তামিম-মাহমুদউল্লাহরা রান পাবেন, তবে কবে?

বিজ্ঞাপন
default-image

দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে তাঁর। এমনকি মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে সাকিব ও মাশরাফির মনোমালিন্যের কথাও শোনা যাচ্ছে। অন্য সময় হলে এ তথ্য গুঞ্জনই মনে হতো। কিন্তু বাংলাদেশ দলের সময়টা এতটাই খারাপ যাচ্ছে, এ গুঞ্জনও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শ্রীলঙ্কা সফরে এ দুজনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র এই খেলোয়াড়ের সুযোগ এসেছিল সব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার। কিন্তু নিজের দায়িত্ব এখনো পালন করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।

তামিম ইকবালের দায়িত্বটা ছিল আরও বেশি। যে পাঁচজনকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট আবির্ভূত হচ্ছিল, তাঁদের অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব পেয়েছেন। এমন অবস্থায় তাঁর মূল কাজ অর্থাৎ ব্যাটিংটাই দলের সবচেয়ে দরকার ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সিরিজে তামিম ও মাহমুদউল্লাহ দুজনই হতাশ করেছেন। দলের বিপদের সময় তাঁরা দুজনই যে ব্যর্থ হয়েছেন সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন তামিম।

সিনিয়ররা দায়িত্ব নিয়ে খেললেই যে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন তামিম, ‘আমি এ কথায় সম্পূর্ণ একমত। সাধারণত দল যখন ভালো করে না তখন সিনিয়রদের দিকেই সবাই তাকায়। কারণ তারা অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে, তাদের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। যা কাজে লাগিয়ে তাদের এগিয়ে আসার কথা। আমার মনে হয়, শুধু খেলোয়াড় হিসেবে আমি ব্যর্থ হয়েছি।’

তামিম যখন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বাংলাদেশ দল তখন অনুশীলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একজন অবশ্য এর অনেক আগেই মাঠে নেমে গেছেন। দলের সবার চেয়ে বহু আগেই মাঠে নেমে গা গরম করে নিচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বিশ্বকাপে ফর্মে ছিলেন না। যে ম্যাচে রান করেছিলেন, সে ম্যাচেও তাঁর ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এমন অবস্থায় শ্রীলঙ্কায় ভালো একটি সিরিজ তাঁর অবস্থা পাল্টে দিতে পারত। কিন্তু বাজে ফর্ম ও ব্যাটিংয়ে নেমে বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকেই খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। এই শ্রীলঙ্কাতেই শততম টেস্টের দল থেকে বাদ পড়ার পর আর কখনো এতটা নড়বড়ে অবস্থায় ছিলেন না এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

সে তুলনায় তামিমের অবস্থা কিছুটা হলেও ভালো। বিশ্বকাপ তাঁরও ভালো কাটেনি। এ সিরিজে ব্যর্থ তিনিও। কিন্তু দলের ওপেনিং পজিশনে তামিমের যে এখনো কোনো ভালো বিকল্প নেই! তাই বলে সিরিজে ব্যর্থতার দায় আড়াল করার কোনো চেষ্টা করেননি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, ‘এটা সত্যি দল ভালো না করলে তাদের কাছ থেকেই পারফরম্যান্স আশা করা হয়, যারা অনেক দিন ধরে খেলছে। গত পাঁচ–ছয় বছরে যারা অনেক রান করেছে, সেটা আমি হই বা মাহমুদউল্লাহ হন। হ্যাঁ, এটা অবশ্যই হতাশার যে আমরা দলের বিপদের সময় ভালো খেলতে পারিনি।’

অভিজ্ঞতার বলেই এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি খুঁজে নিতে পারছেন তামিম। তাই আশাও দেখাচ্ছেন খুব দ্রুতই রানে ফিরবেন, ‘আমরা যেটা করতে পারি, সেটা হলো চেষ্টা। ভালো খেলার জন্য বারবার চেষ্টা করা। কিন্তু কিছু এমন সময় আসে যে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমি বিশ্বাস করি, এটা ক্ষণস্থায়ী। এটা চলতেই থাকবে এমন নয়। এই অবস্থা কাটবে এবং আমি রান পাব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন