বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দিনের সেরা তারকা পেসার ইবাদত হোসেন। কী অসাধারণ বোলিংটাই না করলেন তিনি! নিউজিল্যান্ডের পতন হওয়া ৫ উইকেটের ৪টিই তাঁর। উইল ইয়ং, ডেভন কনওয়ে, হেনরি নিকোলস আর টম বান্ডেলকে ফিরিয়ে দিয়ে ইবাদতই বাংলাদেশকে দারুণ এক জায়গায় এনে দিয়েছেন। অধিনায়ক টম ল্যাথামকে আউট করেছেন তাসকিন আহমেদ। মাত্র ৬ রান এগিয়ে থেকে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর রস টেলর আর রাচিন রবীন্দ্র দিনটা পার করেছেন অতি সাবধানে। ইবাদত ১৭ ওভার বোলিং করে ৪ মেডেনে ৩৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। পঞ্চম দিন সকালে এ ধরনেরই কিছু করতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের।

default-image

চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী আর মেহেদী হাসান মিরাজ খুব বেশিক্ষণ একসঙ্গে থাকতে পারেননি। ইয়াসির কাইল জেমিসনের বলে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন বান্ডেলকে। ২৬ রান করেছেন ৮৫ বল খেলে। তবে মেহেদী মিরাজ বাংলাদেশের লিড ১০০ পার করে দেন। দলের সংগ্রহও নিয়ে যান ৪৫৮–তে। মিরাজ সকালে দুবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। ভালো কিছু ড্রাইভে অর্ধশতকের সুবাস পাচ্ছিলেন। কিন্তু ৪৭ রানে ব্যাট করতে ৮৮ বলের এই ইনিংসে তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। টিম সাউদির অফ স্টাম্পের বাইরের বল অযথাই খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মিরাজ। টেস্টে ৪৩৩ বল পর সাউদির উইকেটের দেখা পাওয়ার মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় মিরাজ-ইয়াসিরের সপ্তম উইকেটে ১৬০ বলে ৭৫ রানের জুটি। তখন বাংলাদেশের ইনিংসে ১৭১.৩ ওভার। তার আগেই লিড এক শ পার করে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ আর শরীফুল ইসলামও তাঁদের সাধ্যমতো মিরাজকে সঙ্গ দেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ১৩০ রানে। ৬ উইকেটে ৪০১ রানে তৃতীয় দিন খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ। আজ যোগ হয়েছে ৫৭ রান। নিউজিল্যান্ড নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানে অলআউট হয়।

default-image

নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রানে হারায় টম ল্যাথামকে। তাসকিনের বলে বোল্ড হন তিনি। দলীয় ৬৩ রানে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা ডেভন কনওয়ে আউট হন। ইবাদত হোসেনের ডেলিভারিটি রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করেছিলেন ডেভন কনওয়ে। পরাস্ত হতেই আউটের আবেদন। এলবিডব্লুর আবেদন ভেবে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউটা বেশ দ্রুতই নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গেল বল ব্যাটের কানা ছুঁয়েছে। আরেকটি রিভিউ নষ্টের হতাশা পেয়ে বসার আগেই ভিডিওতে দেখা গেল, বল কনওয়ের পায়ে লেগে বাতাসে ভাসতে ভাসতে গালিতে যেতেই ডাইভ দিয়ে লুফে নিলেন সাদমান ইসলাম। দ্বিতীয় সেশনে ২ উইকেট নিয়ে চা–বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তবে দুটি রিভিউ নষ্টের হতাশাও পুড়িয়েছে দলকে।

বে ওভালের উইকেটে আজ চতুর্থ দিনে বাঁক পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৪তম ওভারে তাঁর চতুর্থ বলটি কীভাবে বাঁক নিয়ে উইল ইয়াংয়ের ব্যাট, স্টাম্প এবং লিটন দাসের গ্লাভস ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেল তা গবেষণার বিষয় হতে পারে।

default-image

বল ইয়াংয়ের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গেলেও লিটনের পক্ষে ধরা খুব কঠিন ছিল। ইয়াং সে যাত্রায় বেঁচে যান। উইকেটে বাউন্স অসমান হওয়ায় তাসকিন ও ইবাদত হোসেনকে খেলতেও সমস্যা হচ্ছে কিউই ব্যাটসম্যানদের। ১৪ রানে তাসকিনের উঠে আসা বল খেলতে গিয়েই স্টাম্পে টেনে নেন লাথাম।

কনওয়ের উইকেটটি ইবাদতের পরিশ্রমের ফসল। ৯ ওভার বল করেন দ্বিতীয় সেশনে। স্টাম্পে বল রাখার পুরস্কার হিসেবেই উইকেটটি সাদমানের বুদ্ধিমত্তায় পেয়ে যান ইবাদত।

default-image

দুটি রিভিউ নষ্ট করার বিষয়টি কাল পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হতে পারে। ইবাদতের বলে একবার ইয়াং লেগে খেলার চেষ্টা করলে বল তাঁর কোমরে লেগে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে। আউটের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নেন মুমিনুল। তাতে লিটন ও ইবাদতের অতি আগ্রহী হয়ে ওঠা ভালোই ভূমিকা রেখেছে। ২৯তম ওভারে ঠিক একইভাবে রস টেলরের বিপক্ষেও রিভিউ নিয়ে লাভ হয়নি বাংলাদেশের; উল্টো আরেকটি রিভিউ নষ্ট হয়।

৬৩ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর উইল ইয়ং আর রস টেলর ৭৫ রানের একটা জুটি গড়ে নিজেদের ঘাটতি পূরণ করেন। যদিও লিডটাকে খুব এগিয়ে নিতে পারেননি। ঠিক এমন সময়ই দিনের শেষ ভাগে ইবাদতের আঘাতে টালমাটাল হয়ে যায় কিউইরা। ইবাদত গতি দিয়ে ঝামেলায় ফেলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের। মাত্র ৩ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড এখন বড় বিপদেই। টেলর আর রাচিন রবীন্দ্রের কাঁধে এখন সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার মিশন। বাংলাদেশের লক্ষ্য পঞ্চম দিনে যতটা সম্ভব দ্রুত নিউজিল্যান্ডের বাকি ৫ উইকেট ফেলে দেওয়া।

ততক্ষণ দারুণ কিছুর অপেক্ষাতেই থাকুন ক্রিকেটপ্রেমীরা!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন