default-image

তাসমান সাগরে তরী ভাসানো আজ কতটা নিরাপদ? আবহাওয়া অফিসের ফোন নম্বর খুঁজতে হবে না। চোখ রাখার প্রয়োজন নেই অনলাইনে। জেনে রাখুন, তাসমান সাগরে আজ ১০ নম্বর বিপৎসংকেত। দুই পারের দুই ক্রিকেট শক্তি মুখোমুখি আজ বিশ্বকাপের বিশ্ব লড়াইয়ে। সেই উত্তেজনায় নিস্তরঙ্গ তাসমান সাগরে ঝড় না উঠে পারে!
দুই প্রতিবেশী সব সময় বন্ধু হয় না। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড তো নয়ই। রাগবি, ক্রিকেট কিংবা যেকোনো খেলা থেকে শুরু করে জাতীয়-আন্তর্জাতিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অলিখিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। বিশ্বকাপের ম্যাচে সেটি উত্তুঙ্গ হওয়ারই কথা। যদিও ম্যাচের আগে দুই দলের অধিনায়ক, ম্যানেজমেন্ট, ক্রিকেটারদের কথোপকথনে বন্ধুত্বের আবহ। পরস্পরকে নিয়ে শ্রদ্ধা, সমীহের শেষ নেই। স্লেজিংয়ের ভাবনায় জিবে কামড়। কিন্তু নিশ্চিত থাকতে পারেন, আজ দুই দল যখন নামবে মাঠে, বন্ধুতার বাতাবরণ উড়ে গিয়ে থাকবে বারুদের গন্ধ। ইডেন পার্কে ক্রিকেটই হবে, আদতে যেটি একটি যুদ্ধ!
ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের মতো রাজনৈতিক উত্তাপ হয়তো নেই। নেই অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ঐতিহাসিক আবেদন। তবু অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড প্রতিবার মুখোমুখি হওয়া মানেই যেন একেকটি যুদ্ধ। বরং ওই দুই বিখ্যাত দ্বৈরথের চেয়ে ট্রান্স-তাসমান লড়াইয়ে ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি, অনেক নিয়মিত। মাইকেল ক্লার্ক যেমন কাল বললেন, ‘আমার তো মনে পড়ে না জীবনে একবারও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো সহজ ম্যাচ খেলেছি!’
রোমাঞ্চের যাবতীয় উপাদানে ঠাসা লড়াইয়ের মাঝে টুকরো লড়াইগুলোও। ওয়ার্নার-ফিঞ্চের সঙ্গে সাউদি-বোল্টের লড়াই। কিংবা জনসন-স্টার্কের মুখোমুখি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম! কাঁধের চোট-শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আজ নামছেন আগের ম্যাচেই ৭ উইকেট পাওয়া নায়ক টিম সাউদি। ওই ম্যাচটিই পরে ১৮ বলের ফিফটিতে রাঙিয়েছেন ম্যাককালাম। আজও কিউই অধিনায়ক মাঠে নামতে চান একই মানসিকতায়, ‘যতটা সম্ভব ইতিবাচক থেকে আমাদের আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ধরনটাই ফুটিয়ে তুলতে চাই মাঠে। সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই, আমরা এভাবেই খেলি!’ ড্যারেন লেম্যান অবশ্য ম্যাককালামের জন্য দাওয়াই ভেবে রেখেছেন, ‘কোনো সংশয় নেই ব্রেন্ডন অনেক জোরে মারে, অনেক দূরে পাঠায় বল। কিন্তু ১৩৫ আর ১৪৫-১৫০ কিমি কিন্তু এক নয়!’ অস্ট্রেলিয়ান কোচের ইঙ্গিত ইংলিশ পেসারদের সঙ্গে নিজেদের পেসারদের গতিপার্থক্যে। গতির ঝড় তুলতেই আজ জনসন-স্টার্কের সঙ্গে থাকছেন প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউডের জায়গায়। জর্জ বেইলির জায়গায় ক্লার্ক তো ফিরছেনই।
এই ম্যাচের জয়-পরাজয়ে হয়তো দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় প্রভাব ফেলবে না। তবে সুদূরপ্রসারী একটা প্রভাব থাকতে পারে। গ্রুপ শীর্ষে থাকার লক্ষ্য ছাড়াও দুই স্বাগতিক যদি মুখোমুখি হয় সেমিফাইনালে, তাহলে খেলা যে হবে গ্রুপ পর্বে এগিয়ে থাকা দলের মাঠে। সেমিফাইনালে সেটি বড় সুবিধা। টানা তিন ম্যাচ জিতে এবার সত্যিই উড়ছে কিউই পাখি। আর উদ্বোধনী ম্যাচের পর দুই সপ্তাহ মাঠে নামা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। অকল্যান্ডে বৃষ্টির কারণে কাল অনুশীলনও করতে পারেনি ঠিকমতো। আজ কাঁটা সাজিয়ে বসে থাকবে ইডেন পার্কের গ্যালারিও। ৪০ হাজার দর্শকে টইটম্বুর গ্যালারি থেকে ক্লার্কদের জন্য নিশ্চয়ই ফুল ছোড়া হবে না!
মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া–নিউজিল্যান্ড
ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড ফল হয়নি
মোট ১২৫ ৮৫ ৩৪ ৬
নিউজিল্যান্ডে ৪৬ ৩০ ১৫ ১
অস্ট্রেলিয়া ৮ ৬ ২ ০

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন