বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১০ মাস পর আবার যখন নিউজিল্যান্ড সফর এল, তখন শরীফুল ফিরছেন চোট থেকে। সংস্করণও ভিন্ন। এর আগে শরীফুল টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন মাত্র একটি। সেটিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত এপ্রিলে। কিন্তু আজ বাংলাদেশ সময় ভোররাত চারটায় শরীফুল যখন লাল বলটা হাতে নিলেন, তখন মনেই হয়নি তিনি মাত্র এক টেস্ট খেলা বোলার।

default-image

দারুণ ছন্দে থাকা তাসকিন আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে ছড়ি ঘোরালেন শরীফুল। অধিনায়ক মুমিনুল হকের টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্তটা যৌক্তিক প্রমাণ করেন দুজন। তাসকিন-শরীফুলের প্রথম স্পেল থেকে নিউজিল্যান্ড রান করেছে মাত্র ২, উইকেট ১টি।

অধিনায়ক টম ল্যাথামের উইকেটও পেয়েছেন শরীফুল। পেতে পারতেন শতক হাঁকানো ডেভন কনওয়ের উইকেটও। ০ রানে থাকতে শরীফুলের এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার্স কলে রক্ষা পান এই বাঁহাতি।

সকালের সেই আঁটসাঁট বোলিংয়ের আমেজটা দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পরও ছিল। আরেক পেসার ইবাদত হোসেনের বলে টম ব্লান্ডেল বোল্ড হলে সেটিই হয়ে যায় দিনের শেষ বল। নিউজিল্যান্ড প্রথম দিন শেষ করে ৫ উইকেটে ২৫৮ রানে।

ওপেনার উইল ইয়াং ৫২ রান ও কনওয়ের ১২২ রানের ইনিংসের পরও দিন শেষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগিই করতে হয় স্বাগতিক কিউইদের। দিনের খেলা শেষে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন যেমন বলছিলেন, ‘দিন শেষে ২৫০ রানে (২৫৮) ৫ উইকেট, বলা যায় খেলাটা সাম্যাবস্থায় আছে।’

default-image

সে কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ দলের পেসারদের দিতে হয়। পেস বোলিং কোচ হিসেবে গিবসন বেশ গর্ব নিয়েই বলছিলেন, ‘সব পেসারই ভালো করেছে। ইবাদতও ভালো করেছে। ওদের জন্য এই কন্ডিশন কিন্তু অচেনা। আমরা একটু সামনে বল করেছি। সুইং করিয়েছি। দেখা যাবে, এমন বোলিংয়ে হয়তো অন্য দিন আরও ২-৩টা উইকেট বেশি পড়েছে। কনওয়ে একটুর জন্য বেঁচে গেছে। তবে এটাই হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আজ অনেক গরমও ছিল। ওদের নিয়ে আমি গর্বিত।’

বিশেষ করে প্রথম সেশনে তাসকিন ও শরীফুলের বোলিংয়ের কথাটা আলাদা করেই বললেন গিবসন, ‘প্রথম ঘণ্টায় আমরা দারুণ বোলিং করেছি। অনেকবার বল ব্যাটের পাশ দিয়ে গেছে। আমরা সুইং করানো নিয়ে কাজ করেছি। আজ সবাই সুইং করানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশে ওরা ব্যাক অব দ্য লেংথে বল করে বেশি। কারণ, সেখানে তেমন সুইং থাকে না। আমরা আজ আরও বেশি উইকেট পেতে পারতাম। কিন্তু বুঝতে হবে, আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলছি।’

default-image

আজ সকালে বে ওভালের ঘাসের সবুজ ভাবটা বেলা গড়তেই ধূসর হতে শুরু করে। গরমের কারণেই নাকি উইকেটের ভেজা ভাবটা এখন আর নেই। তবু শেষ বেলায় নতুন বলে তিন পেসারই সুইং পেয়েছেন। সকালের তুলনায় উইকেট কিছুটা ব্যাটিং–সহায়ক হবে। তবে সুইং করাতে পারলে উইকেট নেওয়ারও সুযোগ থাকবে।

গিবসন যেমন বলছিলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের উইকেটে ঘাস দেখি না। এটা একটা বিষয়। আমরা ভেবেছিলাম শুরুতে মুভমেন্ট পাব এই উইকেটে। সেটা পেয়েছিও। আজ গরমও ছিল। যে কারণে উইকেটের ভেজা ভাবটা বেশিক্ষণ ছিল না। এখন অনেকটা ফ্ল্যাট উইকেট বলা যায়। তবে ছেলেরা যেভাবে বল করেছে, তাতে আমি গর্বিত। ওরা সারা দিন ভালো বল করেছে। মিরাজ একটা প্রান্ত থেকে রান কম দিয়ে বল করে গেছে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন