default-image

লক্ষ্য ৪০৯ রান! পর্বতসমান লক্ষ্য দেখে ভড়কে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এমন লক্ষ্যে অধিকাংশ দলের ভাবনায় থাকে হারটা ‘সম্মানজনক’ করা। কিংবা লড়াই চালিয়ে হারা। সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এর কোনোটিই করতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রোটিয়ারা জিতল ২৫৭ রানে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে ভারতের সঙ্গে ভাগ বসাল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৭ বিশ্বকাপে বারমুডার বিপক্ষে ভারতও জিতেছিল ২৫৭ রানে।

এবি ডি ভিলিয়ার্সের বিস্ফোরক ইনিংসের পাল্টা জবাবে ক্রিস গেইলের কাছ থেকে একই ধরনের ইনিংস আশা করেছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু বিশ্বকাপের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান আজ জ্বলে ওঠার আগেই ‘জ্বলে’ গেল তাঁর এলইডি স্টাম্প! মাত্র ৩ রান করেই কাইল অ্যাবটের বলে পরিষ্কার বোল্ড। দলীয় ১২ রানের মাথায় গেইলের ফেরার পর সেই যে উইকেট পতনের মিছিল শুরু, তা চলতে থাকল ৬৩ রান অবধি। এর মধ্যে ‘নেই’ হয়ে গেল উইন্ডিজের ৭ উইকেট! ডি ভিলিয়ার্সের হাতে ‘চরম নিগৃহীত’ উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করলেন ব্যাট হাতে। দিনেশ রামদিনকে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে তুললেন ৪৫ রান। ২২ রানে রামদিন ফিরলেও জেরোম টেলরকে নিয়ে নবম উইকেটে গড়লেন ৪২ রানের আরেকটি জুটি। ডেল স্টেইনের শিকার হওয়ার আগে হোল্ডারের ব্যাট থেকে এল সর্বোচ্চ ৫৬ রান। হোল্ডার ফিরে যাওয়ার পরই মূলত ক্যারিবীয় ইনিংসের পর্দা নামা ত্বরান্বিত হলো। শেষ ১ রানে ২ উইকেটের পতনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৩.১ ওভারে অলআউট ১৫১ রান। ব্যাট হাতে ক্যারিবীয়দের মূল সর্বনাশটা ডি ভিলিয়ার্স করলেও বল হাতে ‘হন্তারক’ হিসেবে হাজির হন ইমরান তাহির। ঘূর্ণি বিষে নাকাল করে তাহিরের সংগ্রহে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট। এ ছাড়া অ্যাবট ও মরনে মরকেল নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ডি ভিলিয়ার্সের ৬৬ বলে ১৬২, এ ছাড়া হাশিম আমলার ৬৫, ফাফ ডু প্লেসির ৬২ ও রাইলি রুশোর ৬১ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৪০৮ রান।
ভারতের বিপক্ষে হারের পর প্রোটিয়াদের বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দোর্দণ্ড প্রতাপে জিতে প্রোটিয়ারা যেন বার্তা দিল, এবার ভিন্ন কিছুর প্রত্যয় নিয়েই তারা এসেছে!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন