বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে বদলের হাওয়া লেগেছে, সেটি নিয়েও কঠিন প্রশ্ন শুনতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। বড় বদল এসেছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে। চোটের কারণে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এমনিতেই খেলতে পারছেন না। আরেক অভিজ্ঞ তামিম ইকবালও লড়ছেন চোটের সঙ্গে।

নির্বাচকেরা মুশফিকুর রহিমকে টেস্ট সিরিজের কথা ভেবে বিশ্রাম দিয়েছেন। কিন্তু মুশফিক সেটিকে দেখছেন টি-টোয়েন্টি দল থেকে ‘বাদ’ হিসেবে। লিটন দাস ও সৌম্য সরকারও হয়েছেন বিশ্বকাপ–ব্যর্থতার বলি।

অভিজ্ঞ বলতে দলের মধ্যে আছেন শুধু মাহমুদউল্লাহই। অথচ বিশ্বকাপের আগেও ঘরের মাঠের সর্বশেষ দুই সিরিজে বাংলাদেশ দল ছিল অভিজ্ঞতায় ঠাসা। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া খেলেছে খর্ব শক্তির দল নিয়ে। এক বিশ্বকাপই টি-টোয়েন্টি দলের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। জাতীয় দলের ‘চেইন অব কমান্ডেও’ পরিবর্তন এসেছে।

খালেদ মাহমুদ হয়েছেন টিম ডিরেক্টর। কোচ রাসেল ডমিঙ্গোসহ বাকি কোচরা এখন কাজ করেন মাহমুদের অধীনে। এখন থেকে দল নির্বাচনেও মাহমুদের বড় ভূমিকা থাকবে। পাকিস্তান সিরিজের জন্য একঝাঁক নতুনকে নিয়ে ঘোষিত দলে মাহমুদের পছন্দের ছোঁয়া স্পষ্ট।

default-image

বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা আসতে যাচ্ছে টপ অর্ডারে। লিটন, সৌম্য ও সাকিব না থাকায় একদমই নতুন চেহারার টপ অর্ডার নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। যেখানে মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেনের খেলার সম্ভাবনা বেশি। তরুণ এই টপ অর্ডার পাকিস্তানি বোলিংয়ের বিপক্ষে টিকতে পারবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

মাহমুদউল্লাহর এ দল নিয়ে যে খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সুযোগ নেই, সেটি আর আলাদা করে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে ক্রিকেটাররা এ সিরিজকে আবহ বদলের সুযোগ হিসেবে দেখতে পারেন।

বদলের হাওয়া মিরপুরের উইকেটেও লেগেছে, এমন আভাস দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। কাল দুই দলই ঐচ্ছিক অনুশীলনে এসে মনোযোগ দিয়ে উইকেট পর্যবেক্ষণ করেছে। মাহমুদউল্লাহ স্পিনবান্ধব উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার কথা বলেছেন তাঁর সংবাদ সম্মেলনে।

পাকিস্তানের অবশ্য উইকেট নিয়ে মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। উইকেট যেমনই হোক, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান দলের কন্ডিশন জয় করার হাতিয়ার আছে। গতি, স্পিন-দৃশ্যত কোনো দুর্বলতা নেই পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকেও তাদের পরিকল্পনা থাকবে নিশ্ছিদ্র।

default-image

বিশ্বকাপে যেমন শুরুতে উইকেট জমিয়ে রেখে শেষের দিকে ঝোড়ো ব্যাট করেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ সিরিজেও সেই ধারা বজায় রাখতে চাইবে বাবরের দল। তবে বিশ্বকাপে ঝড় তোলা আসিফ আলী থাকছেন না এই ম্যাচে। তাঁকে বিশ্রাম দিয়েছে পাকিস্তান।

ম্যাচের বাড়তি আকর্ষণ দর্শক। পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে করোনাকালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে দর্শক ফিরতে যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও দর্শক প্রত্যাবর্তনের দিনটি স্মরণীয় করতে চান ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে, ‘ভালো লাগছে যে অনেক দিন পর দর্শক মাঠে আসবে। আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটা ভালো দিক। দর্শকেরা সব সময় আমাদের সমর্থন দিয়েছে, আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরাও চেষ্টা করব তাদের বিশ্বাসের অমর্যাদা না করতে।’

বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সর্বশেষ দর্শক দেখেছে ২০২০ সালের মার্চ মাসে জিম্বাবুয়ে সিরিজে। ৬১৮ দিন পর আবার সরাসরি ক্রিকেট দেখার সুযোগ পেয়ে প্রত্যাশিতভাবেই দর্শকদের মধ্যে টিকিট কেনার হিড়িক লেগেছে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের এত দিন বন্ধ থাকা প্রবেশদ্বার কাল পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রং লাগিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মাঠে ফেরা দর্শকদের একটি জয় উপহার দিয়ে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলও নতুন যাত্রার শুরুটা রাঙাতে পারবে কি!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন