বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এত দূরে থেকে এখন শুধু আশায় বুক বাঁধা ছাড়া আর কিছুই করার নেই ক্লুজনারের। এএফপিকে সাবেক প্রোটিয়া অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আমরা অন্তত এক মাস প্রস্তুতি ক্যাম্পের পরিকল্পনা করছিলাম আরব আমিরাতে। তবে সেটি হচ্ছে না, এখনো ভিসা পাওয়া যায়নি। যত দ্রুত সম্ভব সেখানে যেতে চাই আমরা।’

default-image

ক্লুজনার আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না হলেও এ সময়ে প্রায় ছয়বার কাবুল আসা-যাওয়া করেছেন তিনি। দেশটির পরিস্থিতি তাই সামনাসামনি দেখেছেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ক্লুজনার, ‘সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিন দু-এক আগে কাবুল থেকে ফিরেছি আমি। আমার ধারণা তালেবানের ক্ষমতা দখলের ব্যাপারটা আজ হোক কাল হোক হতোই। তবে বেশ আচমকাই ঘটে গেছে। দেশগুলো তো এভাবেই চলে। খেলাধুলার মানুষ হিসেবে এসব মেনে নিয়ে কাজ করা ছাড়া আমাদের আর কী-ইবা করার আছে!’

তালেবানের ক্ষমতা দখলের প্রভাব ক্রিকেটে সরাসরিই পড়েছে। ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের পর প্রধান নির্বাহীর পদে এসেছে পরিবর্তন। পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে সেটি। মেয়েদের ক্রিকেট নতুন করে পড়ে গেছে শঙ্কার মুখে। মেয়েদের ক্রিকেটকে সহ্য করা হবে না— এমন ঘোষণার কারণে আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ বাতিল করার দ্বারপ্রান্তে অস্ট্রেলিয়া।

নতুন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এখনো কথা হয়নি ক্লুজনারের। তবে তালেবান ক্রিকেটের পাশে আছে বলেই ধারণা তাঁর, ‘তালেবান ক্রিকেটের প্রচার করছে, সহায়তা করছে। সবদিক দিয়েই তারা আমাদের নিয়ে খুশি, ব্যাপক সহায়তাও করছে। তবে, দেশটা, দেশের মানুষগুলোর জন্য এ পরিবর্তনটা বিশাল। সবকিছু ঠিকঠাক হতে তো সময় লাগবেই।’

default-image

আপাতত নিজের কাজ নিয়েই ভাবছেন ক্লুজনার, ‘প্রায় আড়াই সপ্তাহ আমাদের দারুণ একটা ক্যাম্প হয়েছে। বছরের সে সময়টায় পিচ অনেক ভালো থাকে। তবে আবহাওয়া খুব বেশি চরমভাবাপন্ন। একবার শীতের মাঝামাঝি সময় ছিলাম আমি সেখানে। পিচগুলো তখন বরফে ঢেকে ছিল।’

সব মিলিয়ে আফগান ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জগুলোও জানেন তিনি, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সব সময়ই দেশের বাইরে খেলতে হয়। এরপর করোনাভাইরাসের কথা চিন্তা করুন, সেটা বাড়তি ঝামেলা। সর্বশেষ মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছি আমরা।’

default-image

ক্লুজনারের জন্য অবশ্য আশার আলো দেখাচ্ছেন রশিদরাই। সঙ্গে মুজিব–উর–রেহমান ও মোহাম্মদ নবী এই মুহূর্তে আইপিএল খেলতে আরব আমিরাতেই আছেন। নিজেদের স্পিন আক্রমণকে ‘বিশ্বসেরা’ মনে করেন ক্লুজনার। বলছেন, ‘একটুখানি বাঁকের দেখা মিললেই আমরা দলগুলোকে অনেক ঝামেলায় ফেলতে পারব। তবে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিং। আমাদের নজরও সেদিকেই। আগে ব্যাটিং করলে যাতে লড়াই করার মতো কিছু করতে পারি, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে আমাদের।

ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা থাকলেও অবশ্য বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর অধিনায়কত্বের বদল নিয়ে ভাবছেন না ক্লুজনার, ‘নবীর বোধ-বুদ্ধি দারুণ। সে বেশ স্থির প্রকৃতির। দলের সব সিনিয়র ক্রিকেটারই একত্রে কাজ করে। নবী দায়িত্ব নিতেও পছন্দ করে। আমার ধারণা সে নিজের সেরাটা দিতে পারবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন