দুই নতুনের লড়াইয়ে জয় গুজরাটের

গুজরাটের জয়ের দুই নায়কছবি: আইপিএল

লোকেশ রাহুল আর কুইন্টন ডি ককের উদ্বোধনী জুটি নিয়ে আগ্রহ ছিল দারুণ। অনেকেই লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্টসের এই উদ্বোধনী জুটিকে এবারের আইপিএলের সেরা জুটিই বলছেন। কিন্তু আজ গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে এ জুটি ব্যর্থ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, রাহুল–ডি ককের এ জুটি ভেঙেছেন আইপিএলের সেরা নতুন বলের বোলার মোহাম্মদ শামি। শুরুতেই সাফল্য পাওয়া লক্ষ্ণৌ অবশ্য শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিততে পারেনি। আইপিএলের নতুন দুই দলের লড়াইয়ে লক্ষ্ণৌ ৫ উইকেটে হেরেছে গুজরাটের কাছে।

গুজরাটের সামনে লক্ষ্যটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। ১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামলে ঘটতে পারে যেকোনো কিছুই। কিন্তু মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ব্যাটিং উপযোগী উইকেটে সে ধরনের কোনো কিছু ঘটেনি। তবে বিপর্যয়ের ইঙ্গিত ঠিকই ছিল। ১৫ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসেছিল গুজরাট। ৪ রানে শুভমন গিল, ১৫ রানে বিজয় শঙ্কর। দুটি উইকেটই শ্রীলঙ্কান পেসার দুশমন্ত চামিরার। এরপর ম্যাথু ওয়েড আর অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার ৪৮ বলে ৫৭ রানের এক জুটি। ওয়েডের ইনিংসটা অবশ্য খুব দ্রুতগতির ছিল না। তিনি পান্ডিয়াকে কেবল সঙ্গ দিয়ে গেছেন। পান্ডিয়া ২৮ বলে ৩৩ করেন। তবে গুজরাটের মূল কাজটা করে দিয়েছেন ডেভিড মিলার আর রাহুল তেওয়াটিয়া। তেওয়াটিয়া ২৪ বলে ৪০ করেছেন, পাঁচটি চার ও দুটি বাউন্ডারিতে। মিলার ২১ বলে দুটি ছক্কা আর এক চারে করেছেন ৩০। পঞ্চম উইকেট জুটিতে এ দুজন ৩৪ বলে ৬০ করেই গুজরাটকে আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই জয় পেতে অনেকটা পথ এগিয়ে দিয়েছেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তেওয়াটিয়া আর অভিনব মনোহরের ১৩ বলে ২৩ রানের জুটি কেবল কাজটা সমাধা করে দিয়েছেন। মনোহর ৭ বলে করেছেন ১৫।

লক্ষ্নৌ লড়াই করেও পারল না
ছবি: আইপিএল

লক্ষ্ণৌর সেরা বোলার চামিরাই। তিনি ২২ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। যদিও তাঁর করে দেওয়া শুরুটা ধরে রাখতে পারেননি তাদের বাকি বোলাররা। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আভেশ খান, ক্রুনাল পান্ডিয়া ও দীপক হুদা।

শুরুতেই শামির বলে ফিরলেন লোকেশ রাহুল। টসে জিতে লক্ষ্ণৌকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তটিকে মোহাম্মদ শামি যেন দারুণভাবেই স্বাগত জানালেন। স্কোরবোর্ড কোনো রান ওঠেনি, লোকেশ রাহুল নেই। লক্ষ্ণৌর জন্য ধাক্কাটা বেশ বড়ই ছিল। তাই ১৩ রান না তুলতেই নেই কুইন্টন ডি কক। ‘সেরা’ উদ্বোধনী জুটির দুজনই শিকার শামির। বরুণ অ্যারন এরপর তুলে নিলেন এভিন লুইসকে। শামির আঘাত মনীশ পান্ডেকে তুলে নিয়ে। ২৯ রানে ৪ উইকেট নেই! লক্ষ্ণৌ আর লড়বে কী!

আইপিএলে দুই নতুন দলের লড়াইয়ে জয় গুজরাটের
ছবি: আইপিএল

নাহ, লড়াইয়ের রসদ লক্ষ্ণৌর ছিল। দীপক হুদা আর আইয়ুশ বাদোনি লড়লেন। বেশ ভালোভাবেই লড়লেন। পঞ্চম উইকেটে লক্ষ্ণৌ বোলারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই দুজন গড়লেন পঞ্চম উইকেটে দারুণ এক জুটি। ৬৮ বলে ৮৭ রান যোগ করলেন তাঁরা। দীপক ৪১ বলে ৫৫ করলেন ছয়টি বাউন্ডারি আর দুই ছক্কায়। বাদোনিও খেললেন ৪১ বল, করলেন ৫৪ রান। তিনি অবশ্য ছক্কা মেরেছেন ৩টি, বাউন্ডারি ৪টি। এ জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙেন রশিদ খান, তাঁর লেগ স্পিনে। এলবিডব্লু করেন দীপক হুদাকে। এরপর ক্রুনাল পান্ডিয়া উইকেটে এসে বাদোনির সঙ্গে ২৩ বলে ৪০ রানের আরও একটি জুটি গড়ে লক্ষ্ণৌর সংগ্রহকে নিয়ে যান ৬ উইকেটে ১৫৮–তে। ক্রুনাল ১৩ বলে তিন বাউন্ডারিতে করেন ২১। বাদোনিকে ফেরান বরুণ অ্যারোন। শামি ৪ ওভার বল করে ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। আবারও প্রমাণ করেছেন আইপিএলে নতুন বলের সেরা বোলার কেন তাঁকে বলা হয়।