের বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক জয়। ডাউন দ্য উইকেটে এসে জহির খানদের তামিমের উড়িয়ে মারার দৃশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় রূপকথার অংশ। তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে স্মরণযোগ্য ৫১ রান। ২০ মার্চ ২০০৮, মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬। একই দলের বিপক্ষে ২২ মার্চ ১২৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ২০ মার্চ ২০১২, এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৯। সব কটি ওয়ানডেই জিতেছে বাংলাদেশ। এবার জিতল টেস্ট।
কী ভাবছেন? বাংলাদেশের ম্যাচগুলো তামিমের জন্মদিন কিংবা এর আশপাশে হলেই হয়!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন