বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

শামির ওপর এমন আক্রমণ মোটেও ভালোভাবে নেননি ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মের জন্য শামির নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তাদের একহাত নিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান, ‘আমার মতে একজন মানুষের পক্ষে ধর্মের জন্য কাউকে আক্রমণ করার চেয়ে জঘন্য আর কিছু সম্ভব নয়। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, মাঠে আমরাই ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করছি, যারা মেরুদণ্ডহীনের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কুৎসা রটাচ্ছে, ওরা নয়। ওদের তো সামনাসামনি এসে কিছু বলার মতো সাহসই নেই।’

কোহলির মতে ধর্ম নিয়ে কখনোই বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়, ‘ধর্ম খুবই পবিত্র ও ব্যক্তিগত একটা বিষয়; সেভাবেই থাকা উচিত।’

default-image

যারা ভারতীয় ক্রিকেটে শামির অবদান ভুলে গিয়ে এভাবে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করেছে, তাদের মতো হীন লোকের পেছনে সময় নষ্ট করতে মোটেও রাজি নন ভারতীয় অধিনায়ক, ‘মোহাম্মদ শামি ভারতকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছে। সে ও বুমরা কয়েক বছর ধরেই আমাদের দলের নিয়মিত বোলার। মানুষ যদি এগুলো মনে না রাখে, সত্যি বলতে, এ ধরনের মানুষের পেছনে আমি, শামি বা ভারতীয় দলের অন্য সবাই—আমরা আমাদের জীবনের আর একটা মুহূর্তও ব্যয় করতে চাই না।’

ভারতীয় ক্রিকেট দলে সবার সঙ্গে সবার সম্পর্ক এতই ভালো যে এ ধরনের নোংরা কথাবার্তা তাঁদের ওপর কোনো প্রভাবই ফেলে না, শামির আক্রমণকারীদের জানিয়ে রাখেন কোহলি, ‘আমরা সম্পূর্ণভাবে তার (শামির) পাশে আছি। আমাদের ২০০ ভাগ সমর্থন পাচ্ছে সে। যারা আক্রমণ করতে চায়, তারা চাইলে আরও বেশি মানুষ নিয়ে আমাদের আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু তাতেও আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুত্বের ওপর কোনো প্রভাবই পড়বে না। দলের অধিনায়ক হিসেবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমরা দলের ভেতর এমন একটি সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছি, যেখানে এসব কথা দলের পরিবেশের মধ্যে ঢুকতেই পারে না, এমনকি ০.০০০১ ভাগও না।’

default-image

বিরাট কোহলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে নিগ্রহ করাকে জঘন্যতম কাজ হিসেবে মনে করেন, ‘তারা নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে হয়রানি করে এবং তাদের নিয়ে হাসাহাসি করে। বর্তমানে এটি একটি বিনোদনের খোরাক হয়ে গিয়েছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমার কাছে এদের সবচেয়ে নিম্নশ্রেণির মানুষ বলে মনে হয়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একজন মানুষকে যে কী পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, সে সম্পর্কে ওই লোকদের কোনো ধারণাই নেই।’

মানুষের মধ্যে সহানুভূতির অভাব আজকাল নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কোহলি, ‘মানুষ ব্যক্তিগত হতাশা থেকে এবং নিজেদের মধ্যে সহানুভূতি বলে কিছু না থাকার কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের নামে এ ধরনের জঘন্য কাজ করে।’

default-image

কোহলি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, বাইরের আলোচনা নিয়ে মাথা ঘামাতে একদম ইচ্ছুক নন তাঁরা, ‘বাইরে লোকজন কী বলছে না বলছে, এগুলো নিয়ে আমাদের কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার জন্য আমাদের কতটা কষ্ট করতে হয়, এ সম্পর্কে কারও কোনো ধারণাই নেই। আমরা কী কাজ করি বা কীভাবে কাজ করি, সেটা ঘোষণা দিয়ে কাউকেই বলতে যাব না। আমরা শুধু আমাদের কাজটা করে শিক্ষণীয় যা আছে, তা নিয়ে এগিয়ে যাই। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে সমান গুরুত্ব বহন করে।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ রাত আটটায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবেন বিরাট কোহলিরা।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন