বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তামিমের জন্য এমন অনুষ্ঠান করা যে কত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি, ‘তামিম ইকবালের মধ্যে যে কয়েকবার মতবিরোধ হয়েছে। আমার মনে হয়, আমাদের মধ্যে মতের মিলের চেয়ে অমিলই বেশি হয়েছে। দেখা যেত ওর সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে দশটা আলোচনা করা হলে আটটাতেই ওর সঙ্গে আমার মতবিরোধ হতো। তামি ওখানে দাঁড়িয়ে আছে আমি ওর সামনেই বলছি। কারণ, পেছনে কথা বলে লাভ কী? আমার কাছে মনে হয় তামিমের কাছে এই অনুষ্ঠানটা করা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ, তামিম এখনো ওয়ানডে দলের অধিনায়ক।’


দলের বাইরে যে যা ইচ্ছা বলুক, দলের ভেতরের মানুষ যদি সেসব মতামতে সাড়া দেয়, সেটা গোটা দলের ওপরেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন মাশরাফি, ‘এই বিশ্বকাপের পরের ম্যাচেই তামিম অধিনায়ক হিসেবে নামবে। যেটা ওর জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা। আমরা (দলের বাইরের মানুষ) কিন্তু যা-তা বলতে পারি। আমি তামিমকে দেখেছি, ও সতীর্থদের (বিশ্লেষক হিসেবে) আগলে রাখছে, এটা ওকে করতেই হবে। আমিও কিন্তু এটাই করেছি, সতীর্থদের সমর্থন দিয়েছি। ইতিবাচক কথা বলেছি। কারণ, দিনশেষে আমি খেলোয়াড়দের সমর্থন দেবই। মূল কথা হচ্ছে, দলের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা যদি কথা বলেন তাহলে সেটা অনেক বড় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

default-image

কারোর নাম না নিলেও মাশরাফি বুঝিয়েছেন, দলের খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টসংশ্লিষ্ট মানুষদের বাড়তি কথা বলার অভ্যাসে লাগাম দেওয়া উচিত, ‘২০১৯ বিশ্বকাপের ব্যাপারটাও একই রকম ছিল। বাইরে থেকে অনেক কথা হয়েছে। আমার মনে হয় একটা টুর্নামেন্ট নিয়ে কিছু বলার থাকলে, সেটা টুর্নামেন্টের আগেই বলে দেওয়া উচিত। দল যখন চলে যায়, তখন যত খারাপ কিছুই হোক, ক্রিকেট দলের সংশ্লিষ্ট যাঁরা আছেন, আমি কারোর নাম বলতে চাই না, দলের সংশ্লিষ্ট যাঁরা আছেন, বোর্ডের সংশ্লিষ্ট যাঁরা আছেন, তাঁদের অবশ্যই টুর্নামেন্টের শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।’

default-image

দল খারাপ খেললে ক্রিকেট বোর্ড চাইলেই যেহেতু পদক্ষেপ নিতে পারে, সে ক্ষমতা যেহেতু আছে, একটি টুর্নামেন্টের মাঝে এত আলোচনার জন্ম দেওয়ার বিপক্ষে মাশরাফি, ‘ক্রিকেট বোর্ডের সুবিধাটা কি জানেন? দল যখন ফিরবে এরপর তারা চাইলে পদক্ষেপ নিতে পারবে। যে খেলোয়াড় ভালো খেলেনি তাদের তখন বাদ দেওয়া যায়। ক্রিকেট বোর্ডের হাতে তো সে সমাধানটা আছেই। তাদের তো কথা বলার দরকার নেই। আর খেলোয়াড়েরা যদি জবাব দিতে চায়, মাঠে ভালো খেলেই জবাব দিতে হয়। এর বাইরে কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই। বাইরে সাংবাদিক, দর্শক কে কী বলে না বলে সেটার দাম নেই কোনো। যেমন আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার পর কোচ বলেছেন, আমাদের বলয়ের বাইরে কে কী বলছে, সেটা তাঁর ভাবার বিষয় নয়। কিন্তু আমার বলার আমি বলেই যাব। কারণ, আমি দেখছি তুমি ফলাফল আনতে পারছ না। আমার মনে হয় টুর্নামেন্টের একদম প্রথম ম্যাচের আগেই দুই জায়গা থেকে দুই রকম-তিন রকম কথা আসাতে দল আসলে মানসিকভাবে অন্য জায়গায় চলে যায়। এটা মানতেই হবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন