বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্টিভ স্মিথের ৪৭ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ আর সঞ্জু স্যামসনের ৩২ বলে ১ চার ও ৯ ছক্কায় ৭৪ রানের দুর্দান্ত দুই ইনিংসে কাল চেন্নাইকে ২১৭ রানের লক্ষ্য দেয় রাজস্থান। জবাবে শেন ওয়াটসন (২১ বলে ৩৩) দারুণ শুরু এনে দেন। এরপর ফাফ ডু প্লেসি একদিক সামলে রাখেন। কিন্তু চেন্নাইয়ের অন্য প্রান্তে কেউ ডু প্লেসিকে সঙ্গ দিতে পারছিলেন না। ওয়াটসনের পর মুরালি বিজয় (২১ বলে ২১) ফিরলেন, তারপর এলেন স্যাম কারেন (৬ বলে ১৭)। এরপর ধোনিই নামবেন ভাবা হচ্ছিল, কিন্তু নামলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়! তিনি প্রথম বলেই আউট! ৭৭ রানে ৪ উইকেট নেই চেন্নাইয়ের।

এবারে ধোনি? তা-ও না! নামলেন কেদার যাদব! ১৬ বলে ২২ রান করে যাদব যখন ফিরছেন, চেন্নাইয়ের রান ১১৪। অন্য প্রান্তে ডু প্লেসি তখন ১৮ বলে ১৭ রানে অপরাজিত। সাত নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে নামলেন ধোনি। ম্যাচ ততক্ষণে চেন্নাইয়ের নাগাল থেকে ছুটেই গেছে বলতে গেলে, ৩৮ বলে দরকার ১০৩ রান।

তবু ডু প্লেসি-ধোনি ছিলেন বলেই হয়তো আশা দেখেছিল চেন্নাই। ডু প্লেসি সেখান থেকে চার-ছক্কার ঝড় তুলতে শুরু করেন, কিন্তু ধোনির ব্যাটে-বলেই হচ্ছিলই না! ১৭তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে ডু প্লেসি যখন ফিফটিতে পৌঁছালেন (২৯ বলে ৫৫), ধোনির রান তখনো ৯ বলে ৬। চেন্নাইয়ের দরকার ১৮ বলে ৫৮। ধোনি মূলত সিঙ্গেল নিয়ে ডু প্লেসিকেই স্ট্রাইক দিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় যে তখন দুদিকেই ঝড় দরকার ছিল চেন্নাইয়ের।

১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ডু প্লেসি ৩৭ বলে ১ চার ও ৭ ছক্কায় ৭২ রান করে আউট হওয়ার সময় ধোনির রান ১২ বলে মাত্র ৯! ২০তম ওভারে যখন ম্যাচ যাচ্ছে, অবিশ্বাস্য নো বল ও সেটির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি ছয় বলে ছয় ছক্কা না হলে চেন্নাইয়ের জেতার আশা ততক্ষণে শেষ। ৬ বলে দরকার তখন ৩৮ রান। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিলেন ধোনি, পরের বলে জাদেজা। তার পরের তিন বলে টানা তিন ছক্কা ধোনির। এর একটি গিয়ে পড়েছে মাঠের বাইরের রাস্তায়। কিন্তু শুধু দেখার বিনোদন আর আইপিএলে এক ম্যাচে ৩৩ ছক্কার রেকর্ড ছোঁয়ার বাইরে ওই তিন ছক্কায় চেন্নাইয়ের তেমন কোনো উপকার হলো না। আরেকটা ব্যাপার হয়তো টুর্নামেন্টে পরের দিকে কাজে লাগতে পারে, ওই তিন ছক্কায় হারের ব্যবধান কমেছে (১৬ রানে ম্যাচটা জিতেছে রাজস্থান), যা নেট রানরেটে বেশি পিছিয়ে দেয়নি চেন্নাইকে।

default-image

ধোনি ম্যাচের পর নিজের এত পরে নামার ব্যাখ্যায় বলেছেন, টুর্নামেন্টের শুরুর দিক বলেই একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। কারেন-স্যাম্পসনদের আগে নামিয়ে দেখতে চাইছেন, তাঁরা কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন ম্যাচে। সিনিয়র খেলোয়াড়েরা কী করতে পারেন, সেটি জানা বলেই নতুনদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বলে জানালেন। আর নিজের ব্যাটিং নিয়ে বললেন, ‘আমি অনেক দিন ব্যাটিং করিনি, এখানে (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এসে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হলো। সেটিও পিছিয়ে দিয়েছে।’

কিন্তু ধোনির এসব ব্যাখ্যায় গলছেন না গম্ভীর। ধোনির সাতে নামা নিয়ে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর টি-টোয়েন্টি টাইম আউট অনুষ্ঠানে গম্ভীর বললেন, ‘সত্যি বলতে আমি অনেক অবাক হয়েছি। এমএস ধোনি ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছে? নিজের আগে গায়কোয়াড়কে পাঠিয়েছে, স্যাম কারেনকে পাঠিয়েছে। আমার কাছে এর কোনো ব্যাখ্যা হয় না।’ ধোনির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গম্ভীর, ‘আপনার বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। আপনি যখন ২০১-র (২১৭) মতো স্কোর তাড়া করছেন, সেখানে (ধোনির) ৭-এ নামা? ম্যাচ তো ততক্ষণে শেষই। ফাফই একা যুদ্ধ করে যাচ্ছিল।’

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দুবার শিরোপা জেতানো গম্ভীর শেষ ওভারে ধোনির টানা ছক্কা নিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, আপনি শেষ ওভারে ধোনির ছক্কাগুলোর কথা বলতে পারেন। কিন্তু সত্যি বলতে সেগুলোর কোনো গুরুত্বই ছিল না। সেগুলো শুধু ওর ব্যক্তিগত রানই হয়েছে। আপনি (আগে নেমে) তাড়াতাড়ি আউট হয়ে গেলে সেটাতে দোষের কিছু নেই, অন্তত সামনে থেকে নেতৃত্ব তো দেবেন, অন্যদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা তো করবেন!’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন