default-image
>

২০১৮ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচের দায়িত্ব নেন নাভিদ নেওয়াজ। শ্রীলঙ্কান এই কোচের অধীনেই যুব বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কাল প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন বিশ্বকাপ জয়যাত্রা নিয়ে-

প্রশ্ন: আপনাকে অভিনন্দন। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দটা কেমন?
নাভিদ নেওয়াজ: এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো একটা ব্যাপার। শুধু আমার জন্য নয়, আমরা সবাই এই স্বপ্ন দেখেছি। দুই বছর ধরে এর জন্যই কাজ করে গেছি আমরা। সব কোচ, সব খেলোয়াড়, বিসিবির ম্যানেজমেন্ট সবাই-ই এটার অপেক্ষায় ছিল। কাজেই সবার জন্যই স্বপ্নপূরণের মতো ব্যাপার।

প্রশ্ন: ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেবে, এমন আশা করেছিলেন?
নাভিদ: অবশ্যই আশা করেছি। এশিয়া কাপ ফাইনাল বা ইংল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল, ভারতের বিপক্ষে আমাদের গত দু-তিনটি ম্যাচের দিকে তাকালে দেখবেন প্রতিটি ম্যাচই ছিল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আমরা জয়ের খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। বিশ্বকাপে আমরা ওই ভুলগুলো নিয়ে কথা বলেছি। আমরা জানতাম, সেসব ভুল আবারও করলে এবারও ভালো কিছু হবে না। ফাইনালের আগেই আমাদের ভুলগুলো শোধরাতে হবে।

প্রশ্ন: ফাইনালে কী পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল দল?
নাভিদ: দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছি, ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পরিকল্পনাটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। টিম কম্বিনেশন আলাদা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা একজন বাড়তি স্পিনার খেলালেও ফাইনালে একজন বাড়তি পেসার খেলিয়েছি। এটা খুবই কাজে লেগেছে, কারণ অভিষেক দাস খুব ভালো বল করে ৩ উইকেট নিয়েছে। আর একটা ব্যাপার, আমরা চেয়েছিলাম ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের খেলোয়াড়েরা আরেকটু আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলুক। সে পরিকল্পনাও খুব ভালো কাজে লেগেছে।

প্রশ্ন: দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে খেলা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য সহজ নয়। বাংলাদেশের জাতীয় দলও সেখানে গিয়ে অনেক সংগ্রাম করে। তো যুবদল কীভাবে কন্ডিশনের সঙ্গে এত সহজে মানিয়ে নিল?
নাভিদ: এটাই সবচেয়ে ভালো দিক ছিল আমাদের। কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতায় নয়, বিশ্বকাপটা দক্ষিণ আফ্রিকায় জেতায়ই আমি বেশি গর্বিত। এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। উপমহাদেশে বিশ্বকাপ জিতলে সেটা অস্বাভাবিক কিছু হতো না। কিন্তু আমি মনে করি, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের জন্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলাটা সবচেয়ে কঠিন। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে দুটি সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের এখানকার বাউন্সি উইকেটে খেলতে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায়ও এসেছি একটু আগে। আমার মনে পড়ে না এই সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়েরা কেউ এখানকার উইকেটে খেলতে সমস্যা হচ্ছে বলে কোনো মন্তব্য করেছে। তাদের মধ্যে কখনোই এ নিয়ে কোনো নেতিবাচক মনোভাব দেখিনি।

প্রশ্ন: দূর থেকে হলেও বাংলাদেশের আগের যুবদলগুলোকে আপনি দেখেছেন। সেই দলগুলোর সঙ্গে এই দলের কী পার্থক্য আছে, যেটা তাদের এগিয়ে রাখছে?
নাভিদ: হ্যাঁ, শ্রীলঙ্কা যুবদলের কোচ হিসেবে আগেও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাদের বিপক্ষে অনেক ম্যাচ খেলারও সুযোগ হয়েছে। এই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যেটা বিশেষভাবে দেখেছি, সেটা হলো শেখার সামর্থ্য। দলটা খুব আত্মবিশ্বাসী। সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করে অভ্যস্ত, নেতিবাচক কিছু ভাবে না। আরেকটা কথা বলতেই হয়, দলটার একজন অসাধারণ অধিনায়ক আছে। খুবই দৃঢ় মানসিকতার ছেলে আকবর। মাঠে যেভাবে দলটা পরিচালনা করে, এককথায় দুর্দান্ত। এটা বিশ্বকাপের অন্য দলগুলোর সঙ্গেও আমাদের পার্থক্য তৈরি করেছে।

প্রশ্ন: আকবরের ফাইনালের ইনিংসটি নিয়ে কী বলবেন?
নাভিদ: ওই পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো আর কেউ কিছু করতে পারত বলে মনে হয় না। নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং বিশ্বকাপেও বেশির ভাগ ম্যাচে তাকে ব্যাটই করতে হয়নি। দলের জন্য তার অবদান কখনো তেমন আলোচনায় আসেনি। কারণ, সে ছয়-সাতে ব্যাট করে। তার আগেই টপ অর্ডারের কেউ ভালো ব্যাট করে ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে। তবে আমরা জানতাম, দলের প্রয়োজনে কঠিন পরিস্থিতিতে ও ঠিকই জ্বলে উঠবে। আমি তো বলব, এই সাফল্যের পেছনে আসল নায়ক সে-ই।

প্রশ্ন: এই খেলোয়াড়েরা যুব বিশ্বকাপ তো জিতলেন। আপনার কি মনে হয় ক্যারিয়ারের পরে ধাপগুলোতেও তাঁরা এই মানসিক দৃঢ়তা, এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবেন?
নাভিদ: একজন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারের মধ্যে কী থাকতে হবে এবং একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের মধ্যে কী থাকতে হবে, সেটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা এখন ওদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের চাহিদা মাথায় রেখে প্রস্তুত করেছি। আমি নিশ্চিত আরও অনুশীলন, আরও ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তারা একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও প্রস্তুত হয়ে যাবে। তাদের সে পর্যন্ত যাওয়ার মানসিক এবং ক্রিকেটীয় সামর্থ্য আছে।

প্রশ্ন: গত দেড় বছর ধরে দলটার সঙ্গে আছেন, বিশ্বকাপ জিতলেন। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা কেমন?
নাভিদ: ২০১৯ সাল থেকে বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত ৪০টির মতো ম্যাচ খেলে আমরা সম্ভবত ৩৪টিতেই জিতেছি। সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। এ রকম খুবই বিরল এবং এটা অনেক বড় অর্জন ছিল। দলের অন্যান্য কোচ, বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ—আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি। সব মিলিয়ে অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমরা যা চেয়েছি তা-ই অর্জন করেছি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন