default-image

বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেন শেষ বলে কিছু নেই! অন্যভাবে বললে, শেষ হয়েও এখানে অনেক কিছু হয় না শেষ! বিশ্বকাপ দলের জার্সি নিয়েই কত নাটক, যেটি চূড়ান্ত হলো দুই দফা বদলে। আয়ারল্যান্ড সফরের দলও চূড়ান্ত হয়নি এক দফায়। যাওয়ার দুদিন আগে যোগ হয়েছে আরও দুজন। ১৫ জনের ২০১৯ বিশ্বকাপ দল দেওয়া হচ্ছে, সেটিও কি চূড়ান্ত? তাসকিন আহমেদ না আবু জায়েদ কে থাকবেন স্কোয়াডে সে আলোচনাও শেষ হয়নি এখন পর্যন্ত।

বিশ্বকাপের বাকি নয় দলের কোনোটিতেই এমন আলোচনা নেই। হ্যাঁ, কোনো কোনো দলে ‘একে নিলে ভালো হতো’ ধরনের আলোচনা আছে। তবে একে বাদ দিয়ে ওকে নিতে হবে—এ আলোচনা নেই বললেই চলে। দল যেটা হয়ে গেছে তো গেছে। কেউ যদি চোটে পড়ে, সে ক্ষেত্রে বিকল্প আসতে পারে। তবে খেলোয়াড় বদলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘোষিত স্কোয়াডে পরিবর্তন আসতে পারে—এ আলোচনা নেই বললেই চলে। অথচ বিসিবি এখনো এ সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না, যে ১৫ জনের দল দেওয়া হয়েছে সেটিই চূড়ান্ত। না হলে তাসকিন-আবু জায়েদকে নিয়ে কেন দোটানা তৈরি হবে? বিসিবির সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ কদিন আগে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে দলটা নিয়ে নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্ট অনিশ্চয়তায় আছে। এটা ভালো কোনো দিক নয়। এখনো যদি বলা হয় ২২/২৩ মে পর্যন্ত খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুযোগ আছে, পরিবর্তন করতে পারি। দেখি কে কী করে, এভাবে বিশ্বকাপ দল হয় না।’

তাসকিন ফিট নন—বিশ্বকাপ দল দেওয়ার দুই-তিন সপ্তাহ আগ থেকেই এ যুক্তি দেখাতে শুরু করেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। ম্যাচ ফিটনেস আছে—এটি প্রমাণ করতে উন্মুখ তাসকিন তাড়াহুড়ো করে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে নামেন। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না নির্বাচকেরা, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচক। তাসকিনের ব্যাপারে আরেকটু ধৈর্য দেখানো যেত কি না, এ নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠেছে বারবার। সব প্রশ্ন পাশ কাটিয়ে দলের পঞ্চম পেসার হিসেবে নেওয়া হয় আবু জায়েদকে। সুইং করাতে পারেন এ থেকেই ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এ পেসারকে নেওয়া।

default-image

এখন আবু জায়েদের সুইং নিয়ে সন্দিহান টিম ম্যানেজমেন্ট। বিসিবি সভাপতি আজ নিজেই জানালেন, কোচ স্টিভ রোডসের পছন্দ হচ্ছেন তাসকিন। কোচ মনে করেন, তাসকিনকে নিলে বৈচিত্র্য বাড়বে। আয়ারল্যান্ড সফরে শেষ দিকে তাঁর অন্তর্ভুক্তি রোডসের চাহিদা মেনেই। যা বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বকাপ দলেও তাসকিনকে চান রোডস। তবে আবু জায়েদকে কোনো সুযোগ না দিয়েই বাদ দেওয়ার পক্ষে নন বিসিবি সভাপতি। নাজমুল হাসান আজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তাসকিনের প্রতি বিশেষ ভালো লাগা আছে টিম ম্যানেজমেন্টের, সেটি নয়। যেহেতু (আবু জায়েদ) রাহিকে নেওয়া হয়েছে, ওকে একটা সুযোগ না দিয়ে বাদ দেওয়া ঠিক হবে কিনা...। কাল সে অনুশীলন করেনি। তবে রাহির চোট নিয়ে আমাকে কিছু বলেনি।’

বারবার তাসকিন-আবু জায়েদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় বিসিবি সভাপতি একটা পর্যায়ে বললেন, ‘আপনারা ১৫ নম্বর খেলোয়াড় নিয়ে ভাবছেন। আমরা একাদশ নিয়ে বেশি ভাবছি।’ তাসকিন-আবু জায়েদকে রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়ের বেশি ভাবতে চান না নাজমুল। পঞ্চম পেসারকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণটা কেমন হতে পারে, সেটিরও ধারণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘মূল স্কোয়াডে তো এদের (তাসকিন কিংবা আবু জায়েদ) আসার কোনো সম্ভাবনা দেখি না। আপনারা রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়ে কথা বলছেন। মাশরাফিকে বসাব? মোস্তাফিজকেও বসাব না। সাইফউদ্দীন ভালো করছে, তার খেলার সম্ভাবনা বেশি। সাইফউদ্দীন যদি খেলতে না পারে তবে রুবেল খেলবে। আগে দেখি প্রথম ১১জন কী হচ্ছে। বড় জোর ১২/১৩ নম্বর খেলোয়াড়কে নিয়ে ভাবি। এর বেশি জানার দরকার নেই। এই ১৩জনের মধ্যে কেমন স্কোয়াড (একাদশ) হবে, এটা বোঝাই যায়। অতিরিক্ত থেকে কে খেলবে সেটি নিয়ে বলার সময় হয়নি। আয়ারল্যান্ড থেকে দল লিস্টারশায়ারে যাবে, সেখানে পাঁচ দিন অনুশীলন করবে। সময় তো আছে। এখনই এটা নিয়ে বলার সময় হয়নি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0