বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাল কঠিন উইকেটেই খেলা হয়েছে। এমন উইকেটে খেলার অভ্যাস আমাদের ব্যাটসম্যানদের নেই। ওরা আসলে সেই একই মিরপুরের উইকেটে খেলতে খেলতে নিজেদের অভ্যাসই খারাপ করে ফেলেছে। কালকের উইকেটটি ছিল ১৩০-১৪০ রানের। আমরা দৃঢ়তা দেখাতে পারিনি। রাবাদা, নর্কিয়ে, প্রিটোরিয়াসরা ঠিক জায়গায় বল ফেলে বাজিমাত করেছে। যেখানে আমাদের পেসারদের বিপক্ষেই ওরা সংগ্রাম করেছে, ভেবে দেখুন উইকেট কেমন ছিল! পার্থক্যটাও বোঝা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল এমন উইকেটেও নিজেদের মানিয়ে নিয়ে খেলতে পারে, আমরা পারি না। আমরা ভড়কে যাই। এর মূল কারণ আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন ও উইকেটে খেলি না। আমরা মুখস্থ ক্রিকেটে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। যার বাজে ফল পাচ্ছি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বিদেশের মাটিতে। কাল একটু ভালো ব্যাটিং করলে সহজেই সংগ্রহটা ১৪০-এর কাছাকাছি চলে যেত।

default-image

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে একটা জিনিস দেখিয়ে দিয়েছে। ক্রিকেটে শর্টকাট বলে কিছু নেই। ক্রিকেটে উন্নতি করতে হবে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সে প্রক্রিয়াটাই মনে হচ্ছে বাংলাদেশে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথাই নেই। কোনো মতে করতে হবে বলে ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজন করছি। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক পারফরমার আছে। আমাদের নির্বাচকেরা তাদের দেখেন-ই না। দিনের পর দিন ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করাদের জাতীয় দলে ডাকা হয় না। নির্বাচকেরা অজুহাত দেন, এই বলে যে ঘরোয়া ক্রিকেট আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে নাকি অনেক ফারাক। এই পার্থক্যটা কমিয়ে নিয়ে আসার কোনো চেষ্টা কি কারও আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সকে যদি স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাদের যদি জাতীয় দলে ডাকা না হয়, তাহলে সেটি খেলে কী লাভ! ২০-৩০ জন ক্রিকেটার নিয়ে পড়ে থাকলে এমনই হবে। এটা কে কাকে বোঝাবে!

default-image

এবার দয়া করে ঘরোয়া ক্রিকেটে একটু মনোযোগ দিন। না হলে দেশের ক্রিকেট শেষ হয়ে যাবে। কেবল জাতীয় দল নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলো প্রায় সবাই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নত করেছে। ভারত হয়তো এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খারাপ করেছে। কিন্তু তাদের দলটা যে এখন এত ভালো। এত ভালো ভালো ক্রিকেটার উঠে আসে, সেটি সম্ভব হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্যই। টেস্টের জন্য তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রঞ্জি ট্রফি, দুলীপ ট্রফি তো আছেই। আইপিএলের বাইরে ভারতীয় ক্রিকেটাররা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও খেলে। ওয়ানডের জন্য আলাদা টুর্নামেন্ট আছে। ইদানীং শুনছি পাকিস্তানও ঘরোয়া ক্রিকেটে মন দিয়েছে। ওদের টিম আবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের আলোচনা এখানে করলাম না, তারা তো ঐতিহাসিকভাবেই ঘরোয়া ক্রিকেটকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। আমরা কেন করব না। ঘরোয়া ক্রিকেটকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমাদের এই সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন