>২০১৫ বিশ্বকাপে উইকেট শিকারে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন তাসকিন। কিন্তু এ বিশ্বকাপে তিনি দর্শক! নির্বাচকদের চোখে তাসকিন বিশ্বকাপ খেলার মতো ফিট নন

বিশ্বকাপ দলে যে থাকছেন না, সেটি কালই আঁচ করতে পেরেছিলেন তাসকিন আহমেদ। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে শুধু বললেন, ‘আমি নাই...।’ তাসকিন যে থাকবেন না, নির্বাচকদের কথায় কদিন ধরেই বোঝা যাচ্ছিল। তবুও একটা চেষ্টা চালিয়েছিলেন, তাড়াহুড়ো করে প্রিমিয়ার লিগের একটা ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন।

তাসকিন যখন রূপগঞ্জের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে বোলিং করছিলেন, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানের রুমের বসে সেটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেছিলেন মিনহাজুল। প্রধান নির্বাচকের কথায় মনে হচ্ছিল, তাসকিনের চেষ্টা আসলে বৃথা। মানুষ আশায় বাঁচে। তাসকিনও আশা নিয়ে ছিলেন। সেটিও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ২০১৯ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা হওয়ার পর।

কেন তাসকিনের সুযোগ হয়নি বিশ্বকাপ দলে, সেটি বলতে গিয়ে মিনহাজুলের কণ্ঠে কিছুটা তথ্যবিভ্রাট। বললেন, তাসকিন ২০১৭ সালে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু আসল তথ্যটা হবে—২০১৮। গত বছর মার্চে শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফিতে তাসকিন দেশের হয়ে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। তবে এটা ঠিক তিনি সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০১৭ সালের অক্টোবরে।

default-image

প্রিমিয়ার লিগের একটা ম্যাচ খেললেও স্কিলের দিক দিয়ে তাসকিন পুরোপুরি নিজেকে ফিরে পাননি, প্রধান নির্বাচক বলছেন, এটিই আসলে তাঁকে বাদ দেওয়ার মূল যুক্তি , ‘একটা দীর্ঘ বিরতি পড়ে গেছে (আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে)। ওকে যখন নিউজিল্যান্ড সফরে চিন্তা করলাম, আবার চোটে পড়ে গেছে। আমাদের কাছে যে রিপোর্টগুলো আছে ফিজিওর, ও এখনো পুরোপুরি ফিট না। স্কিলের দিক দিয়ে পুরোপুরি ফিট হিসেবে চাচ্ছিলাম ওকে। এখন ওকে নিতে চাচ্ছি না। ঘরোয়া ক্রিকেটে একটা ম্যাচ খেলেছে সে। তবুও তার ফিটনেস সন্তোষজনক নয়।’
তবে একটা সান্ত্বনা তাসকিনের জন্য রেখেছেন নির্বাচকেরা। মিনহাজুল বললেন, ‘আয়ারল্যান্ড সফরে যদি কেউ চোটে পড়ে ওকে বিকল্প হিসেবে ডাকা হবে।’ 

২০১৫ বিশ্বকাপে গিয়েছিলেন তরুণ মুখ হিসেবে। টুর্নামেন্টে উইকেটপ্রাপ্তিতে (৯টি) সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তিনিই। ২০১৫ বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো তাসকিন পরের বিশ্বকাপেই দর্শক। ক্রিকেট এমনই নিষ্ঠুর, কখনো দুহাত ভরে দেয়, কখনো কেড়ে নেয় নির্মমভাবে !

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল নিয়ে আরও খবর পড়ুন...

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0