দুই দিনের মাথায় আবারও বার্সেলোনার কাছে হার রিয়ালের

ছেলেদের পর বার্সেলোনার মেয়েরাও হারিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকেছবি : রয়টার্স

নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে হারের ক্ষতটা এখনো টাটকা। সেই ক্ষতে যেন আবারও লবণ-মরিচ ডলে দিল বার্সেলোনা!


দুই দিনের মাথায় আবারও আরেক এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদের মাটিতেই হারিয়ে এসেছে বার্সেলোনা। গত জয়ের কুশীলব ছিলেন ছেলেরা, এবার ছেলেদের পথ ধরে বার্সেলোনার মেয়েরা রিয়ালকে হারিয়েছেন। মেয়েদের চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এস্তাদিও আলফ্রেদো দি স্তেফানোতে ৩-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। ফলে রিয়ালকে টপকে সেমিতে ওঠার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল তাদের। দ্বিতীয় লেগে অবিশ্বাস্য কিছু না ঘটলে বার্সাই সেমিফাইনালে উঠছে, এটি বলে দেওয়াই যায়।

ছেলেদের ক্লাসিকোর আগে বার্সেলোনা একচ্ছত্র ফেবারিট না থাকলেও মেয়েদের ব্যাপারে সেটা বলা যায়নি। সর্বশেষ পাঁচ ক্লাসিকোতেই রিয়ালকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। দুই দলের মধ্যে আয়োজিত শেষ ক্লাসিকোতে বার্সেলোনা ৫-০ গোলে জিতে ঘরে তুলেছিল লিগ শিরোপা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের শেষ চার ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত চার গোল করে করেছে বার্সেলোনা। ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদেরও যে ফর্ম খারাপ ছিল, তা বলা যাবে না। নিজেদের শেষ ৯ ম্যাচের ৮টিতেই জয় পেয়েছে তারা। যে এক ম্যাচে হেরেছে, সেটাও বার্সেলোনার বিপক্ষে। ওদিকে নিজেদের শেষ ৩৪ ম্যাচের প্রতিটিতে জেতা বার্সেলোনা এ সময়ে গোল করেছে ১৭৪, হজম করেছে ৮টি। ফলে ম্যাচ নিজেদের মাঠে হলেও, রিয়াল মাদ্রিদই ছিল ‘আন্ডারডগ’। ম্যাচ শেষে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে আবারও।

তবে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়ালই। লেফট উইঙ্গার ওলগা কারমোনার গোলে আট মিনিটেই এগিয়ে যায় রিয়াল। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটা দ্বিতীয় গোল ছিল তাঁর। শুরু থেকে বার্সাকে বেশ ভালোই চেপে রেখেছিল তারা, বলের দখল দিচ্ছিল না কাতালানদের পায়ে।

৩৮ মিনিটে প্রায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলেছিল রিয়াল। স্ট্রাইকার এসথার গঞ্জালেজের এক শট বার্সেলোনার পোস্ট কাঁপিয়ে দেয়। অগ্রগামিতা ধরে রেখেই প্রথমার্ধ শেষ করে রিয়াল।

দুই গোল করেছেন পুতেয়াস
ছবি : রয়টার্স

দ্বিতীয়ার্ধে আড়মোড়া দিয়ে ঘুম ভাঙে বার্সেলোনার। ৪৮ মিনিটে রাইট উইঙ্গার ক্যারোলিন হানসেনকে ডি-বক্সে অন্যায়ভাবে ফেলে দেয় রিয়াল, এ কারণে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। ভিডিও রেফারির সহায়তায় নিশ্চিত হয়, আসলেই পেনাল্টি পাচ্ছে বার্সা। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস।


এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বার্সেলোনাকে। বিরতির সময় লেফটব্যাক লিয়া ওয়াহাবির জায়গায় মাঠে নামান হয়েছিল ডিফেন্ডার ক্লদিয়া পিনিয়াকে। সেই পিনিয়াই বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ৮১ মিনিটে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন পুতেয়াস, নিশ্চিত করেন বার্সার বিজয়।


আরও নিশ্চিত হয়, ক্লাসিকো-হারের যন্ত্রণা রিয়ালের বাড়ছে বৈ কমছে না!