১৯৯২, এমসিজি। পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ এনে দিলেন ইমরান খান। অবসরের ঘোষণাও দিলেন সে ম্যাচেই। পাকিস্তানের ক্রিকেট নায়কের নায়কোচিত বিদায়।
২০০৯, লর্ডস। পাকিস্তান জিতল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই শিরোপাটি এনে দিলেন ইমরানেরই ভক্ত ইউনিস খান। ‘হিরো’র মতো ইউনিসও টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বললেন সে ম্যাচেই। শেষ হয়ে যদিও শেষটা তবু হয়নি। ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামলেন আবার।
টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়ে প্রথম ম্যাচেই ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন। পাকিস্তানের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান তিনি। তবে সীমিত ওভারে টেস্টের ব্যাটিংটা যেন পুরোপুরি অনুবাদ করতে পারেননি। দলেও তাই আসা-যাওয়ার খেলা চলেছে। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের পর তাঁকে অনির্দিষ্ট মেয়াদে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তাতে ইউনিসের ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। তবে ইউনিস ফিরে এলেন রাজসিকভাবে। ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরি করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। খেললেন ওয়ানডেতেও। ২০১৩ পর্যন্ত প্রায় নিয়মিতই খেলেছেন ওয়ানডে। কিন্তু বাদ পড়লেন আবার, ফিরলেন প্রায় বছর দেড়েক পর শ্রীলঙ্কা সফরে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, একটি ওয়ানডে খেলেই দেশে যেতে হলো ভাইপোর মৃত্যুর খবর পেয়ে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজে বাদ দেওয়া হলো, ‘অভিমানী’ ইউনিস বললেন, তাঁকে যেন আর কোনো ফরম্যাটেই বিবেচনা করা না হয়। কিন্তু টেস্টে তাঁর ওপর আস্থা রাখলেন নির্বাচকেরা, একটি ডাবলসহ টানা তিনটি সেঞ্চুরি করলেন। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ওয়ানডেতে ফিরেও করলেন একটি সেঞ্চুরি। গত ১০ ম্যাচে বলার মতো পারফরম্যান্স ওই একটিই। রান করেছেন ১৮.৯ গড়ে ১৮৯। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে মোহাম্মদ শামির শর্ট বলের কোনো জবাব দিতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তিনে এসে পেলেন ‘গোল্ডেন ডাক’। রব উঠে গেল তাঁকে বাদ দেওয়ার। জাভেদ মিয়াঁদাদ, রমিজ রাজা, শোয়েব আখতারের মতো সাবেকেরা সরব। ইউনিসই এখন দলের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন!
বয়স ৩৭, এই বিশ্বকাপই হয়তো শেষ হয়ে থাকবে এর আগে তিন আসরে খেলা ইউনিসের। রঙিন পোশাকে কি তাঁর ব্যাট হাসবে আবার? বিদায়টা কি ‘হিরো’ ইমরানের মতো রাজসিক হবে! সূত্র: রয়টার্স, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন